Mirabai Chanu: পদক হারানোর কষ্ট উগরে দিলেন, সেই পিরিয়ডসই থামাল মীরাবাঈ চানুকে
Paris Olympics 2024: হার-জিত যে কোনও অ্যাথলিটের জীবনের অঙ্গ। সেটা মেনে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ায় বিশ্বাসী মীরাবাঈ চানু। প্যারিস গেমসে ভারোত্তোলন ইভেন্টের শেষে তিনি বলেন, 'আজকের পারফরম্যান্সে আমি খুশি। প্লেয়ারদের সঙ্গে মাঝে মাঝে এমন হয়। আমি অনেক সময় চোট ও অন্য়ান্য সমস্যায় ভুগেছি।'

কলকাতা: প্যারিস অলিম্পিকে (Paris Olympics 2024) মণিপুরের মেয়ে মীরাবাঈ চানুর (Mirabai Chanu) হাত ধরে পদকের স্বপ্ন দেখছিলেন ভারতবাসী। সেই স্বপ্ন ভেঙেছে। মাত্র ১ কেজি কম ওজন তোলার জন্য ব্রোঞ্জ পদক হাতছাড়া হল চানুর। টোকিও অলিম্পিকের প্রথম দিনই রুপো পেয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন মীরাবাঈ চানু। প্যারিসে লক্ষ্য ছিল দ্বিতীয় পদকের। কিন্তু মণিপুরের হীরা মীরা তা পারলেন না। মহিলাদের ৪৯ কেজি ভারোত্তোলনে চতুর্থ হয়ে থামতে হল তাঁকে। ক্লিন অ্যান্ড জার্কে শেষ চেষ্টায় ১১৪ কেজি তুলতে চেয়েছিলেন তিনি। পারেননি। সব মিলিয়ে ১৯৯ কেজিতে থামেন তিনি। মঞ্চেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। ২০০ কেজি তুললেই ব্রোঞ্জ পদক পেতেন মীরা। পরবর্তীতে গেমস ভিলেজ থেকে পদক হারানোর কষ্ট উগরে দিলেন মীরাবাঈ চানু। টোকিও অলিম্পিকের সময় মীরাবাঈয়ের পিরিয়ডস চলছিল। তারপরও রুপো পেয়েছিলেন। কিন্তু প্যারিসে সেই পিরিয়ডসই থামিয়ে দিল চানুকে।
পিরিয়ডস নিয়েই টোকিও অলিম্পিক থেকে দেশকে রুপো এনে দিয়েছিলেন মীরাবাঈ চানু। প্যারিস গেমসে সেই পিরিয়ডসই থামিয়ে দিল তাঁকে। মীরাবাঈ চানু বলেন, ‘আজ আমার পিরিয়ডসের তৃতীয় দিন। টোকিও অলিম্পিকে ইভেন্টের দিন আমার পিরিয়ডসের দ্বিতীয় দিন ছিল। এর জন্য শরীরে কিছু তো পরিবর্তন হয়। অল্প দুর্বলতাও ছিল। তারপরও আমি সব রকম চেষ্টা করেছিলাম পদক জেতার। কিন্তু আমি পারলাম না। পদক হাতছাড়া হয়েছে। পরের বার আমি পুরো চেষ্টা করব পদক জেতার। পরবর্তীতে যে সকল ইভেন্টে নামব, তাতে পদক জেতার পুরো চেষ্টা করব। আর আমি এ বার পদক দিতে পারিনি বলে সকলের কাছে ক্ষমা চাইছি।’
হার-জিত যে কোনও অ্যাথলিটের জীবনের অঙ্গ। সেটা মেনে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ায় বিশ্বাসী মীরাবাঈ চানু। প্যারিস গেমসে ভারোত্তোলন ইভেন্টের শেষে তিনি বলেন, ‘আজকের পারফরম্যান্সে আমি খুশি। প্লেয়ারদের সঙ্গে মাঝে মাঝে এমন হয়। আমি অনেক সময় চোট ও অন্য়ান্য সমস্যায় ভুগেছি। রিও অলিম্পিকে প্রথম বার আমার কী ভাবে পদক হাতছাড়া হয়েছিল, সকলেই জানেন সেটা। সকল প্লেয়ারদের ভাগ্য তো এক হয় না। কখনও ভালো কিছু হয় তো আবার কখনও খারাপ কিছু হয়।’
বার বার চোট, আঘাত মীরাবাঈকে নানা কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছে। সেই কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রিওতে পদক হাতছাড়া হওয়ার পর আমি বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। এরপর টোকিও অলিম্পিকে দেশকে রুপো এনে দিয়েছিলাম। এ বার প্যারিসেও আমি নিজের ১০০ শতাংশ দিয়েছিলাম। দেশকে পদক এনে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। অনেক চোট পেয়েছিলাম আমি। এশিয়ান গেমসেও আমার অবস্থা খারাপ ছিল। ৫ মাস পুরো রিহ্যাবে কাটাতে হয়েছিল। চোট সারিয়ে ওঠার জন্য আমার কাছে অনেক কম সময় ছিল। তারপরও আমি এবং আমার কোচরা পুরো চেষ্টা করেছিলাম এ বার ভালো পারফর্ম করে দেশকে পদক এনে দেওয়ার। কিন্তু আমার ভাগ্যে ছিল না আজ পদক। প্লেয়ারদের সঙ্গে এই সব ঘটনা ঘটে থাকে।’
