
জলপাইগুড়ি: শুনানিতে আসা এক বৃদ্ধা মহিলা ভোটারকে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দেওয়ার অভিযোগ উঠল এক বিডিও অফিসের কর্মীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার ব্যাপক চাপানউতোর জলপাইগুড়ি সদর বিডিও অফিস। অভিযুক্ত জয়েন্ট বিডিও-র শাস্তির দাবিতে বিডিও অফিস ঘেরাও করে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখান তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও পুরোমাত্রায় শুরু হয়ে গিয়েছে চাপানউতোর।
তবে ঘটনার সূত্রপাত সোমবার। স্থানীয় সূত্রে খবর, জলপাইগুড়ি বেলাকোবা অঞ্চলের বাসিন্দা পিঙ্কি রায় নামে এক বৃদ্ধাকে এসআইআর শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি শুনানি কেন্দ্রে আসেন। অভিযোগ, শুনানি চলাকালীন জয়েন্ট বিডিও ওই বৃদ্ধার নথিপত্র ছুঁড়ে ফেলে দেন। তখনই তাঁকে বাংলাদেশি বলে কটাক্ষ করেন। এই অপমান মেনে নিতে পারেননি পিঙ্কি দেবী। প্রতিবাদে সোমবার রাতেই শুনানি কেন্দ্রে অবস্থানে বসেন ওই মহিলা। খবর পেয়ে ছুটে আসে পুলিশ। তাঁকে ওই জায়গা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু খবর চাউর হতেই রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর শুরু হয়ে যায়।
তপ্ত হয়ে ওঠে মঙ্গলবার দুপুর। তৃণমূলের এসসি ওবিসি (SC/OBC) সেলের জেলা সভাপতি কৃষ্ণ দাসের নেতৃত্বে কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক বিডিও অফিস ঘেরাও করে ফেলে। সরাসরি বিডিও মিহির কর্মকারের ঘরে ঢুকে পড়েন। জয়েন্ট বিডিও-র আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানান। কৃষ্ণ দাসের সঙ্গে বিডিও-র উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ও হয় বলে জানা যায়। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, একজন বৈধ ভারতীয় নাগরিককে এভাবে জনসমক্ষে অপমান করা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
যদিও জয়েন্ট বিডিও এদিন অফিসে না থাকায় তাঁর ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিডিও মিহির কর্মকার তাঁর সহকর্মীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করতে রাজি নয়। তিনি বলছেন, “আমাদের কর্মীরা এই কথা বলেননি। আমি ওই মহিলাকে আমার সঙ্গে দেখা করার জন্য বলেছি।”