
জলপাইগুড়ি: ঝড়-বৃষ্টিতে লন্ডভন্ড উত্তরবঙ্গ। রবিবার সন্ধেয় ঝড়ের দাপটে জলপাইগুড়িতে মৃত্যু হয়েছ ৫ জনের। আহত কমপক্ষে ১০০ জন। দুর্যোগের খবর পেয়েই রাতেই জলপাইগুড়িতে ছুটে যান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেখা করেন এক নিহতের পরিবারের সঙ্গে। আজ, সোমবার সকালেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসও। এদিকে, বাংলার দুর্যোগ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। রাতেই তিনি এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে উদ্বেগ ও দুঃখ প্রকাশ করেন। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকা ও সাহায্য করার নির্দেশ দেন বিজেপির কার্যকর্তাদের।
রবিবার সন্ধেয় হঠাৎ ঝড় ওঠে। সঙ্গে মুষলধারে বৃষ্টি। ঝড়বৃষ্টিতে লন্ডভন্ড হয়ে যায় জলপাইগুড়ি সদর ও ময়নাগুড়ি ব্লকের বেশ কিছু এলাকা। সুকান্তনগর এলাকায় গাছ চাপা পড়ে মৃত্যু হয় এক পথচারীর। পাহাড়পুরেও টোটো উল্টে মৃত্য়ু হয় এক মহিলার। মাথাভাঙায় বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আলিপুরদুয়ার ১- ব্লক ও কুমারগ্রামেও ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
ঝড়বৃষ্টিতে মৃত্যুর খবর পেয়েই ছুটে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এক নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি বলেন, বলেন, “আমি দেখলাম ভয়াবহ ঝড়টা এসেছিল। ক্ষতি কোচবিহারেও হয়েছে, আলিপুরদুয়ারেও হয়েছে। কিন্তু জলপাইগুড়ির ক্ষতিটা হল, ৫ জন মারা গিয়েছেন। একটি বাচ্চাকে নিয়ে আসা হচ্ছে রাতেই। আরেকজনকে উত্তরবঙ্গ হাসপাতালে শিফট করা হচ্ছে। কাল বিকালে অভিষেক আসবে, দেখে নেবে। রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ পাশে আছে।”
রাতে পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। তিনি লেখেন, “জলপাইগুড়ি-ময়নাগুড়িতে ঝড়বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্তদের এবং যারা প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাদের প্রতি আমার সমবেদনা রইল। আমি আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেছি, যারা ঝড়-বৃষ্টিতে প্রভাবিত হয়েছেন, তাদের সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছি। আমি বিজেপির কার্যকর্তাদেরও বলছি ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করুন।”
প্রধানমন্ত্রীর পরে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডাও দলীয় কর্মীদের জলপাইগুড়ি এবং ময়নাগুড়ির প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর জলপাইগুড়িতে যাওয়া নিয়েও তরজা শুরু হয়েছে। বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য এক্স পোস্টে কটাক্ষ করে লেখেন, “বঙ্গ বিজেপি রাজ্য সরকারের উত্তরবঙ্গের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ তুলে ধরার পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জলপাইগুড়িতে গেলেও, আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক মনোজ টিগ্গা ও জলপাইগুড়ির সাংসদ ডঃ জয়ন্ত রায় কয়েক ঘণ্টা ধরে তাদের দল নিয়ে ঘটনাস্থলে রয়েছেন। আহতদের সঙ্গে দেখা করে, তাদের সঠিক চিকিৎসার যাতে ব্যবস্খা হয়, তা নিশ্চিত করছেন। প্রধানমন্ত্রীও পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছেন। এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গিয়ে কী হবে? স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে উত্তরবঙ্গের মানুষদের প্রতি তাঁর উদ্বেগ পুরোটাই নকল”।