Hooghly: রাজ্যে পালাবদল হতেই সামনে এলে রহিম নবীর ভাইয়ের ‘কীর্তি’, বিস্ফোরক অভিযোগে গ্রেফতার
Rahim Nabi's brother Firoz Nabi arrested in Pandua: রাজ্যে সরকার বদলের পর গত ২৩ মে শেখ আব্বাস আলি পাণ্ডুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ জানান। এরপরই ঘটনার তদন্তে নামে পাণ্ডুয়া থানার পুলিশ। ঘটনার তদন্তে নেমে গতকাল রাতে পাণ্ডুয়ার জয়পুর রেলগেট সংলগ্ন এলাকা থেকে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা ফিরোজ নবী এবং শেখ শফিককে গ্রেফতার করে।

পাণ্ডুয়া: পুলিশের জালে প্রাক্তন ফুটবলার তথা তৃণমূল নেতা রহিম নবীর ভাই ফিরোজ নবী। ৫ বছর আগে এক বিজেপি নেতাকে তিনি মারধর করেছিলেন বলে অভিযোগ। রাজ্য়ে পালাবদলের পর আক্রান্ত ওই বিজেপি নেতা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে পাণ্ডুয়া থানার পুলিশ গ্রেফতার করল ফিরোজ-সহ ২ জনকে। ধৃতদের শারীরিক পরীক্ষার সময় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চোর চোর স্লোগান দেন বিজেপি কর্মী, সমর্থকরা।
কী হয়েছিল ৫ বছর আগে?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের পর ২৩ জুন সন্ধেয় পাণ্ডুয়া জিটি রোড সংলগ্ন একটি রেস্টুরেন্টে বসে চা খাচ্ছিলেন বিজেপি নেতা শেখ আব্বাস আলি। অভিযোগ, সেই সময় অতর্কিতে তাঁর উপর হামলা চালান প্রাক্তন ফুটবলার তথা পাণ্ডুয়া ব্লক তৃণমূলের নেতা রহিম নবীর ভাই ফিরোজ নবী এবং শেখ শফিক-সহ বেশ কয়েকজন তৃণমূলের নেতা কর্মী। অভিযোগ, সেই সময় শেখ আব্বাস আলিকে বেধড়ক মারধর করেন তাঁরা। এমনকি প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করেন। এতে আব্বাস আলির বাঁদিকের কানের পর্দা ফেটে যায়। তাতে তাঁর শ্রবণ শক্তি হারিয়েছে বলে অভিযোগ। এছাড়াও আব্বাস আলির শরীরে অন্যান্য ক্ষত হয়েছে বলেও অভিযোগ। সেই সময় তাঁর কাছ থেকে মোবাইল ফোন, ঘড়ি এবং নগদ কিছু টাকা ছিনিয়ে নেন অভিযুক্তরা।
৫ বছর পর রাজ্যে সরকার বদলের পর গত ২৩ মে শেখ আব্বাস আলি পাণ্ডুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ জানান। এরপরই ঘটনার তদন্তে নামে পাণ্ডুয়া থানার পুলিশ। ঘটনার তদন্তে নেমে গতকাল রাতে পাণ্ডুয়ার জয়পুর রেলগেট সংলগ্ন এলাকা থেকে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা ফিরোজ নবী এবং শেখ শফিককে গ্রেফতার করে। ঘটনার তদন্তের জন্য ধৃতদের সাতদিনের পুলিশি হেফাজত চেয়ে এদিন চুঁচুড়া আদালতে পাঠায় পাণ্ডুয়া থানার পুলিশ। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিন ধৃতদের আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে পাণ্ডুয়া গ্রামীণ হাসপাতালে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে নিয়ে আসা হয়। সেই সময় গ্রামীণ হাসপাতালের সামনে বেশ কিছু বিজেপি কর্মী, সমর্থক জড়ো হন। ফিরোজ নবী ও শেখ শফিককে দেখে চোর চোর স্লোগান দেন। পান্ডুয়া থানার ওসি নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী হাজির হয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়।
