
কালীগঞ্জ: নদিয়া জেলার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্র হল কালীগঞ্জ। এটি কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। এবারের নির্বাচনে এই কেন্দ্রে সব নজর সিপিএম প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিনের উপর। গত বছরের জুনে কালীগঞ্জে উপনির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বোমার আঘাতে তাঁর নাবালিকা কন্যা তমান্নার মৃত্যু হয়।
ভারতের সীমানা নির্ধারণ কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ৮০ নম্বর এই বিধানসভা কেন্দ্রটি কালীগঞ্জ সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের বড় চাঁদঘর, দেবগ্রাম, ফরিদপুর, গোবরা, হাটগাছা, জুড়ানপুর, কালীগঞ্জ, মাটিয়ারি, মিরা-১, মিরা-২, পানিঘাটা, পলাশী-১ এবং পলাশী-২ গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত। কালীগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের রাজনৈতিক ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন ও বৈচিত্র্যময়। ১৯৫১ সালে স্বাধীন ভারতের প্রথম নির্বাচনে এখান থেকে জয়ী হয়েছিলেন জাতীয় কংগ্রেসের এস. এম. ফজলুর রহমান। পরবর্তী কয়েক দশকে এই আসনটি মূলত কংগ্রেস এবং আরএসপি (RSP)-র মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্র হয়ে ওঠে। দেবশরণ ঘোষ এবং ধনঞ্জয় মোদকের মতো আরএসপি নেতারা দীর্ঘ সময় এই কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নাসিরুদ্দিন আহমেদ (লাল) প্রথমবারের মতো এই আসনে ঘাসফুল শিবিরের জয় নিশ্চিত করেন।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের নাসিরুদ্দিন আহমেদ বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে পুনরায় বিধায়ক নির্বাচিত হন। তবে ২০২৫ সালের জুনে উপনির্বাচনে এক নতুন রাজনৈতিক মোড় আসে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী আলিফা আহমেদ ১০২,৭৫৯ ভোট পেয়ে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির আশিস ঘোষকে প্রায় ৫০,০৪৯ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেন। বর্তমানে আলিফা আহমেদই এই কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। ঐতিহাসিক পলাশীর যুদ্ধক্ষেত্র সংলগ্ন এই কেন্দ্রটি তার কৌশলগত ও রাজনৈতিক গুরুত্বের কারণে সর্বদা রাজ্যের আলোচনার কেন্দ্রে থাকে।
কালীগঞ্জে প্রার্থী কারা?
কংগ্রেস- শেখ কাবিল উদ্দিন
সিপিএম- সাবিনা ইয়াসমিন শেখ
তৃণমূল-আলিফা আহমেদ
বিজেপি-বাপন ঘোষ