TMC: অনুব্রতর সঙ্গে দেখা করায় তৃণমূল কর্মীদের ‘মার’, অশান্ত শান্তিনিকেতন
TMC: দোকানপাটেও বেপরোয়া ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ। আহত তিন তৃণমূল কর্মী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হামলার অভিযোগ, মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা-র ঘনিষ্ঠ বাবু দাসের অনুগামীদের বিরুদ্ধে। যদিও বাবু দাসের দাবি, গোটা ঘটনাটাই পারিবারিক বিবাদ। এর সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই।

বীরভূম: তৃণমূলের সংঘাতে ফের রক্তাক্ত বীরভূম। শান্তিনিকেতনে অশান্তি। শাসক সংঘর্ষে উত্তপ্ত রূপপুরের মোমিনপুর গ্রাম। তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ায় কয়েক জন তৃণমূল কর্মীদের বেধড়ক মারধরের অভিযোগ। সঙ্গে তুমুল ইটবৃষ্টি। দোকানপাটেও বেপরোয়া ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ। আহত তিন তৃণমূল কর্মী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হামলার অভিযোগ, মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা-র ঘনিষ্ঠ বাবু দাসের অনুগামীদের বিরুদ্ধে। যদিও বাবু দাসের দাবি, গোটা ঘটনাটাই পারিবারিক বিবাদ। এর সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই।
আক্রান্ত এক তৃণমূল কর্মী বলেন, “আমরা যখন কেষ্টদার সঙ্গে দেখা করে জেলা অফিস থেকে বার হই, তখনই আমার বাড়ি থেকে ফোন করে জানান, বাড়িতে ইট পাটকেল ছু়ড়ছে। অনুব্রত মণ্ডল পরিষ্কার বলে দিয়েছে, বাবু দাস কেউ নয়, ও পৌরসভার লোক, অঞ্চলেরও লোক নয়। ও তোলা তুলছে। এখানে কেষ্টদাই শেষ কথা।”
অনুব্রত মণ্ডলের জেলমুক্তির পর একাধিকবার অশান্ত হয়ে উঠেছে বীরভূম। কাজল শেখ অনুগামী ও অনুব্রত ঘনিষ্ঠদের মধ্যে একাধিকবার লড়াইয়ের খবর সামনে এসেছে। বীরভূম, যে গড় মূলত একটা সময়ে অনুব্রতর ছিল, তা ধীরে ধীরে এখন অনুব্রত-কাজলের ‘যুগলবন্দি’ গড়ে পরিণত হয়েছে। কারণ অনুব্রত জেলে যাওয়ার পর থেকেই তৃণমূল অন্দরে কেষ্ট ‘প্রতিপক্ষ’ হিসাবে পরিচত কাজল শেখই নিজের জমি পোক্ত করেছে। এই পরিস্থিতিতে আবারও তপ্ত বীরভূমের মাটিতে।
তবে তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল নিয়ে কটাক্ষ করছেন বিরোধীরাও। সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ বলেন, “এটা কোনও রাজনৈতিক লড়াই নয়। মাল কামানোর লড়াই। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই।” বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ” এটা কোনও রাজনৈতিক লড়াই নয়। গোটা দলটাই দুষ্কৃতীদের দখলে চলে গিয়েছে। দলের মধ্যে যে ৭৫-২৫ শতাংশের ভাগ ঠিক করে দেওয়া আছে, তা নিয়েই লড়াই।”
