
বাঁকুড়া: বিজেপি কর্মীকে ‘না পেয়ে’ তাঁর দাদাকে রাস্তায় ফেলে খুনের অভিযোগ। মৃতের নাম সুজয় রং (৪০)। কাঠগড়ায় তৃণমূল কংগ্রেস। ঘটনাটি বাঁকুড়ার ইন্দাসের খটনগর গ্রামের। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। মৃতের পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে ইন্দাস থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ইন্দাসের বিজেপি বিধায়ক নির্মল কুমার ধাড়া। ঘটনার তদন্তে নেমে এখনও পর্যন্ত একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকি অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করা না হলে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক। অন্যদিকে, এই খুনের ঘটনায় তাদের দল জড়িত নয় বলে তৃণমূলের দাবি।
খটনগর গ্রামের বাসিন্দা সুজয় রংয়ের ভাই প্রসাদ রং এলাকার বিজেপি কর্মী হিসাবে পরিচিত। মৃতের পরিবারের বক্তব্য, প্রসাদের কাছ থেকে টাটা নিয়ে গতকাল রাত আটটা নাগাদ ডিম কেনার জন্য গ্রামের কলোনি শিবতলা এলাকায় যান সুজয়। সেই সময় স্থানীয় তৃণমূল কর্মী হিসাবে পরিচিত নয়ন রায় ও পিন্টু রায় সুজয় রং-কে ঘিরে ধরে কিল চড় ঘুষি মারতে শুরু করেন। অভিযোগ, সুজয়কে ধাক্কা দিয়ে ঢালাই রাস্তায় সজোরে আছাড় মেরে ফের একদফা মারধোর করেন ওই দুই তৃণমূল কর্মী। ঘটনা চোখে পড়তেই এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারী ওই দুই তৃণমূল কর্মী ঘটনাস্থল ছেড়ে ছুটে পালিয়ে যান।
পরে পরিবারের লোকজন সুজয়কে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ইন্দাস ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। গভীর রাতে মৃতের পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে ইন্দাস থানায় হাজির হন ইন্দাসের বিজেপি বিধায়ক নির্মল কুমার ধাড়া। পরিবারের তরফে সুজয় রং-কে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয় নয়ন রায় ও পিন্টু রায়ের বিরুদ্ধে। অভিযোগ পেতেই ইন্দাস থানার পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে পিন্টু রায়কে গ্রেফতার করে। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে মৃতের পরিবার। প্রসাদ রং বলেন, “আমি বিজেপি করি বলি মাঝে মধ্যে ধমকানি দিত। ভয়ে আমি বাড়ি থেকে বেরতাম না। সেজন্যই আমার দাদাকে পেয়ে তাকে খুন করেছে। আমি অভিযুক্তদের ফাঁসির সাজা চাই।”
অন্যদিকে, বিজেপি বিধায়ক অভিযোগ করেন, “তৃণমূলের মঙ্গলপুর অঞ্চলের সভাপতি জীবন মণ্ডলের নির্দেশে আমাদের কর্মীকে খুন করা হয়েছে।” তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের সকলকে গ্রেফতার করা না হলে আগামীতে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন তাঁরা।
অন্যদিকে, এই খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে তৃণমূল। ধৃত অভিযুক্ত পিন্টু রায়কে নিজেদের কর্মী বলে মানতে নারাজ শাসকদল। তৃণমূলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুব্রত দত্তর দাবি, মদ খাওয়া নিয়ে গন্ডগোলের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক সুবিধা নিতে সেই ঘটনাকে রাজনৈতিক রং দেওয়ার চেষ্টা করছেন ইন্দাসের বিজেপি বিধায়ক নির্মল কুমার ধাড়া।