Brendan Taylor: স্পট ফিক্সিংয়ে অভিযুক্ত ব্রেন্ডন টেলরের স্বীকারোক্তি, যোগ ভারতীয় ব্যবসায়ীর
নিজের টুইটারে চার পাতার লম্বা বিবৃতিতে ব্রেন্ডন জানান তিনি কীভাবে ব্ল্যাকমেলের শিকার হয়েছিলেন এবং ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন।

হারারে: স্পট ফিক্সিংয়ের (Spot Fixing) প্রস্তাব পেয়েছিলেন জিম্বাবোয়ের (Zimbabwe) তারকা ক্রিকেটার ব্রেন্ডন টেলর (Brendan Taylor)। সেকথা তিনি জানালেন বটে, তবে বছর দুই পরে। ম্যাচ গড়াপেটার প্রস্তাব পেয়েও ঠিক সময়ে আইসিসিকে (ICC) এই খবর জানননি ব্রেন্ডন। যার ফলে, আইসিসির পক্ষ থেকে শাস্তি তো তিনি পাবেনই। ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত হতে চলেছেন টেলর। কিন্তু তার আগে টুইটারে এক বিবৃতিতে, স্পট ফিক্সিংয়ের প্রস্তাবের ব্যাপারে যাবতীয় তথ্য স্বীকার করে নিলেন টেলর। তাতেই উঠে এল ভারতের যোগ। ভারতের এক ব্যবসায়ী তাঁকে ম্যাচ গড়াপেটা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
নিজের টুইটারে চার পাতার লম্বা বিবৃতিতে ব্রেন্ডন জানান তিনি কীভাবে ব্ল্যাকমেলের শিকার হয়েছিলেন এবং ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন। তিনি টুইটারে লেখেন, “গত দু’বছর ধরে আমি একটা বোঝা বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছি। পরিস্থিতি এমনই যা আমাকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে নিয়ে গিয়েছে এবং মানসিক ভাবে এই ব্যাপারটা আমার ওপর অত্যন্ত প্রভাব ফেলেছে। সম্প্রতি আমি গোটা ব্যাপারটা আমার বন্ধু বান্ধব এবং পরিবারকে জানাই এবং তাদের ভালবাসা ও সমর্থনে আজ সকলকে এই ঘটনাটা জানাতে চাই।”
To my family, friends and supporters. Here is my full statement. Thank you! pic.twitter.com/sVCckD4PMV
— Brendan Taylor (@BrendanTaylor86) January 24, 2022
এরপরই টেলর জানান, ২০১৯ সালের অক্টোবরে এক ভারতীয় ব্যবসায়ী তাঁকে এ ভারতে আসার আমন্ত্রণ জানান। এবং তখন টেলর ভারতে এসেওছিলেন। ব্রেন্ডন বলেন, জিম্বাবোয়েতে একটি টি-২০ লিগ আয়োজন ও তার স্পনসরশিপ সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার জন্যই ওই ব্যবসায়ী তাঁকে ডেকেছিল। এবং খরচ বাবদ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার তাঁকে দেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, সেই সময় প্রায় ছ’মাস ধরে জিম্বাবোয়ে ক্রিকেট বোর্ডের তরফ থেকে টাকা পাননি। ফলে ওই ব্যবসায়ীর প্রস্তাবে ভারতে এসেছিলেন। এবং ওই সময় হোটেলে একটি ডিনারও আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে পানীয়র পাশাপাশি তাঁকে কোকেন নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এবং তিনি বোকার মতো সেই সময় কোকেন নিয়ে ফেলেন। সুযোগ বুঝে ওই ব্যবসায়ী সেই সময় তাঁর কোকেন নেওয়ার ভিডিও করে রাখেন। এবং পরবর্তীকালে তাঁকে সেই ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইলও করা হয়। এবং বলা হয়, তিনি আন্তর্জাতিক ম্যাচে তাদের জন্য স্পট ফিক্সিং না করলে ওই ভিডিও ফাঁস করে দেওয়া হবে।
পুরো ঘটনার জন্য রীতিমতো ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন ব্রেন্ডন। এবং তিনি জানান, এই ঘটনার পর তিনি দীর্ঘদিন মানসিক সমস্যাতেও ভুগেছেন। তাঁকে কড়া ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি রিহ্যাবেও যেতে হয়। তবে তিনি ওই বিবৃতিতে এও জানান, বুকিদের থেকে প্রস্তাব পেলেও তিনি কোনও ম্যাচেই ফিক্সিং করেননি। এবং তাঁর সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, এমন ঘটনা থেকে অন্যদের সতর্ক করার জন্য তিনি পুরো ব্যাপারটি জনসমক্ষে আনলেন। এমনটাও দাবি করছেন ব্রেন্ডন।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ভারতীয় তারকা স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন (Ravichandran Ashwin) টুইটারে লেখেন, “সচেতনতা ছড়িয়ে দাও। আমাদের জন্য পোকার টেবলে যে হাতটা এগিয়ে আসে সেটা আমাদের দুটো বিকল্প দেয় হয় বেটিংয়ে ফাঁসা নয় তো গুটিয়ে থাকা। গুটিয়ে না থেকে ওই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসাটা গুরুত্বপূর্ণ। ব্রেন্ডন ও ওর পুরো পরিবারকে শক্ত থাকতে হবে।”
Spread the awareness!! Most times the hand dealt to us at the poker table gives us an option to bet or fold!! Its important to fold and leave the table! All strength to Brendan and his family? https://t.co/FqsvTd4ao7
— Ashwin ?? (@ashwinravi99) January 24, 2022
আরও পড়ুন: IPL 2022: ‘লখনও সুপার জায়ান্টস’ নামে আইপিএলে খেলবে সঞ্জীব গোয়েঙ্কার দল
