Tribeni Dakat Kali: নরবলির মুখে সাধক রামপ্রসাদ! ত্রিবেণীর ঐতিহাসিক ‘ডাকাত কালী’ পুজো ঘিরে নানা রোমাঞ্চকর কাহিনী
Tribeni Dakat Kali Temple Legend: স্থানীয় প্রচলিত কাহিনী অনুযায়ী, বহু বছর আগে ত্রিবেণী ও তার আশেপাশের জঙ্গলময় এলাকা ছিল রঘু ডাকাত ও তার দলবলের সাম্রাজ্য। তারা বিশ্বাস করত, মা কালীর কৃপা ছাড়া কোনো অভিযানে সফলতা সম্ভব নয়। তাই ডাকাতি করতে বের হওয়ার আগে গভীর রাতে দেবীর আরাধনা করত ডাকাতরা।

হুগলি: দীপান্বিতা অমাবস্যায় পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে যখন শক্তি আরাধনার ধুম, তখন হুগলির ঐতিহাসিক শহর ত্রিবেণীর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে ওঠে ঐতিহ্যবাহী ‘ডাকাত কালী’র পুজো। শুধু ধর্মীয় ভক্তিশ্রদ্ধা নয়, লোকগাথা ও রহস্যময় ইতিবৃত্তে মোড়া এই মন্দির ঘিরে রয়েছে শত শত বছরের রোমাঞ্চকর ইতিহাস।
স্থানীয় প্রচলিত কাহিনী অনুযায়ী, বহু বছর আগে ত্রিবেণী ও তার আশেপাশের জঙ্গলময় এলাকা ছিল রঘু ডাকাত ও তার দলবলের সাম্রাজ্য। তারা বিশ্বাস করত, মা কালীর কৃপা ছাড়া কোনো অভিযানে সফলতা সম্ভব নয়। তাই ডাকাতি করতে বের হওয়ার আগে গভীর রাতে দেবীর আরাধনা করত ডাকাতরা। এমনকি দেবীকে সন্তুষ্ট করতে দেওয়া হতো নরবলিও। কিংবদন্তি রয়েছে, একবার সাধক রামপ্রসাদ সেন এই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় রঘু ডাকাতের হাতে ধরা পড়েন। দেবী কালীর সামনে তাঁকে বলি দেওয়ার সমস্ত প্রস্তুতও সম্পন্ন করা হয়েছিল। কিন্তু রামপ্রসাদের ভক্তিগীতি শুনে এবং অলৌকিক অভিজ্ঞতায় ডাকাতরা সাধকের মধ্যে দেবীর দর্শন পায় এবং তাঁকে স্বসম্মানে মুক্তি দেয়।
কালক্রমে নরবলির প্রথা উঠে গেলেও সেই ইতিহাস আজ থমকে আছে দেবীর আচারের মধ্যে। ত্রিবেণীর এই ডাকাত কালীর পুজোয় আজও বজায় রাখা হয়েছে বেশ কিছু প্রাচীন রীতিনীতি। এই পুজোর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো মায়ের ভোগ। দেবীকে অন্য পদ ও অন্নভোগের পাশাপাশি নিবেদন করা হয় বিশেষ ঐতিহ্যবাহী ‘ল্যাটা মাছ পোড়া’। বহু ভক্ত আজও এই ঐতিহাসিক মন্দির ও প্রথার শরিক হতে দূর-দূরান্ত থেকে ত্রিবেণীতে ভিড় জমান।
