Ghagra Waterfall: ‘শেষ যাওয়া বলবেন না প্লিজ…’, প্রীতির হারিয়ে যাওয়ায় উঠছে অনেক প্রশ্ন
Waterfall Accident: প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, জলপ্রপাতের ধারে পা ঝুলিয়ে বসে ছিল ছেলে প্রিয়ঙ্কন। আচমকাই পা পিছলে জলে পড়ে যায় সে। ছেলেকে বাঁচাতে সঙ্গে সঙ্গে জলে ঝাঁপ দেন মা প্রীতি। রাজদীপ কোনওরকমে ছেলেকে উদ্ধার করতে পারলেও, স্ত্রী প্রীতিকে উদ্ধার করতে পারেননি। মুহূর্তের মধ্যে জলের তীব্র স্রোতে তলিয়ে যান তিনি। এখনও পর্যন্ত তাঁর খোঁজ মেলেনি।

ঝাড়গ্রাম: সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে ঘাগরা জলপ্রপাতে মর্মান্তিক পরিণতি হয়েছে মহিলা পর্যটকের। ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছেন বারুইপুরের বাসিন্দা প্রীতি দত্ত। প্রায় ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরও তাঁর কোনও খোঁজ মেলেনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন তুলছেন পরিবারের সদস্যরা। তবে, এখনও তাঁদের আশা, প্রীতি ফিরে আসবেন।
কী বলছে দত্ত পরিবার?
শনিবারের এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে বারুইপুরের বেনিয়াডাঙা গ্রামে। বারুইপুর থানার হরিহরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বেনিয়াডাঙা গ্রামের বর্ধমান পাড়ার বাসিন্দা রাজদীপ দত্ত পেশায় বেসরকারি সংস্থার কর্মী। স্ত্রী প্রীতি দত্ত এবং সাত বছরের ছেলে প্রিয়ঙ্কন দত্তকে নিয়ে বেলপাহাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন তিনি। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দেড় বছর আগে রাজদীপের বাবা মারা যাওয়ার পর এই পরিবারের কোথাও যাওয়া হয়নি। তাই পুজোর ঠিক আগেই সুযোগ বুঝে বেরিয়ে পড়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু সেই আনন্দ যে এমন দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে, তা তাঁরা আশাও করেননি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, জলপ্রপাতের ধারে পা ঝুলিয়ে বসে ছিল ছেলে প্রিয়ঙ্কন। আচমকাই পা পিছলে জলে পড়ে যায় সে। ছেলেকে বাঁচাতে সঙ্গে সঙ্গে জলে ঝাঁপ দেন মা প্রীতি। রাজদীপ কোনওরকমে ছেলেকে উদ্ধার করতে পারলেও, স্ত্রী প্রীতিকে উদ্ধার করতে পারেননি। মুহূর্তের মধ্যে জলের তীব্র স্রোতে তলিয়ে যান তিনি। এখনও পর্যন্ত তাঁর খোঁজ মেলেনি। রাজদীপের এক আত্মীয় বলেন, “অনেকদিন পর বেড়াতে গিয়েছিল। কিন্তু শেষ যাওয়া বলবেন না প্লিজ। প্রার্থনা করুন, যেন ফিরে আসে।”
জলপ্রপাতের ধারে ছিল না কোনও ব্যারিকেড, না কোনও পুলিশ
জানা গিয়েছে, বেলপাহাড়ি থানার পুলিশ প্রতিদিন ঘাগরা জলপ্রপাত এলাকায় ব্যারিকেড দেয়। নজরদারির জন্য দুজন সিভিক ভলান্টিয়ার ও বেলপাহাড়ি থানার পুলিশ মজুত থাকে। সূর্যের আলো পড়ে গেলে জলপ্রপাতের কাছাকাছি আর কাউকে যেতে দেওয়া হয় না। কয়েকদিন সেই নিয়ম মানা হচ্ছিল না বলে অভিযোগ। নিরাপত্তার বলয় ভেদ করে পর্যটকেরা বিপজ্জনক স্থানে চলে যাচ্ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অন্যান্য দিনের মতো জায়গাটিতে পর্যাপ্ত ব্যারিকেড দিয়ে রাখা হয়নি। যাঁরা ডিউটিতে ছিলেন, তাঁরা কেউ কাছাকাছি ছিলেন না। আরও অভিযোগ, যাঁরা ডিউটিতে যান, তাঁরা নজর রাখার পরিবর্তে মোবাইলে ব্যস্ত থাকেন। জলপ্রপাতের থেকে অনেকটা দূরে বসে থাকেন। শনিবারও জলপ্রপাতের ধারেকাছে কেউ ছিলেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঠিক একই জায়গায় ২০২১ সালের ১৮ অগস্ট বারুইপুরের এক ১১ বছরের বালকের মর্মান্তিক পরিণতি হয়েছিল। স্মৃতি এখনও টাটকা। বছর দুয়েক আগে এখানেই মৃত্যু হয়েছিল এক পুলিশ কর্মীরও। বেলপাহাড়ির পর্যটকেরা বলছেন নিরাপত্তার গাফিলতি রয়েছে ঠিকই, তবে ঝুঁকি নিয়ে নামা উচিত হয়নি।
