
বাঁকুড়া: পেট বড় বালাই। এলাকায় কাজ নেই। চাষাবাদও তেমন হয় না। আর তার জন্যেই গ্রাম ছেড়ে পরিযায়ী হতে হয়েছিল পুরুলিয়ার বাঁধডিহি গ্রামের বাসিন্দা সুখেন মাহাতো সহ গ্রামের প্রায় ৪০ জন যুবককে। সুখেনের পরিবার ও গ্রামের মানুষ সেকথা বললেও গ্রামবাসীদের সেই দাবি কার্যত উড়িয়ে দিলেন অভিষেক। গত এক দশকে দেশ থেকে সাড়ে তিন কোটি মানুষ জীবিকার প্রয়োজনে দেশের বাইরে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন পেটের দায়ে সকলে পরিযায়ী শ্রমিক হয় না। একইসঙ্গে মৃত সুখেন মাহাতোর পরিবারের দাবি মেনে সুখেনের অপর দুই ভাইকে এ রাজ্যেই কর্মসংস্থানের আশ্বাস দিয়েছেন অভিষেক। আর তাতে কিছুটা হলেও আশ্বস্ত হয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
অন্যদিকে অভিষেকের সাফ কথা, মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করতে তিনি আসিনি। পুরুলিয়ার বাঁধডিহি গ্রামে ওই মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়িতে গিয়ে শুরুতেই এ কথা বলতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। কিন্তু বাস্তবে কী তাই? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, পরিযায়ী শ্রমিকের দেহ বাড়িতে পৌঁছানোর প্রায় সঙ্গেই সঙ্গেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়িতে পৌঁছে আসলে রাজনীতির দুই পাখি মারলেন এক ঢিলে।
এমনিতে গত বিধানসভা নির্বাচনে পুরুলিয়ার ৯ টি আসনের মধ্যে ৬ টি আসন হাতছাড়া হয়েছিল ঘাসফুল শিবিরের। গত লোকসভা নির্বাচনেও জেলার ৯ টি আসনের মধ্যে ৮ টি আসনে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। অর্থাৎ জেলার ভোটারদের একটা বড় অংশ ঢলেছিল পদ্ম শিবিরে। সেই পদ্ম শিবিরে দাঁড়িয়ে বিজেপি শাসিত রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে অভিষেক বার্তা দিলেন বিজেপি নয়, জেলার মানুষের পাশে রয়েছে তৃণমূল। অপরদিকে গত একাধিক নির্বাচনে পুরুলিয়া-সহ জঙ্গলমহলে ঘাসফুল শিবিরকে যথেষ্ট বেগ দিয়েছে কুড়মি সমাজ। আগামী বিধানসভা নির্বাচনেও নো ভোট টু টিএমসি এই স্লোগান তুলে ময়দানে নেমেছে কুড়মি সমাজের একটি সংগঠন। কুড়মি সমাজের ভোট না পেলে তৃণমূলকে এই বিধানসভা নির্বাচনে পুরুলিয়ার অধিকাংশ আসনেই যে হারের মুখ দেখতে হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে পুনেতে মৃত কুড়মি সম্প্রদায়ের সুখেন মাহাতোর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে অভিষেক কী কুড়মি সম্প্রদায়ের মানুষের পাশে থাকার বার্তাই দিয়ে গেলেন? অন্তত তেমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।