T20 World Cup: অভিষেকের পর আমিরের নয়া ভবিষ্যদ্বাণী, শেষ চারে যাবেন না সূর্যকুমারের দল!
কী বলেছেন আমির? প্রাক্ত বাঁ হাতি পেসারের কথায়, 'যদি ভারতের ম্যাচের দিকে তাকান, দেখবেন ওদের ব্যাটিং সব ম্যাচেই ভেঙে পড়েছে। সুপার এইটের ম্যাচে কিন্তু প্রবল চাপ থাকবে। দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ যে ভাবে গ্রুপের ম্যাচে খেলে নকআউটে পা রেখেছে, যে কোনও টিমকে হারিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।'

কলকাতা: বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্ব শুরুর আগেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন পাকিস্তানের প্রাক্তন পেসার মহম্মদ আমির। সম্প্রতি একটি টিভি শোতে তিনি দাবি করেছেন, ভারত সেমিফাইনালে উঠতে পারবে না। তাঁর মতে, সুপার এইটে গ্রুপ এ থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজই শেষ চারে জায়গা করে নেবে। ভারতের সঙ্গে একই গ্রুপে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং জিম্বাবোয়ে। এই চার দলই গ্রুপ পর্বে চমৎকার খেলে সুপার এইটে উঠেছে। আমিরের যুক্তি, গ্রুপ পর্বে একাধিক ম্যাচে ভারতের ব্যাটিংয়ে ধস নেমেছিল। বড় ম্যাচে সূর্যকুমার যাদবের দলের ব্যাটিং চাপ সামলাতে পারবে না।
এর আগে তিনি ভারতের এক নম্বর টি-টোয়েন্টি ব্যাটার অভিষেক শার্মাকে ‘স্লগার’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন। যা ঘিরে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। কিন্তু আমিরের সেই বক্তব্যকে ভুল প্রমাণিত করতে পারেননি অভিষেক। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শূন্য করে আউট হয়েছে। এ বার সেই আমির নতুন বিতর্ক বাঁধিয়ে দিয়েছেন। বিশ্বকাপে এখনও ভারত যা খেলেছে, সেই পারফরম্যান্সের নিরিখে সূর্যদের হালকা নেওয়া যাবে না। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে ভারত গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থেকে সুপার এইটে উঠেছে। চাপের মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতাও যে রয়েছে, তাও প্রমাণ করেছেন শিবম দুবে, হার্দিক পান্ডিয়ারা। ২০২৩ সারে ওয়ান ডে বিশ্বকাপের পর থেকে আইসিসি ইভেন্টে ভারতের ধারাবাহিকতা অনবদ্য। ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও ভারত ছিল অপরাজিত। পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর ৪৫টি ম্যাচের মধ্য়ে ৩৭টায় জিতেছে ভারত। এমন অপ্রতিরোধ্য দলকে নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করে আমির কি বাড়াবাড়ি করে ফেললেন, সেই প্রশ্ন কিন্তু উঠছে।
কী বলেছেন আমির? প্রাক্ত বাঁ হাতি পেসারের কথায়, ‘যদি ভারতের ম্যাচের দিকে তাকান, দেখবেন ওদের ব্যাটিং সব ম্যাচেই ভেঙে পড়েছে। সুপার এইটের ম্যাচে কিন্তু প্রবল চাপ থাকবে। দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ যে ভাবে গ্রুপের ম্যাচে খেলে নকআউটে পা রেখেছে, যে কোনও টিমকে হারিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।’
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট অনিশ্চয়তায় ভরা। এক-দুটো খারাপ ওভার ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ দুটি দলই শক্তিশালী ও অভিজ্ঞ। ভারতের চিন্তার কারণ, টপ অর্ডারের বেশ কয়েকজন ব্যাটার ছন্দে নেই। যদি তাঁরা ফর্মে ফেরেন, যে কোনও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেই সেরাটা দিতে পারবে ভারতীয় দল। বোলিং বিভাগেও বৈচিত্র্য রয়েছে ভারতের। যে কোনও ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে ফেলতে পারেন বুমরা, বরুণরা। সুপার এইটের সূচি অনুযায়ী, ভারত প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে। তারপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ম্যাচ। শেষ ম্যাচ জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে। আমিরের মন্তব্যে বিতর্ক উস্কে দিলেও শেষ কথা বলবে মাঠের পারফরম্যান্সই। এখন দেখার, সমালোচনাকে জবাব দিয়ে ভারত কি আবারও সেমিফাইনালের নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করতে পারে?
