AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Humayun Kabir: ‘ইউসুফ ফালতু লোক, অধীরকে হারিয়ে ভুল করেছি’, জোটের ‘মোহে’ হুমায়ুনের মুখে সেলিমের বুলি?

Humayun Kabir News: বিলম্বে বোধদয়? হুমায়ুনের অনুতাপ ঘিরে তৈরি হয়েছে সেই প্রশ্নই। অবশ্য, তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক তিক্ত হতেই হুমায়ুন বলেছিলেন, কীভাবে বহরমপুরে ইউসুফকে জেতাতে ধর্মের রাজনীতি হয়েছে। নেতৃত্বের নির্দেশে তিনি নিজে তা করেছেন বলেও উল্লেখ করেছিলেন। পরে অনুশোচনাও করেছেন।

Humayun Kabir: 'ইউসুফ ফালতু লোক, অধীরকে হারিয়ে ভুল করেছি', জোটের 'মোহে' হুমায়ুনের মুখে সেলিমের বুলি?
হুমায়ুন কবীরImage Credit: নিজস্ব চিত্র
| Edited By: | Updated on: Feb 13, 2026 | 11:35 PM
Share

মুর্শিদাবাদ: ভোটমুখী বাংলায় ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের মুখে অনুশোচনার বার্তা। বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ তথা প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে হারিয়ে অনুতপ্ত বোধ করছেন হুমায়ুন। কিন্তু এখন কেন? লোকসভা নির্বাচন মিটেছে বহুদিন। হুমায়ুন তৃণমূল ছেড়েছেন বহুদিন। নতুন দলও তৈরি হয়ে কেটে গিয়েছে অনেক দিন। এখন কেন এই অনুতাপ? বিলম্বে বোধদয় নাকি পাখির চোখ জোট সমীকরণ?

কী বললেন হুমায়ুন?

শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন জনতা উন্নয়ন পার্টির আহ্বায়ক হুমায়ুন কবীর। তখনই তাঁর মুখে শোনা যায় এই অনুতাপের কথা। দ্ব্যর্থহীন ভাবে ভরতপুরের বিধায়ক বলেন, “ইউসুফ তো আসেন না। জেতার পর থেকে একদিনও মানুষের সঙ্গে দেখা করতে যায়নি। আজ আমরা অনুতপ্ত ওর মতো একটা ফালতু লোককে বড় খেলোয়াড় ভেবে মানুষকে ভোট দেওয়ার জন্য বলছিলাম। পাঁচবার সাংসদকে হারিয়ে জেলার মানুষ ভুল করেছে, আমরাও ভুল করেছি। ইউসুফ পাঠানকে জেতানোর জন্য আমরা ভোট দিতে বলেছিলাম, সেটা আমাদের ভুল।”

তবে এই ভুল যে তিনি সংশোধন করবেন, সেই বার্তাও দিয়েছেন হুমায়ুন। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ইউসুফকে ‘গো হারা হারানোর’ দাবি করেছেন ভরতপুরের বিধায়ক। চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন সরাসরি তৃণমূল সুপ্রিমোর দিকে। তাঁর কথায়, “ক্ষমতা থাকলে ইউসুফকে জিতিয়ে দেখাবেন।”

হাওয়া-বদলের কারণ কী?

বিলম্বে বোধদয়? হুমায়ুনের অনুতাপ ঘিরে তৈরি হয়েছে সেই প্রশ্নই। অবশ্য, তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক তিক্ত হতেই হুমায়ুন বলেছিলেন, কীভাবে বহরমপুরে ইউসুফকে জেতাতে ধর্মের রাজনীতি হয়েছে। নেতৃত্বের নির্দেশে তিনি নিজে তা করেছেন বলেও উল্লেখ করেছিলেন। পরে অনুশোচনাও করেছেন। এবার সেই অনুশোচনার গন্ডি পৌঁছে গেল অধীর চৌধুরী পর্যন্ত। যদিও ওয়াকিবহাল মহল এই অনুতাপের নেপথ্য়ে জোট সমীকরণ দেখছে।

সম্প্রতি হুমায়ুনের সঙ্গে জোট-বার্তা নিয়ে করা বৈঠকের পরে মহম্মদ সেলিম বলেছিলেন, তিনি ভরতপুরের বিধায়ককে তিনটি বিশেষ বার্তা দিয়েছেন। যার মধ্যে একটি বহরমপুরের সেই রাজনীতি নিয়েই। সেলিমের কথায়, “অধীর এবং আমাকে হারানোর জন্য আরএসএসের প্রজেক্টে বা মমতার নির্দেশে যে বিভাজনের রাজনীতি করা হয়েছে আমরা তার বিরুদ্ধে। বিভাজন কোনওভাবেই চলবে না, তাঁকে বলেছি। ওঁর হিন্দুদের নিয়ে করা মন্তব্যে মুর্শিদাবাদের সামাজিক সমন্বয়ে টানাপোড়েন তৈরি করেছে।” তা হলে কি সেলিমের পাঠেই সুর বদল হুমায়ুনের? ধর্মের অসহিষ্ণু রাজনীতি টেনে যে ভুল করেছেন, তা ইঙ্গিতেই মেনে নিলেন? তাও আবার সেলিম বৈঠকের পরে। তবে হুমায়ুনের মন্তব্যে কোনও ‘কৌতুহল নেই’ বলেই জানিয়েছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তাঁর দাবি, “আমি মানুষের দ্বারা নির্বাচিত, মানুষের দ্বারা পরাজিত।”