NZ vs IND 4th T20 Score: ব্যাটে ফিলিপ্স, বলে ডাফি – অকল্যান্ডে জোড়া ফলায় বিদ্ধ ভারত
Glenn Phillips: কিউয়ি ব্যাটিংয়ের দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটাই গ্লেন ফিলিপ্স শো। ৪৯ বলে ১০৭ রান করলেন ফিলিপ্স। মারলেন ৬টি বাউন্ডারি, ১০টি বিশালকায় ছক্কা। অক্ষর প্যাটেল থেকে প্রিন্স যাদব - কেউই রেয়াত পেলেন না তাঁর আক্রমণ থেকে। তাঁর সঙ্গে যোগ্য সঙ্গত দিলেন মাইকেল ব্রেসওয়েল। ২৫ বলে ৬৫ এল তাঁর ব্যাট থেকে।

অকল্যান্ড: ২৫৯ রান, তাও আবার ভারতের বিরুদ্ধে। শেষবার প্রথম সারির কোন দল ভারতীয় বোলিংকে বেধড়ক ঠেঙিয়ে টি-টোয়েন্টিতে এত রান করার দুঃসাহস দেখিয়েছিল, সত্যিই মনে নেই। কিন্তু আজ অকল্যান্ডের ইডেন পার্কের দর্শকরা যা দেখলেন, তা অভাবনীয়। গ্লেন ফিলিপসের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি, মাইকেল ব্রেসওয়েলের ঝোড়ো ব্যাটিং, অক্ষর প্যাটেলের অসহায় বোলিং, জেকব ডাফির দারুন ফর্ম – সব মিলিয়ে ভারত বনাম নিউজিল্যান্ডের চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ ছিল মশলায় মোড়া। সেই জন্যই এই ম্যাচ ৮৭ রানে জিতে একটু হলেও সম্মান বাঁচালেন কিউয়িরা।
টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ভারত ক্যাপ্টেন শ্রেয়স আইয়ার। ওপেনার টিম সেইফার্ট (৩) প্রথমেই আউট হলেও তারপর থেকেই ম্যাচের রাশ ধরে নেন ফিন অ্যালেন (৩১) ও ড্যারেল মিচেল (২৪)। তাঁরা আউট হওয়ার পর বাকি সময়টা পুরোটাই গ্লেন ফিলিপ্স শো। ৪৯ বলে ১০৭ রান করলেন ফিলিপ্স। মারলেন ৬টি বাউন্ডারি, ১০টি বিশালকায় ছক্কা। অক্ষর প্যাটেল থেকে প্রিন্স যাদব – কেউই রেয়াত পেলেন না তাঁর আক্রমণ থেকে। তাঁর সঙ্গে যোগ্য সঙ্গত দিলেন মাইকেল ব্রেসওয়েল। ২৫ বলে ৬৫ এল তাঁর ব্যাট থেকে। ৪টি বাউন্ডারি, ৬টি বাউন্ডারি দিয়ে সুসজ্জিত ব্রেসওয়েলের ইনিংস। যার মধ্যে রয়েছে বেশ কিছু স্কুপও।
১৬ ওভারের মধ্যেই ২০০ রান তুলে ফেলেছিল নিউজিল্যান্ড। বাকি ৫৯ রান স্রেফ ভারতীয় বোলিংয়ের দুর্ভাগ্যের। ভারতীয় বোলিংয়ে সবথেকে ভাল ফর্ম আজকে ছিল ময়ঙ্ক যাদবের। ৪৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট পেলেন তিনি। ৩ ওভারে ৪৩ রান দিলেন অক্ষর। সবথেকে খারাপ অবস্থা নীতিশ রেড্ডির। ৪ ওভারে ৬৪ রান দিলেন নীতিশ। ২৫৯ রান নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে সর্বোচ্চ টি-টোয়েন্টি স্কোর। এর আগে ২৫৪ রান তুলেছিল তারা। ৪ বছর আগে সেদিন বিপক্ষে ছিল স্কটল্যান্ড।
জবাবে শুরু থেকে চাপে পড়ে যায় ভারত। প্রথম ওভারেই ২ উইকেট তুলে নেন জেকব ডাফি। বৈভবের বদলে আজ সুযোগ পেয়েছিলেন ঈশান কিষান (০)। কিন্তু, প্রত্যাবর্তনটা জমকালো হল না তাঁর। ২ বলে ৪ রান করে আউট সঞ্জুও। তৃতীয় ম্যাচে ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন অভিষেক শর্মা। আজ করলেন ১৫ বলে ২৭। অধিনায়ক শ্রেয়সের ব্যাট থেকেও এল না বড় রান (২২)। ৬ ওভারের মধ্যেই ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল ভারত। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন তিলক ভার্মা (৩৫) ও নমন ধীর (২৮)। কিন্তু ২৬০ রানের লক্ষ্য সব সময় বাড়তি চাপ দেয়ই। ফলে আশা জাগিয়েও সেই আশা রাখতে পারল না ভারত। ২০ ওভারে ১৭২ রানেই থামতে হল গম্ভীরের ছেলেদের। ২৩ রানে ৪ উইকেট পেয়েছেন জেকব ডাফি।
প্রথম ৩ ম্যাচে দুরন্ত ব্যাটিং করে ভারত দেখিয়েছিল কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে তাঁদের ব্যাটিং স্তম্ভরা। কিন্তু চতুর্থ ম্যাচে দলকে বাঁচালেন ফিলিপ্স। এরফলে সিরিজের ফল ৩-১। ১ নভেম্বর হ্যামিল্টনে শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে ভারত ও নিউজিল্যান্ড। সেই ম্যাচে কি খেলবেন বৈভব? ৪-১ এর প্রত্যাশায় ভারত ১৫ বছরের বিস্ময় কিশোরকে খেললে অবাক হওয়ার কিন্তু কিছুই থাকবে না।
