TMC leader Join BJP: নিয়োগ দুর্নীতিতে নাম জড়ানো পরেশ অধিকারী কেন প্রার্থী? প্রশ্ন তুলে বিজেপিতে যোগদান TMC কাউন্সিলরের
তৃণমূলের শহর ব্লক সভাপতি তথা হলদিবাড়ি পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান অমিতাভ বিশ্বাস বলেন, "এরা স্বামী-স্ত্রী উভয়েই স্বার্থপর। মহিলা বিল পাশ হলে এই লোকসভা মহিলা সংরক্ষিত আসন হবে। তখন ভোটে দাঁড়াবে। এটা সাধারণ মানুষ জানে। এদের বিজেপিতে যোগদান করায় তৃণমূলের কোনও ক্ষতি হবে না। ভোটে এর বিন্দুমাত্র প্রভাব পড়বে না।"

জলপাইগুড়ি: মেখলিগঞ্জে তৃণমূল প্রার্থী হয়েছেন ফের একবার পরেশচন্দ্র অধিকারী (Paresh Chandra Adhikari)। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি (Teacher Recruitment Scam) মামলায় পরোক্ষে জড়িয়েছিল তাঁর নাম। অভিযোগ উঠছিল, নিজের প্রভাব খাটিয়ে মেয়েকে সরকারি চাকরি করে দিয়েছেন তিনি। সেই পরেশকে ফের একবার দল প্রার্থী করতেই ক্ষুব্ধ হলদিবাড়ি পৌরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর পুরবি রায় প্রধান। তৃণমূল ছেড়ে যোগদান করলেন বিজেপিতে। তবে,পাল্টা ঘাসফুল শিবিরের দাবি, কাউন্সিলর পদ ত্যাগ করে তবেই যেন তিনি বিজেপিতে যান।
সম্প্রতি দল বদল করেন, মেখলিগঞ্জের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অর্ঘ্য রায় প্রধান। বিজেপি রাজ্য দফতরে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে শমীক ভট্টাচার্যর হাত থেকে দিন কয়েক আগে গেরুয়া পতাকা তুলে নিয়েছিলেন। এইবার স্বামীর পথ ধরে তৃণমূল ছাড়লেন অর্ঘ্য জায়া পূরবী। বুধবার রাতে বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপী গোস্বামীর হাত থেকে পদ্ম পতাকা গ্রহণ করেন তিনি।
১১ আসন বিশিষ্ট তৃণমূল পরিচালিত হলদিবাড়ি পৌরসভা। এই পুরসভার ১১আসনই এতদিন তৃণমূলের দখলে ছিল। ছাব্বেশের নির্বাচনের দোড় গোড়ায় এসে তৃণমূল কাউন্সিলরকে দলবদল করিয়ে এই পৌরসভায় এবার থাবা বসালো বিজেপি। পদ্ম শিবির সূত্রে জানা গেছে, আরও কয়েকজন তৃণমুল কাউন্সিলর তাঁদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখেছে। দলের শীর্ষ নেতাদের কাছ থেকে সবুজ সংকেত পেলেই তাঁদেরও যোগদান করানো হবে।
কে এই পূরবী রায় প্রধান?
পূরবী দেবী কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ মহকুমার হলদিবাড়ি পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। তিনি মেখলিগঞ্জের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অর্ঘ্য রায় প্রধানের স্ত্রী। পাশাপাশি রাজ্যের অন্যতম বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ তথা দেশের ১ নং লোকসভা আসন, কোচবিহার আসন থেকে টানা আট বারের সাংসদ অমর রায় প্রধানের পুত্রবধূ।যদিও, তাঁর বিজেপিতে যোগদান করা নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ ঘাসফুল নেতৃত্ব।
যোগদান নিয়ে কী বলছেন পূরবী?
পূরবী দেবী বলেন, “মেখলিগঞ্জ বিধানসভা আসনের তৃণমূল প্রার্থী পরেশ অধিকারী। এই মানুষটার শিক্ষা দুর্নীতির জন্য রাজ্যের ২৬ হাজার ছেলেমেয়েরা আজ অকুল পাথারে। তাই ওঁর হয়ে ভোট চাইতে মানুষের দুয়ারে যেতে পারব না। তাই আমি দল ছেড়েছি।”
তৃণমূলের শহর ব্লক সভাপতি তথা হলদিবাড়ি পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান অমিতাভ বিশ্বাস বলেন, “এরা স্বামী-স্ত্রী উভয়েই স্বার্থপর। মহিলা বিল পাশ হলে এই লোকসভা মহিলা সংরক্ষিত আসন হবে। তখন ভোটে দাঁড়াবে। এটা সাধারণ মানুষ জানে। এদের বিজেপিতে যোগদান করায় তৃণমূলের কোনও ক্ষতি হবে না। ভোটে এর বিন্দুমাত্র প্রভাব পড়বে না।”
বর্তমান বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অর্ঘ্য রায় প্রধান বলেন, “এরা বিন্দুমাত্র খোঁজ রাখে না। এবার যেই মহিলা বিল পাশ হবে তা আগামী ২০৩৬ সালে ইমপ্লিমেন্ট হবে। আর সেইসময় জন বিন্যাস অনুযায়ী এই আসন যদি তপশিলি সংরক্ষণ হয় তাহলে এই আসন SC মহিলা হবে। কিন্তু আমার স্ত্রী জন্মসুত্রে উচ্চবর্নের হিন্দু। তাই সে ওই সুবিধা নিতেও পারবে না।”
