TMC MLA Manirul Islam: ভাষণে হম্বিতম্বি, চিঠিতে সুর নরম! FIR হতে পারে শুনেই ‘মচকালেন’ মনিরুল
TMC MLA Manirul Islam: ফরাক্কার বিডিও অফিসের ঘটনার পর সরাসরি জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে CEOকে মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দেওয়া হয়। নড়েচড়ে বসেন স্বয়ং মনিরুল ইসলাম। তিনি একটি চিঠি লিখেছেন। এফআইআর-এর আগে নিজের বক্তব্য কমিশনের সামনে তুলে ধরতে চান তিনি।

কলকাতা: ডেডলাইন পেরিয়ে গিয়েছে, ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গিয়েছে। এই প্রতিবেদনটি যখন লেখা হচ্ছে, তখনও পর্যন্ত ফরাক্কার তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর দায়ের করা হয়নি। বহাল তবিয়তেই রয়েছেন তিনি। বরং পাল্টা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেই এফআইআর দায়েরের হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এসআইআর আবহে অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে, অনেকে আত্মঘাতী হয়েছেন, গণ এফআইআর হওয়া উচিত। মঞ্চ থেকে পাল্টা কমিশনকেই চোখরাঙানি শাসক বিধায়কের। এদিকে লিখলেন চিঠিও। চিঠিতে আবার সুর নরম! ইআরও-কে লেখা চিঠিতে তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের প্রতি তিনি শ্রদ্ধাশীল। সংবিধান মেনে চলেন।
বেপরোয়া মনিরুল!
ফরাক্কায় বিডিও অফিসে ভাঙচুর থেকে শুরু! গত ১৪ জানুয়ারি দুপুরে ধন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয় ফরাক্কার বিডিও অফিসে। তারপর মঞ্চ থেকেই তৃণমূল বিধায়ককে বলতে শোনা যায়, “মনিরুল ইসলাম যতক্ষণ রয়েছেন, চিন্তা করার কিছু নাই। অনেক কথা বলছে, অভিযোগ করতে হবে, এফআইআর করতে হবে। আরে করো না। তোমার জন্য আদালত খোলা আছে, আমার জন্য আদালত খোলা আছে। মানুষের জন্য যা করতে হয় করব। কারণ বিধায়ককে ভয় দেখানোর মানে আমার কন্ঠস্বরকে রোধ করা, আমাকে সংবিধান অধিকার দিয়েছে সমালোচনা করার। আমি বলব গণহারে এফআইআর করুন।”
অশান্তির সূত্রপাত
এসআইআর নিয়ে হেনস্থা। বিডিও অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগ-গত কয়কদিনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই অভিযোগ উঠে এসেছে। যার শুরুটা হয়েছিল মুর্শিদাবাদের ফরাক্কায়। তারপর চাকুলিয়া, সন্দেশখালি ১ নম্বর ব্লক, ইটাহার- বিডিও অফিস কিংবা শুনানিকেন্দ্রে ভাঙচুর, কার্যত এটা একটা সংক্রমিত ‘ব্যধিতে’ পরিণত হয়েছে।
কমিশনের পদক্ষেপ ও মনিরুলের চিঠি
ফরাক্কার বিডিও অফিসের ঘটনার পর সরাসরি জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে CEOকে মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দেওয়া হয়। নড়েচড়ে বসেন স্বয়ং মনিরুল ইসলাম। তিনি একটি চিঠি লিখেছেন। এফআইআর-এর আগে নিজের বক্তব্য কমিশনের সামনে তুলে ধরতে চান তিনি। চিঠির বক্তব্য, বক্তব্যের মাধ্যমে কমিশনকে কোনওরকমভাবে ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্য তার ছিল না। বরং ভোটারদের বোঝাতে, অধিকার বুঝে নিতে যাতে কোনওরকম সমস্যা তাদের না হয়, সে কারণেই তিনি এই ধরনের কথা বলেছেন। ইতিমধ্যেই এই চিঠি তিনি DEO-কে পাঠিয়েছেন। যাবতীয় ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছেন তিনি।
চিঠিতে ঠিক কী লিখেছেন মনিরুল?
চিঠিতে তিনি লেখেন, “খবরে দেখেছি, আমার একটা বক্তব্যের প্রেক্ষিতে জেলাশাসককে আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও কমিশনের আধিকারিকদের প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল। আইনের শাসনকে মর্যাদা দিয়ে এসেছি। আমি আমার ভাষণে কখনই নির্বাচন কমিশনকে ছোট করতে চাইনি। নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে চাইনি। এসআইআর নিয়ে সাধারণ মানুষের মতামত তুলে ধরতে গিয়ে যা বলার বলেছি। ”
বিজেপি-র বক্তব্য
বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ বলেন, “হুমকি, ভাঙচুর, অশান্তির পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে ইচ্ছাকৃতভাবে। মুখ্যমন্ত্রী তো পুলিশমন্ত্রী। নির্বাচন কমিশনের কেবল বিধায়কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ নয়, সাংবিধানিক পদক্ষেপ করতে হবে। কাগজে নির্দেশ দিলে হবে না।”
