Malda: ‘কাল যদি কোনও ডিজাস্টার হয়, আমাকে বলবেন না!’ মুখ্যমন্ত্রী কালই আভাস দিয়েছেন, ২৪ ঘণ্টা পেরনোর আগেই ক্ষোভে রাস্তায় নেমে এলেন মহিলারা
Malda Water Problem: স্থানীয় বাসিন্দা তানজিমা খাতুন,হুসনেরা খাতুন ও তহরুনা বিবিরা বলেন, তিন মাস ধরে ট্যাপকলে জল আসছে না। গ্রামে বাড়ির বেশিরভাগ নলকূপ খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে। জলস্তর নিচে নেমে গিয়েছে। পাম্প অপারেটর পিএইচই'র জল দিয়ে মাখনা ও ভুট্টার জমি সেচ করছে। বলতে গেলে, কোনও কর্ণপাত করছে না জলের চরম সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

মালদহ: মুখ্যমন্ত্রী আগেই আভাস দিয়েছিলেন, কোনও সমস্যা হলে দায় এখন তাঁর নয়। দায় কমিশনের। আর ঠিক তারপরই পানীয় জলের চরম সঙ্কটে বিক্ষোভ। তিন মাস ধরে পিএইচইর জল নেই। গ্রাম জুড়ে জল নিয়ে হাহাকার, বিক্ষোভ। জলের দাবিতে বালতি ও কলসি নিয়ে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে সামিল হলেন হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের সিমলা গ্রামের বাসিন্দারা। অভিযোগ উঠেছে, রাঙ্গাইপুর পিএইচই’র পাম্প অপারেটর সামসুল হকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, পানীয় জল না দিয়ে মাখনা আর ভুট্টার জমিতে জল সরবরাহ করার। পাম্প অপারেটর মাখনার জমিতে জল দেওয়ার কথা স্বীকারও করে নিয়েছেন।
সিমলা গ্রামে তিন মাসের বেশি সময় ধরে রাঙ্গাইপুর পিএইচই’র জল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে গ্রামের অধিকাংশ মানুষ অগভীর নলকূপের অপরিশোধিত আয়রনযুক্ত জল পান করতে বাধ্য হচ্ছেন বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পাম্প অপারেটর বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে জল দিচ্ছে না। সেই জল মাখনা ও ভুট্টার জমিতে সেচের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। গোটা এলাকায় জলের স্তর ক্রমশ নীচে নেমে গিয়েছে। গরম পড়তেই নলকূপে ঠিক ভাবে জল উঠছে না। পরিণতিতে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাঁদের।
স্থানীয় বাসিন্দা তানজিমা খাতুন,হুসনেরা খাতুন ও তহরুনা বিবিরা বলেন, তিন মাস ধরে ট্যাপকলে জল আসছে না। গ্রামে বাড়ির বেশিরভাগ নলকূপ খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে। জলস্তর নিচে নেমে গিয়েছে। পাম্প অপারেটর পিএইচই’র জল দিয়ে মাখনা ও ভুট্টার জমি সেচ করছে। বলতে গেলে, কোনও কর্ণপাত করছে না জলের চরম সঙ্কট দেখা দিয়েছে। পাম্প অপারেটর সামসুল বলেন, “দুটি পাম্প রয়েছে। আমি ১ নম্বর পাম্প অপারেটর। ২ নম্বর পাম্পটি ছ’মাস ধরে খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে। একটি পাম্প দিয়ে জল সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। এখন সেটাওখারাপ হয়ে গিয়েছে।”
যদিও মঙ্গলবার প্রার্থী তালিকা ঘোষণার আগেই মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যেভাবে রাজ্যের সরকারি দফতরের একের পর এক আমলাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাতে কোথাও কোনও সমস্যা হলে, তার দায় রাজ্যের নয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কাল যদি কোনও ডিজাস্টার হয় কে দেখবে? জলের সঙ্কট হলেও বা কে দেখবে? সব দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনা আর বিজেপি-কে নিতে হবে। আইন শৃঙ্খলার সমস্যা হলেও আপনাদের দায়িত্ব নিতে হবে। কেন সরালেন এদের সবাইকে? লোডশেডিং হলে কে দেখবে? এখন কোথাও কোনও সমস্যা হলে প্লিজ আমাকে কেউ দোষ দেবেন না।” প্রসঙ্গত, ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের একাধিক উচ্চ পদস্থ প্রশাসনিক আমলাদের সরিয়ে দিয়েছে কমিশন। সেই প্রক্রিয়া এখনও জারি। সামনেই ইদ। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের কোথাও কোনও সমস্যা হলে তার দায় আর রাজ্যের থাকবে না বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও এইখানে জলের সমস্যা তিন মাস ধরেই চলছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।
