Balurghat: বালুরঘাটের স্কুলে স্কুলে বিপ্লব জেলার মেয়ে কাব্যার, এমন যন্ত্র দেখে তাক লেগে যাচ্ছে পড়ুয়াদের
জেলার পাঁচটি স্কুলের পড়ুয়াদের প্রশিক্ষণ দেন কাভিয়া। বেশ কিছু বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বিনামূল্যে স্কুলগুলিতে দেন তিনি। পড়ুয়াদের মধ্যে সরবরাহ করেন। যাতে তারাও নিজেদের গবেষণায় তা ব্যবহার করতে পারেন। সরকারি স্কুলের পাশাপাশি সোমবার বালুরঘাটের একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলেও পড়ুয়াদের নিয়ম 'প্রজেক্ট জুল' নিয়ে বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করেন কাভিয়া।

বালুরঘাট: শুধুমাত্র গতানুগতিক পড়াশোনা নয়, পড়ুয়াদের তার বাইরে অন্যরকম কিছু শেখাতেই উদ্যোগ নিয়েছেন বালুরঘাটের মেয়ে কাভিয়া মজুমদার। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সরকারি স্কুলে পড়ুয়াদের নিয়ে রোবটিক্স লার্নিংয়ের উদ্যোগ নিলেন কাভিয়া। মুম্বইয়ের একটি স্কুলে পড়াশোনা করেছেন তিনি। দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করতে করতেই কৃষক থেকে সাধারণ মানুষের কাজে লাগবে এমন যন্ত্র তৈরি করেছেন তিনি।
ওই ছাত্রীর তৈরি যন্ত্র দিয়ে ভূপৃষ্ঠ থেকে জলের স্তর পরিমাপ, গ্যাস লিকেজ শনাক্ত করা, জলবায়ু পরিবর্তনের আগাম আপডেট, ঘরে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে মোশন সেন্সরের ব্যবহার, স্বয়ংক্রিয় ওয়াটার পাম্প চালানোর মতো একাধিক কাজ করা যেতে পারে। তিনি চান সরকারি স্কুলের পড়ুয়ারা যাতে রোবটিক্সের মাধ্যমে পড়াশোনা আরও আকর্ষণীয় করে তোলা যায়।
জেলার পাঁচটি স্কুলের পড়ুয়াদের প্রশিক্ষণ দেন কাভিয়া। বেশ কিছু বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বিনামূল্যে স্কুলগুলিতে দেন তিনি। পড়ুয়াদের মধ্যে সরবরাহ করেন। যাতে তারাও নিজেদের গবেষণায় তা ব্যবহার করতে পারেন। সরকারি স্কুলের পাশাপাশি সোমবার বালুরঘাটের একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলেও পড়ুয়াদের নিয়ম ‘প্রজেক্ট জুল’ নিয়ে বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করেন কাভিয়া।
মূলত সরকারি স্কুলের ক্লাস এইট থেকে পড়ুয়াদের জন্য চালু করা হয়েছে রোবটিক্সভিত্তিক পাঠ্যক্রম। যার মাধ্যমে বাস্তব জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে হাতে কলমে শিক্ষা দেওয়া হবে। রোবটিক্সের মাধ্যমে পড়াশোনাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। প্রথম বালুরঘাটেই শুরু হয়েছে এই উদ্যোগ। তবে এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই কাশ্মীরে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সেখানে প্রায় ১ হাজার পড়ুয়া এবং ৫০ জন শিক্ষক শিক্ষিকা এই প্রকল্পের আওতায় যুক্ত হয়েছেন।
জেলায় বর্তমানে প্রায় ৫০০ জন পড়ুয়া এই রোবটিক্সভিত্তিক শিক্ষাক্রমের সঙ্গে যুক্ত। উদ্যোক্তাদের দাবি, ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তি ও সামাজিক দায়বদ্ধতার মেলবন্ধন ঘটাতে পারলে ভবিষ্যতে সমাজ গঠনে এই পড়ুয়ারাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। প্রযুক্তির সাহায্যে বাস্তব সমস্যার সমাধান শেখানোর এই উদ্যোগ জেলায় শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন দিশা দেখাবে বলেই মনে করছেন শিক্ষাবিদদের একাংশ।
