Pandua Cattle Market: সেই স্বাধীনতার আগে থেকে বসত, এখন বন্ধ হওয়ার মুখে পান্ডুয়ার গরুর হাট
পান্ডুয়ার বিজেপি বিধায়ক তুষার মজুমদার বলেন, "সরকার যে গাইড লাইন বেধে দিয়েছে, তা যদি মেনে চলা হয় তাহলে বন্ধ হওয়ার কথা নয়। অনেক ব্যবসায়ী আছেন তাঁরা যদি সরকারি নিয়ম মেনে চলেন তাহলে আশা করি অসুবিধা হবে না। আইনের বাইরে কেউ নয়, তাই সরকারি নিয়ম আমাদের সকলকেই মানতে হবে। যাঁরা ভয় পাচ্ছেন তাঁরা ভয় না পেয়ে নির্দিষ্ট জায়গা যোগাযোগ করলে সমস্যার সমাধান হবে।"

হুগলি: দেশ স্বাধীন হয়নি, তখন থেকেই পান্ডুয়ার গবাদি পশুর হাট চালু হয়। আর তারপর থেকে একটানা চলে আসছে এই হাট। পান্ডুয়া হাসপাতাল থেকে কিছুটা দূরে জিটি রোডের পাশেই রয়েছে কয়েক বিঘা জায়গার উপর এই গবাদি পশুর হাট । বর্তমানে এই হাট প্রায় বন্ধের মুখে। হাতে গোনা কয়েকটা গরু রয়েছে হাটে, কিন্তু তাও কেনার জন্য কোনও ক্রেতার দেখা নেই। এই হাটে উপর নির্ভর করেই চলত বহু পরিবার। কেউ গোবর থেকে ঘুঁটে তৈরি করে, আবার কেউ গরুকে জল খাইয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু এই হাটে গরু না আসায় কর্মহীন হয়ে পড়ছেন তাঁরা। ফলে আগামী দিনে কীভাবে তাঁদের সংসার চলবে সেটাই বুঝে উঠতে পারছেন না অনেকে। ঠিক তেমনি এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ। কেউ লোন নিয়ে গরু কিনেছেন, কেউ আবার গাড়ির ব্যবসা সঙ্গে যুক্ত ফলে তাঁরাও কর্মহীন হচ্ছেন। বিহার সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গরু আসত এই হাটে। হুগলি সহ জেলার বাইরের ক্রেতারা এই হাটে গরু নিতে আসতেন। বর্তমানে হাট খোলা থাকলেও ক্রেতার দেখা নেই। তবে, বিজেপি নেতাদের আশ্বাস সঠিক কাগজ পত্র থাকলে কোনও সমস্যাই হওয়ার কথা নয়।
ব্যবসায়ী শেখ লালবাবু, গোবিন্দ মল্লিক, ওমপ্রকাশ সাউ, সেখ জাহির আব্বাসরা বলেন, “কয়েক হাজার মানুষ এই হাটের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। হাট প্রায় বন্ধ হওয়ার মুখে। বাইরে থেকে কোনও গরু আসছে না। কোনও ক্রেতারও দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে আমরা চরম সমস্যার মধ্যে পড়েছি। ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে চরম আর্থিক সমস্যার মধ্যে পড়েছি। কীভাবে পরিবার সামলাবো সেটাই এখন বুঝে উঠতে পারছি না। লোন নিয়ে গরু কিনেছিলাম কিন্তু তা এখন কিভাবে শোধ করব সেটাও বুঝতে পারছি না। সরকারের কাছে আবেদন আমাদের রুজি-রুটির উপরে যেন আর আঘাত না আসে।”
গরু হাট মালিক মফিজুর রহমান বলেন, “হাট খোলা, কিন্তু কোনও ক্রেতা না আসায় প্রায় বন্ধের মুখে দাঁড়িয়েছে। এই হাট আমাদের সরকারি লাইসেন্স প্রাপ্ত। সরকারি নির্দেশ রয়েছে হাট খোলা রাখতে কিন্তু হাট খোলা রাখলে পরেও গরু আসা যাওয়া হচ্ছে না। প্রশাসন থেকে আটকে দেওয়া হচ্ছে। ১৯৪৫ সালে থেকে চলছে এই হাট। এই হাটের সঙ্গে প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে ১০ থেকে ১৫ হাজার মানুষ যুক্ত আছে। পান্ডুয়ার অর্থনীতি অনেকটা নির্ভর করে এই হাটের ওপরে কিন্তু সেই হাট বন্ধ হওয়ার ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়েছে। তবে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব তারা আশ্বাস দিয়েছেন হাট চালাতে। আমরা সব সময় সরকারের পাশে আছি, তারা যেমন নির্দেশ দেবেন আমরা সেই রকম পালন করব। তবে আমরা সবসময় চেষ্টা করব সরকারকে সহযোগিতা করতে।”
পান্ডুয়ার বিজেপি বিধায়ক তুষার মজুমদার বলেন, “সরকার যে গাইড লাইন বেধে দিয়েছে, তা যদি মেনে চলা হয় তাহলে বন্ধ হওয়ার কথা নয়। অনেক ব্যবসায়ী আছেন তাঁরা যদি সরকারি নিয়ম মেনে চলেন তাহলে আশা করি অসুবিধা হবে না। আইনের বাইরে কেউ নয়, তাই সরকারি নিয়ম আমাদের সকলকেই মানতে হবে। যাঁরা ভয় পাচ্ছেন তাঁরা ভয় না পেয়ে নির্দিষ্ট জায়গা যোগাযোগ করলে সমস্যার সমাধান হবে।”
