Holi 2025: মায়াপুর থেকে বিষ্ণুপুর-কামারপুকুর! দোলের সকাল থেকেই বাড়ছে ভিড়, মাতোয়ারা আট থেকে আশি
Dol Yatra: সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মল্ল রাজ পরিবারের রাজ্য পাট হারিয়ে যায়। কিন্তু প্রেমের সেই শহরে থেকে যায় দোল যাত্রা ও রাস উৎসবের উন্মাদনা। অতীতের সেই ঐতিহ্যবাহী রীতি ও রেওয়াজ মেনে এদিনও সকাল থেকে রঙের উৎসবে মেতেছে প্রাচীন মল্ল রাজধানীর আট থেকে আশি।

বিষ্ণুপুর থেকে মায়াপুর, দোলের সকালে রঙের ছোঁয়া সর্বত্রই। সকাল থেকেই বিভিন্ন রঙে রঙিন হয়ে নাচে গানে উৎসবে মেতে উঠলেন বিষ্ণুপুরের আট থেকে আশি। অন্যদিকে ৫৪০ তম বর্ষে সেজে উঠেছে মায়াপুর। কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠেও মহাসমারোহে পালিত হচ্ছে দোল উৎসব।
ইতিহাসের শহর বিষ্ণুপুর, প্রেমের শহর বিষ্ণুপুর। সেই শহরে রঙের উৎসব যে আলাদা মাত্রা নেবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বৈষ্ণব পন্ডিত শ্রীনিবাস আচার্যের সান্নিধ্যে এসে ষোড়শ শতকে বিষ্ণুপুরের মল্ল রাজা বীর হাম্বির বৈষ্ণব ধর্ম গ্রহণ করেন। বৈষ্ণব ধর্ম রাজধর্ম হিসাবে প্রতিষ্ঠা পেতেই গোটা মল্লভূম জুড়ে বৈষ্ণব ধর্মের জোয়ার বয়ে যায়। রাজধানী বিষ্ণুপুর সহ গোটা মল্লভূম জুড়ে তৈরি হয় টেরাকোটার একের পর এক সুদৃশ্য মন্দির। বৈষ্ণব ধর্মের হাত ধরেই রাজ আনুকূল্যে বিষ্ণুপুরে মহা ধুমধামে শুরু হয় দোলযাত্রা, রাস উৎসব। বিষ্ণুপুরে বৈষ্ণব ধর্মের এমন জনপ্রিয়তার কারনে সে সময় বিষ্ণুপুরকে গুপ্ত বৃন্দাবন বলে মনে করা হত।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মল্ল রাজ পরিবারের রাজ্য পাট হারিয়ে যায়। কিন্তু প্রেমের সেই শহরে থেকে যায় দোল যাত্রা ও রাস উৎসবের উন্মাদনা। অতীতের সেই ঐতিহ্যবাহী রীতি ও রেওয়াজ মেনে এদিনও সকাল থেকে রঙের উৎসবে মেতেছে প্রাচীন মল্ল রাজধানীর আট থেকে আশি। প্রশাসনিক উদ্যোগে সকালে নাচে গানে শোভাযাত্রা করে শহরের শিল্পীরা হাজির হন পোড়ামাটির হাটে। সেখানে একে অপরকে আবিরের রঙে রাঙিয়ে ধ্রুপদী নাচে গানে মহা সমারোহে পালিত হয় রঙের উৎসব। যে উৎসবে যোগ দেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিষ্ণুপুরে আসা পর্যটকেরাও।
অন্যদিকে সকাল থেকেই হাজার হাজার মানুষ হাজির হয়েছেন মায়াপুরে। সকাল থেকেই দোল উৎসব উপলক্ষে প্রেমে-ভক্তির রঙীন বাতাস বইছে মায়াপুরে। নাম সংকীর্তনের মধ্য দিয়ে প্লাবনের জোয়ার ইসকনের। দেশ-বিদেশের হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হচ্ছেন মায়াপুরের। এই দোল উৎসব উপলক্ষে কয়েক দিন ধরে রয়েছে মায়াপুরের বিশেষ অনুষ্ঠান। রয়েছে ভোগ বিতরণ।
কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠে মহা সমরহে পালিত হচ্ছে দোল উৎসব। মঠের সন্ন্যাসীরা হরিনাম সংকীর্তনের মাধ্যমে আবির খেলায় মেতে উঠেছেন। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্ত সমাগম হয়েছে কামারপুকুরে। হরিনাম সংকীর্তন ও ভজন গানে রামকৃষ্ণ মঠে আবির খেলছেন ভক্তরা।
