রামপুরহাট : সোমবার রাতে বোমাবাজিতে মৃত্যু হয় রামপুরহাটের বগটুই ( Bagtui) গ্রামের বাসিন্দা স্থানীয় উপপ্রধান ভাদু শেখের। আর তারপর থেকেই গোটা গ্রামে কার্যত তাণ্ডব চলে বলে অভিযোগ। একের পর এক বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত আট জনের মৃত্য়ু হয়েছে। যদিও সকালে দমকলের তরফে জানা গিয়েছিল মৃতের সংখ্যা দশ। এদিকে আগুন লাগার কারণ হিসেবে শাসক দলের তরফে একাধিক তত্ত্ব উঠে এল তদন্ত শুরুর আগেই। অনুব্রত মণ্ডল আগুন লাগার পিছনে শর্ট সার্কিটের তত্ত্ব তুলে ধরেন। আবার কুণাল ঘোষ প্রথমে টুইট করেন, রামপুরহাটের আগুনের ঘটনায় রাজনীতি নেই। তার কয়েক ঘণ্টা পরেই আবার লেখেন, “বৃহত্তর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র”-র কথা। রাজ্য পুলিশের ডিজি আবার সাংবাদিক বৈঠক করে বললেন, কোনও রাজনৈতিক কারণ নেই। এদিকে রামপুরহাটের বগটুই গ্রাম পুরো থমথমে পরিবেশ। অনেকেই বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছেন। ভয়ে কেউ সংবাদ মাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে চাইছেন না।
এক নজরে দেখে নেওয়া যাক বগটুই গ্রামে কখন কী হল
সোমবার রাত সাড়ে ৮ টা নাগাদ তৃণমূল উপপ্রধান ভাদু শেখ ‘খুন’ হন।
রাত সাড়ে ৯ টা নাগাদ ভাদু শেখের বিরোধী গোষ্ঠী বলে পরিচিতদের বাড়িতে আগুন লাগে। প্রায় ১০-১২টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ।
রাতেই অকুস্থলে এসে পৌঁছায় দমকল বাহিনী। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত দমকল ছিল। আগুন নেভানোর পরেও মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত একাধিক বাড়িতে ধোঁয়া দেখা গিয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০ টা নাগাদ দমকলের তরফে জানানো হয়, রাতে তিন জনের দেহ বের করা হয়েছে। সকালে আরও সাত জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে।
পরে বীরভূমের পুলিশ সুপার জানান, সেই সময় পর্যন্ত সাত জনের মৃত্যু হয়েছে।
সকাল সাড়ে ১১ টা নাগাদ বেহালা ফ্লাইং ক্লাব থেকে হেলিকপ্টারে করে রামপুরহাটের উদ্দেশে রওনা দেন ফিরহাদ হাকিম।
দুপুর একটা নাগাদ, রামপুরহাটের মৃত্যু নিয়ে নবান্নে জরুরি বৈঠক হয়। সেখানেই রিপোর্ট চেয়ে পাঠাল নবান্ন।
রাজ্য পুলিশের ডিজি সাংবাদিক বৈঠক করেন। জানান বীরভূমের রামপুরহাটের অগ্নিকান্ডে আট জনের মৃত্যু হয়েছে।
রামপুরহাট হত্যাকান্ডের তদন্তে সিট গঠন।
দুপুর ২.১৫ নাগাদ এলাকায় ঢোকে সিটের তদন্তাকারী দল
দুপুর আড়াইটে নাগাদ অকুস্থলে পৌঁছান ফিরহাদ হাকিম। কথা বলেন ভাদু শেখের পরিবারের সঙ্গে।
দুপুর তিনটে নাগাদ তিনি হাসপাতালে যান।
দুপুর ৩.২০ মিনিট নাগাদ তিনি এলাকা পরিদর্শনে যান।
দুপুর ৪ টে নাগাদ সাংবাদিক বৈঠক করেন ফিরহাদ হাকিম।
মঙ্গলবার বিকেলে রামপুরহাটের হত্যাকান্ডে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্য সরকারের থেকে রিপোর্ট তলব করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। অমিত শাহর সঙ্গে সাক্ষাতের পর এমনটাই দাবি করলেন বিজেপির প্রতিনিধি দল।