
সিঙ্গুর: এসআইআর-র শুনানির নোটিস পেয়েছিলেন পরিযায়ী দম্পতি। উত্তর প্রদেশ থেকে স্ত্রী ফিরে আসেন ২ দিন আগে। কিন্তু, সশরীরে ফেরা হল না যুবকের। তাঁর নিথর দেহ ফিরল বাড়িতে। পরিবারের অভিযোগ, গলা কেটে যুবককে খুন করা হয়েছে। মৃতের নাম শেখ সৈদুল্লা (৩৫)। তাঁর বাড়ি হুগলির সিঙ্গুরের দেওয়ানভেড়ি গ্রামে। শুক্রবার সকালে গ্ৰামে মৃতদেহ ফিরতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিজনরা।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দেওয়ানভেড়ি গ্রামের বছর পঁয়ত্রিশের শেখ সৈদুল্লা উত্তর প্রদেশে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতেন। সেখানে অরাইয়া থানা এলাকায় ভাড়া ঘরে স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে থাকতেন। এসআইআর-র নোটিস পান স্বামী-স্ত্রী। শুনানির জন্য তাঁর স্ত্রী ২ দিন আগে গ্রামের বাড়ি ফিরে আসেন। যুবকের শুনানি ছিল ১৯ জানুয়ারি। কিন্তু গত ১৪ জানুয়ারি ভাড়াবাড়ি থেকে ওই যুবককে মৃত অবস্থায় সেখানকার পুলিশ উদ্ধার করে। ঘটনার পর সেখানে তাঁর ময়নাতদন্ত হয়েছে।
এদিন সকালে তাঁর মৃতদেহ এসে পৌঁছায় সিঙ্গুরের দেওয়ানভেড়ি গ্ৰামে। সঙ্গে উত্তর প্রদেশের পুলিশও ছিল। বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তৃণমূল বিধায়ক করবী মান্না। পাশাপাশি উত্তর প্রদেশ থেকে আসা পুলিশের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। বিজেপিকে নিশানা করে করবী মান্না বলেন, “বিজেপি শাসিত রাজ্যে এই ঘটনা অহরহ ঘটছে। বাংলার যুবকরা ভিনরাজ্যে কাজে যেতে ভয় পাচ্ছেন। অথচ এখানে অন্য রাজ্যের লোক ভালভাবে কাজ করছেন। ওই যুবককে খুন করা হয়েছে। বিজেপিকে ধিক্কার জানাই।”
তৃণমূলের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। স্থানীয় বিজেপি নেতা স্বরাজ ঘোষ বলেন, “বিজেপি শাসিত রাজ্যে সুষ্ঠুভাবে কাজ করছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। সেখান থেকে রোজগার করছেন। আমরা মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করি না। এটা দুঃখজনক ঘটনা। শাসকদল বরং এটা ভাবুক, কেন বাংলা থেকে মানুষ অন্য রাজ্যে কাজ করতে যাচ্ছেন। বাংলায় মহিলাদের উপর যেরকম অত্যাচার হয়, সেটা অন্য কোথাও হয় না।”
মৃতের স্ত্রী আরমিনা বেগম বলেন, “আমার স্বামীকে ফোনে না পেয়ে ২ দিন আগে ওখানে একজনকে ফোন করি। তিনি আমাকে বলেন, বড় কাউকে ফোন দিতে। আমার ভাসুরকে ফোন দিই। তখনই সব জানা যায়। আমার স্বামীকে গলা কেটে খুন করা হয়েছে।” মৃতের বাবা শেখ আফসার বলেন, “বাঙালি বলে আমার ছেলেকে খুন করেছে। এতদিন আমার বৌমা ছিল বলে মারতে পারেনি। একা পেয়ে খুন করেছে। ভয়ে আর কেউ ওখানে যাবে না।”
এদিকে, উত্তর প্রদেশে সিঙ্গুরের যুবককে খুনের অভিযোগ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করলেন ত্বহা সিদ্দিকী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন বাংলার সরকার প্রতিনিধি দল পাঠায় না? তিনি বলেন, “একাধিক রাজ্যে বাঙালিদের মারা হচ্ছে। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী কি ঘুমোচ্ছেন? যেখানে যেখানে মারা হচ্ছে, সেখানে প্রতিনিধি দল পাঠানো হচ্ছে না কেন? দুর্গাপুরে ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনায় ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী বার বার যোগাযোগ করছিলেন। আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর কোনও আওয়াজ নেই কেন? যোগাযোগ করছেন না কেন? শুধু মঞ্চে উঠে বক্তব্য রাখছেন, এটা প্রতিবাদ নয়। প্রতিবাদ করতে হলে অন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।প্রতিবাদ হচ্ছে না বলেই খুন বেড়ে যাচ্ছে।”