AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Jalpaiguri: কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ, ধূপগুড়িতে প্রকাশ্যে তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল

এরই মধ্যে বর্তমান অঞ্চল সভাপতি নূর আলম প্রকাশ্যে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য জাহাঙ্গীর কবীরের বিরুদ্ধে। নূর ইসলামের অভিযোগ, এলাকায় ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হোস্টেলে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাতজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, PHE দফতরের কাজ বা সুযোগ করে দেওয়ার নাম করেও অর্থ আদায় করা হয়েছে।

Jalpaiguri: কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ, ধূপগুড়িতে প্রকাশ্যে তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল
তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল প্রকাশ্যেImage Credit: TV9 Bangla
| Edited By: | Updated on: Feb 07, 2026 | 3:27 PM
Share

জলপাইগুড়ি:  বিধানসভা নির্বাচনের আগে ধূপগুড়িতে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে। মাগুরমাড়ি দু’নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃনমূল অঞ্চল সভাপতি নাম ঘোষণার পর থেকেই আড়াআড়িভাবে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে তৃণমূল। এক গোষ্ঠী যখন নতুন অঞ্চল সভাপতির পদত্যাগের দাবি করছেন, তখন অপর গোষ্ঠী তৃণমূল পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে একাধিক মানুষের কাছ থেকে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে। যাকে ঘিরে তীব্র অস্বস্তিতে শাসক দলে।

বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে আসছে ধূপগুড়িতে। ধূপগুড়ি ব্লকের মাগুরমাড়ি দু’নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে নতুন অঞ্চল সভাপতি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্য অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগে রীতিমতো রাজনৈতিক উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।

দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাগুরমাড়ি দু’নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের অঞ্চল সভাপতি হয়েছেন নূর ইসলাম এবং পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য হিসেবে রয়েছেন জাহাঙ্গির কবির। এই ঘোষণার পর থেকেই জাহাঙ্গির কবীর ঘনিষ্ঠ একাংশের তরফে অসন্তোষ প্রকাশ পায়। তাদের দাবি, অঞ্চল সভাপতি বদল না হলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তাঁরা দলীয় সমস্ত কাজ থেকে সরে দাঁড়াবে। এই হুঁশিয়ারিতে চাপের মুখে পড়েছে শাসক দল তৃণমূল।

এরই মধ্যে বর্তমান অঞ্চল সভাপতি নূর আলম প্রকাশ্যে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য জাহাঙ্গীর কবীরের বিরুদ্ধে। নূর ইসলামের অভিযোগ, এলাকায় ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হোস্টেলে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাতজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, PHE দফতরের কাজ বা সুযোগ করে দেওয়ার নাম করেও অর্থ আদায় করা হয়েছে। একইভাবে অঙ্গনওয়াড়িতে চাকরি এবং বন দফতরে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেখিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগও প্রকাশ্যে আনেন নূর ইসলাম।

শুধু তাই নয়, নূর আলম অভিযোগ করেন, এলাকায় কোনও সমস্যা হলে থানায় মিটিয়ে দেওয়ার কথা বলে পুলিশকে টাকা দিতে হবে এই অজুহাতে বহু গরিব মানুষের কাছ থেকেও টাকা তোলা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, গত প্রায় ৩০ বছর ধরে মাগুরমাড়ি দু’নম্বর অঞ্চলকে কার্যত শেষ করে দেওয়া হয়েছে এবং দু’একজনের স্বার্থে এলাকায় একনায়কতন্ত্র চলছে।

এই প্রসঙ্গে নূর আলম প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “দম থাকলে আমার সামনে সামনে এসে বসুক।” নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি আরও বলেন, “আমার নামে যদি কেউ একটা অভিযোগও প্রমাণ করতে পারে যে আমি কারও কাছ থেকে টাকা নিয়েছি, তাহলে জলঢাকা নদীর পাশে ফাঁসির মঞ্চ তৈরি করে স্বেচ্ছামৃত্যু গ্রহণ করব।” তাঁর দাবি, আগের অঞ্চল সভাপতির সরলতার সুযোগ নিয়েই এই সমস্ত আর্থিক লেনদেন হয়েছে।

অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যে তৃণমূলের অন্দরের এই ‘কেচ্ছা’ প্রকাশ্যে চলে আসায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। এই পরিস্থিতিকে হাতিয়ার করে শাসক দলকে আক্রমণে নেমেছে বিরোধী দল বিজেপি। বিজেপির দাবি, তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল ও কাটমানির অভিযোগই প্রমাণ করছে যে শাসক দলের ভিতরে দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলা চরমে পৌঁছয়।

সব মিলিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের আগে ধূপগুড়ির মাগুরমাড়ি দু’নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠী কোন্দল শাসক দলের জন্য বাড়তি চাপ ও অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।