Main Vaapas Aaunga Singer: বাদ পড়েছিলেন নামকরা রিয়ালিটি শো থেকে, চুঁচুড়ার সেই মেয়ে গাইলেন ‘ম্যায় ওয়াপাস আয়ুঙ্গা’ছবির ভাইরাল গান, নীলাঞ্জনাকে চেনেন?
AR Rahaman: নীলাঞ্জনার বাবা সন্দীপন বাবু বলেন, "আমি অত্যন্ত খুশি মেয়ের সাফল্যে। আমি একজন সঙ্গীত শিল্পী , তাই এই পাওনাটা কত বড় তা উপলব্ধি করতে পারি। ছোটবেলায় ওকে শেখাতাম তবে বর্তমানে এখন আমি ওর থেকে শিখি। ও আলাদা একটা পরিচয় এনে দিয়েছে। আগামী দিনে আরও এগিয়ে চলুক সেটাই চাইবো।"

হুগলি: আবারও বাঙালি। আর এবার বাংলার আরও এক মেয়ের সুরের জাদুতে এখন মোহিত গোটা দেশ। ইমতিয়াজ আলির ‘ম্যায় ওয়াপাস আয়ুঙ্গা’ ছবিতে সঙ্গীত পরিচালক, সুরকার এ আর রহমান (AR Rahaman) এর সুরে গান গেয়ে তাক লাগিয়েছেন হুগলির মেয়ে নীলাঞ্জনা। কেমন ছিল সেই যাত্রা? নীলাঞ্জনার উত্থানই বা কীভাবে?
একসময় বাদ পড়েছিলেন গানের রিয়ালিটি শো সারেগামাপা থেকে। তবে থেমে থাকেননি। নিজের গাওয়া গানে ত্রুটি রয়েছে, আরও ভালো গাইতে হবে, এই জেদ নিয়ে এগিয়ে চলাই আজ সাফল্য এনে দিয়েছে নীলাঞ্জনাকে। তবে সাফল্য কথায় তিনি বিশ্বাসী নন। তাঁর মতে সাফল্য থেমে থাকে না। আরও আরও ভালো করে রেওয়াজ করতে হবে কারণ এখনও অনেক পথচলা বাকি।
কোথায় থাকেন নীলাঞ্জনা?
হুগলির চুঁচুড়া পুরসভার অন্তর্গত ২ নং ওয়ার্ডের সাহাগঞ্জের ষষ্ঠীতলার বাসিন্দা নীলাঞ্জনা ঘোষ দস্তিদার। ছোটবেলায় তাঁর মা ভর্তি করেছিলেন স্থানীয় নাচের স্কুলে। কিন্তু নাচ তাঁর ভালো লাগতো না। মন পড়ে থাকতো গানে।
নীলাঞ্জনার বাবা সন্দীপন ঘোষ দস্তিদার একজন বেস গিটারিস্ট। মা শ্রাবণী ঘোষ দস্তিদার রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী। সেই কারণে তাঁর বাড়িতে সব সময় চলতো গানের রেওয়াজ। আর তাতেই মন পড়ে থাকতো তাঁর। ছোটবেলায় একদিন নাচের ক্লাসে যাওয়ার আগে হঠাৎই বেঁকে বসলেন নীলাঞ্জনা। তাঁর মাকে জানালেন তিনি নাচের ক্লাসে আর যাবেন না, গান শিখবেন। এরপর তাঁর মাও তাঁকে আর জোর করেননি নাচের জন্য। সেই থেকে শুরু গানের যাত্রার।
সম্প্রতি, তাঁর গাওয়া একটি গান ভাইরাল নেট দুনিয়ায়। ইমতিয়াজ আলির সিনেমা ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’ তে গাইলেন গান। এআর রহমান কাজের সুযোগ দিতেই মাতিয়ে দিলেন।
নীলাঞ্জনা কী বললেন?
নীলাঞ্জনা বলেন, “ছোটবেলা থেকেই বাবা মা কে দেখতাম বাড়িতে গানের রেওয়াজ করতে। সেই থেকেই গানকে ভালোবেসে ফেলি। সেই থেকে শুরু করি কঠোর পরিশ্রম। তবে বেশ কয়েকবার রিয়ালিটি শোতে গিয়েছিলাম। কিন্তু হয়তো নিজের ত্রুটির কারণেই বাদ পড়েছিলাম। তখন ভাবি আমাকে আরও ভালো রেওয়াজ করতে হবে। ‘মাস্কারা’ গানটি আমি গেয়েছিলাম। কিন্তু অজান্তেই এই গানটি আমাকে আলাদা পরিচয় এনে দিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “২০২৪ সালে এআর রহমানের সঙ্গে আমেরিকায় গিয়েছিলাম। সেই সময় রহমান স্যরের অ্যাসিস্ট্যান্ট আমাকে ফোন করেন। স্যারের সঙ্গে দেখা করার জন্য জানান। ওখানে দেখা করতে গেলে আমাকে এই গানটি করতে বলা হয়। প্রথমে নার্ভাস হলেও পরে ওই গানটি আমি গাই। কিন্তু তখনও আমি জানতাম না, যে আমার গাওয়া গানটি সিলেক্ট হবে। পরে যখন দেখি আমার গাওয়া গানটি চলছে তখন আমি আপ্লুত হয়ে পড়ি। এটা আমার কাছে সংগীত জগতে সবচেয়ে বড় পাওনা। তবে সাফল্য ভেবে এখানেই থেমে থাকলে চলবে না। আমাকে আরও আরও পরিশ্রম করতে হবে কারণ এখনও অনেক পথচলা বাকি।”
তবে, বাবা মা এর পাশাপাশি তাঁর স্বামীও সঙ্গীত জগতের সঙ্গে যুক্ত। তাই গোটা পরিবারের সহায়তা পেয়েছেন তিনি বলে জানিয়েছেন নীলাঞ্জনা।
নীলাঞ্জনার বাবা সন্দীপন বাবু বলেন, “আমি অত্যন্ত খুশি মেয়ের সাফল্যে। আমি একজন সঙ্গীত শিল্পী , তাই এই পাওনাটা কত বড় তা উপলব্ধি করতে পারি। ছোটবেলায় ওকে শেখাতাম তবে বর্তমানে এখন আমি ওর থেকে শিখি। ও আলাদা একটা পরিচয় এনে দিয়েছে। আগামী দিনে আরও এগিয়ে চলুক সেটাই চাইবো।”
