বালুরঘাট : শিশু বিক্রি চক্রে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে শনিবার দুপুরে পতিরাম থানায় আলেন জেলার পুলিশ সুপার রাহুল দে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহঃ নাসিম সহ অন্যান্য পুলিশ অফিসাররাও। এদিকে জেলা পুলিশ অফিসারদের পাশাপাশি জেলার সিআইডি অফিসাররাও যান পতিরাম থানায় এবং বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন। সূত্রের খবর, গোটা চক্রের সন্ধান পেতে আগামী দিনে এই মামলা সিআইডির হাতেও যেতে পারে। যদিও এই নিয়ে জেলা পুলিশের সুপার রাহুল দে এখনই কিছু বলতে চাইছেন না। উল্লেখ্য, পতিরাম শিশু বিক্রির চক্রে এখন পর্যন্ত জেলা পুলিশের তরফে মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের মধ্যে ছয় জন মহিলা এবং দুই জন পুরুষ রয়েছে। শুক্রবার পতিরাম থানার পুলিশ ছয় জনকে বালুরঘাট জেলা আদালতে পেশ করে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। ধৃতদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর শনিবার দুপুর থেকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে শুরু করেছে পুলিশ।
শনিবার ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পতিরাম থানায় পৌঁছান জেলা পুলিশের অফিসার সহ সিআইডি অফিসাররা। দীর্ঘক্ষণ ধরে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন পুলিশ অফিসাররা। পুলিশের অনুমান এই চক্রে আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছে। তাদের খোঁজে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। এদিকে শিশু পাচার চক্রে জড়িতদের গ্রেফতারির পর বেশ কিছু প্রশ্ন প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। বিশেষ করে, কলকাতা শহর সংলগ্ন এলাকার শিশু পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্তরা দক্ষিণ দিনাজপুরের পতিরামে কেন ধরা পড়ল? কেনই বা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাকে বেছে নেওয়া হল? এমন একাধিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন পুলিশ অফিসাররা।
ঘটনার জেরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে এলাকাতেও। এই চক্রের সঙ্গে জেলারও কেউ জড়িত থাকতে পারে বলে অনুমান করছেন স্থানীয়দের একাংশ। এদিকে শিশু পাচার চক্রের খবরটি এলাকায় জানাজানি হতেই স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে শুরু করেছে। ঘটনা প্রসঙ্গে জেলা পুলিশের সুপার রাহুল দে জানিয়েছেন, শিশু বিক্রি চক্রের তদন্ত চলছে। এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে আরও সময় লাগবে। পুরো ঘটনাটি তাঁরা খতিয়ে দেখছেন। পাশাপাশি এই মামলা সিআইডির হাতে যাবে কি না তা নিয়েও এখনই কিছু বলতে চাইছেন না জেলা পুলিশের সুপার।
আরও পড়ুন : Exclusive Saumitra Khan: ‘নেতারা নিজেদের বস বলে মনে করেন’, বঙ্গ বিজেপির ‘গাফিলতি’ নিয়ে বিস্ফোরক সৌমিত্র