Hooghly: BLO-সহ পরিবারের ৭ সদস্যের নাম অমীমাংসিতের তালিকায়, শুরু রাজনৈতিক তরজা

SIR in Bengal: বিএলও মনিরউদ্দিন মল্লিক বলেন, "১১০ জনের নাম অমীমাংসিতের তালিকায় রয়েছে। তাতে আমিও রয়েছি। কিন্তু, অবাক লেগেছে, আমার মায়ের বয়স ১০২ বছর। যাঁর নাম স্বাধীনতার পর দেশের প্রথম ভোটার তালিকায় ছিল। তাঁর নাম অমীমাংসিতের তালিকায়। এটাই বড় দুঃখের।"

Hooghly: BLO-সহ পরিবারের ৭ সদস্যের নাম অমীমাংসিতের তালিকায়, শুরু রাজনৈতিক তরজা
একটি বুথে ১০০ জনের বেশি ভোটারের নাম অমীমাংসিতের তালিকায়Image Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: সঞ্জয় পাইকার

Mar 02, 2026 | 6:29 PM

আরামবাগ: বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের এনুমারেশন ফর্ম বিলি করেছেন। সংগ্রহ করেছেন। এবার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেল বিএলও-র নামই অমীমাংসিতের তালিকায়। শুধু একা বিএলও নন, তাঁর পরিবারের আরও ৬ জনের নাম এই তালিকায় রয়েছে। আবার তাঁর বুথের মোট ১১০ জনের নাম ‘বিচারাধীন তালিকায়’। প্রত্যেকেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। আরামবাগের মায়াপুর-১ পঞ্চায়েতের মালিপুকুরে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ১৫৮ নম্বর বুথের এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ ভোটাররা।

এই বুথের মোট ভোটার সংখ্যা ৬০০। তার মধ্যে ১১০ জনের নাম ভোটার তালিকায় ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বুথের বিএলও প্রাথমিক শিক্ষক মনিরউদ্দিন মল্লিক ২০১১ সাল থেকে বিএলও-র দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এবারও এসআইআর-র কাজ করেছেন। অথচ তাঁর নামই বিচারাধীন তালিকায়। এমনকী তাঁর ১০২ বছর বয়সী মা, স্ত্রী সহ পরিবারের সাতজনের নাম বিচারাধীন তালিকায়। এছাড়া এই বুথে বিচারাধীন তালিকায় থাকা ভোটারদের অধিকাংশেরই পাসপোর্ট রয়েছে। প্রত্যেকে হেয়ারিং-এ অংশ নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিয়েছেন। তারপরও কেন এই পরিস্থিতি, তা ভেবে পাচ্ছেন না তাঁরা। সব নথি দিয়েছেন বলে তাঁদের দাবি। তারপরও কেন তাঁদের নাম অমীমাংসিতের তালিকায় থাকবে, সেই প্রশ্ন তুলছেন।

BLO মনিরউদ্দিন মল্লিক বলেন, “বুথটা খুব একটা বড় নয়। ৬০০ ভোটারের মধ্যে ২৪২ জনকে হিয়ারিংয়ে ডাকা হয়। অবাক হয়ে যাই। অক্লান্ত পরিশ্রম করে সবার নথি জমা দিই। চূড়ান্ত তালিকা বেরনোর কয়েকদিন আগে আবার রি-ভ্যারিফিকেশের জন্য একশো জনের বেশি ভোটারকে ডাকেন এইআরও। এখন দেখি ১১০ জনের নাম অমীমাংসিতের তালিকায়। তাতে আমিও রয়েছি। কিন্তু, অবাক লেগেছে, আমার মায়ের বয়স ১০২ বছর। যাঁর নাম স্বাধীনতার পর দেশের প্রথম ভোটার তালিকায় ছিল। তাঁর নাম অমীমাংসিতের তালিকায়। এটাই বড় দুঃখের।”

এই নিয়ে বিজেপিকে নিশানা করেছে রাজ্যের শাসকদল। তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক স্বপন নন্দী বলেন, “বিজেপির ইন্ধনে বিশেষ সম্প্রদায়ের নাম বাদ দিচ্ছে। কিংবা বিচারাধীন রাখছে। তবে বাংলার মাটি শক্ত ঘাঁটি। মানুষের অন্তরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম লেখা হয়ে গিয়েছে। মানুষ চতুর্থবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী করবেন।”

তৃণমূলের অভিযোগ উড়িয়ে আরামবাগের বিজেপি বিধায়ক মধুসূদন বাগ বলেন, “বিএলও, এইআরও, ইআরও আমরা নিয়োগ করিনি। ডেটা এন্ট্রি অপারেটর দেয়নি রাজ্য সরকার। প্রশাসনের ত্রুটি তৃণমূল কংগ্রেস স্বীকার করুক। মানুষ বুঝতে পারছে, এ কাজ বিজেপির নয়।”