AUS vs BAN Scorecard: অজিভূমে ‘অপরাজেয়’, কামিন্সদের টেস্টে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ!
Bangladesh Cricket: এর আগে অস্ট্রেলিয়াকে বাংলাদেশ হারিয়েছিল ২০১৭ সালে। তার ৯ বছর পর আবার জয় এল বাংলাদেশের। তবে পূর্ণশক্তির দল নিয়েও যে বাংলাদেশের মতো 'নবাগত' দলের কাছে হারতে হচ্ছে অস্ট্রেলিয়াকে, অধিনায়ক কামিন্সের কি সেটা সহ্য হবে? হয়ত এই সিরিজ থেকে শিক্ষা নেবে অস্ট্রেলিয়া।

ডারউইন : ২৬ বছর ! ২৬ বছর আগে যখন কোনও এক নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ দলের টেস্ট ক্রিকেটে হাতেখড়ি হয়েছিল, তখনও গোটা দুনিয়াতে টগবগিয়ে ছুটছে স্টিভের অশ্বমেধের ঘোড়া। ভারত তখন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের অধীনে। ‘আদৌ বাংলাদেশ টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার যোগ্য কি না’, এই প্রশ্নে উত্তাল তখন ক্রিকেট বিশ্ব। এমতাবস্তায় বাংলাদেশের পক্ষ নেয় ভারত, পাকিস্তানরা। সেই বাংলাদেশ আজ অঘটন ঘটিয়ে ফেলল। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার দলকে টেস্ট ম্যাচে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম তুললেন শান্তরা। এর ফলে দুই টেস্টের সিরিজ ইতিমধ্যেই ১-০ এগিয়ে গিয়েছে বাংলাদেশ। ফলে আগামী ম্যাচ হারলেও সিরিজ অন্তত হারার সম্ভাবনা নেই বাংলাদেশের।
অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে লড়াই বা চোখে চোখ রেখে পাল্টা প্রত্যাঘাত দেওয়া মানেই মনে পড়ে আর এক বাঙালির কথা, যাঁকে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় নামে গোটা বিশ্ব চেনে। সেই কোন ২০০১ সালের কলকাতা টেস্ট, যেখানে স্টিভের অস্ট্রেলিয়া একপ্রকার আত্মসমর্পণ করেছিল হরভজন, দ্রাবিড়-দের সামনে। এরপরে কেটে গিয়েছে প্রায় ২৫ বছর। দুই যুগ পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশের ক্রিকেট যতটা গতিতে এগিয়েছে, তার থেকে প্রায় কয়েকশো গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে ভারতের ক্রিকেট খেলার শক্তি, ভিউয়ারশিপ, ব্যবসা ইত্যাদি। আজ বিসিসিআইকে বলা হয় বিশ্বের ধনীতম ক্রিকেট বোর্ড। আর বাংলাদেশ? কোথাও যেন কুলীন সন্তানের মতো বারবার বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে তাদের ক্রিকেট। ২০০০ সালে শুরু হলেও প্রথম টেস্ট ম্যাচ জয় ২০০৫ সালে। বারবার প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ‘কেন বাংলাদেশ টেস্ট স্ট্যাটাস পাবে? যে দল নিজেদের প্রথম ৩৩টি টেস্ট ম্যাচের মধ্যে ২৯টি ম্যাচ হারে ও ৪টি ম্যাচ ড্র করে, তাদের কোন যুক্তিতে টেস্ট খেলতে দেওয়া হবে?’ বারবার এমন প্রশ্ন তোলা হয়েছে বাংলাদেশকে নিয়ে। প্রশ্ন করেছেন, তৎকালীন ক্রিকেট দুনিয়ার দাদারা। কিন্তু বরাবর সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলি।
তবে ২৫ বছর পর আজ বাংলাদেশ দেখাল, তারা ক্রিকেট দুনিয়ায় যথেষ্ট সাবালক। অনেক লড়াই হারতে হয়েছে। এবার আর না। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে তোলা ১৯৮ রানের জবাবে ৪২৬ রানে অল আউট হয় টাইগার্সরা। ২২৮ রানের বিশাল লিড পায় টাইগার্সরা। দুরন্ত সেঞ্চুরি করেন তানজিদ হাসান। দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিনের সেঞ্চুরিও বাঁচাতে পারল না অজিদের। মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্যমাত্রা ১ উইকেট হারিয়েই পূরণ করে ফেলে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট পেয়েছিলেন পেসার হাসান মাহমুদ। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট মেহেদি হাসান মিরাজের, ৩টি উইকেট হাসানের। তাঁদের যুগলবন্দীতেই ঐতিহাসিক টেস্ট জিতল বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে অজিভূমে প্রথম জয় পেল তারা। এর আগে অস্ট্রেলিয়াকে বাংলাদেশ হারিয়েছিল ২০১৭ সালে। তার ৯ বছর পর আবার জয় এল বাংলাদেশের। তবে পূর্ণশক্তির দল নিয়েও যে বাংলাদেশের মতো ‘নবাগত’ দলের কাছে হারতে হচ্ছে অস্ট্রেলিয়াকে, অধিনায়ক কামিন্সের কি সেটা সহ্য হবে? হয়ত এই সিরিজ থেকে শিক্ষা নেবে অস্ট্রেলিয়া। যতই হোক, হারলেই যে শিক্ষা পাওয়া যায়। তবে এই মুহূর্তে জানতে ইচ্ছে করছে একজনের কথা। তিনি, স্টিভ ওয়া কি আজ এই ম্যাচ দেখছিলেন?
