Nadia Incident : টিউশন করে বাড়ি ফিরছিল, নদীতেই তলিয়ে গেল একাদশ শ্রেণির ছাত্র
Student drowned in River : নদিয়ার বল্লভপাড়ার বাসিন্দা আকাশ সাহা। বৃহস্পতিবার সকালে টিউশন পড়ে বাড়ি ফিরছিল। প্রতিদিনের মতো বাড়ি ফেরার জন্য নৌকোতেই চেপেছিল সে। হঠাৎ পা পিছলে যায় তার। তারপরই নদীতে পড়ে যায় ছাত্রটি। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, নদীতে পড়ে যাওয়ার পর কেউ তাকে বাঁচানোর চেষ্টা পর্যন্ত করেনি।

কাটোয়া : টিউশন পড়ে বাড়ি ফিরছিল ছেলেটা। মা-ও ছেলের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু, তাঁর যে আর বাড়ি ফেরা হবে না, তা কে-ই বা জানত। মর্মান্তিক দুর্ঘটনা কাটোয়ায়। নৌকা থেকে নদীতে পড়ে তলিয়ে গেল একাদশ শ্রেণির ছাত্র। কাটোয়া-বল্লভপাড়া ফেরিঘাটে ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনায় মাঝি ও ঘাট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ উত্তেজিত জনতার। ফেরিঘাট বন্ধ করে বেশ কিছুক্ষণ বিক্ষোভ দেখানো হয়।
নদিয়ার বল্লভপাড়ার বাসিন্দা আকাশ সাহা। বৃহস্পতিবার সকালে টিউশন পড়ে বাড়ি ফিরছিল। প্রতিদিনের মতো বাড়ি ফেরার জন্য নৌকোতেই চেপেছিল সে। হঠাৎ পা পিছলে যায় তার। তারপরই নদীতে পড়ে যায় ছাত্রটি। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, নদীতে পড়ে যাওয়ার পর কেউ তাকে বাঁচানোর চেষ্টা পর্যন্ত করেনি। নৌকায় অনেক লাইফ জ্যাকেটও ছিল। কিন্তু যখন ছাত্রটি ডুবে যাচ্ছিল, তখন একটা লাইফ জ্যাকেটও ছুড়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
জনি মোল্লা নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “ছাত্রটা পিঠে ব্যাগ নিয়ে নৌকায় বসেছিল। আমরা পাশের ঘাটে বসেছিলাম। বাচ্চাটা পড়ে গেল। আমরা তখন দেখতে পাচ্ছি। ভাবছিলাম নৌকার যাত্রীরা বা মাঝি রয়েছে, তাঁরা কিছু একটা ব্যবস্থা করবে। দেখলাম বাচ্চাটা যখন ডুবে যাচ্ছে, সেইসময় আমরা দুইজন নদীতে ঝাঁপ দিই। জলে নামার পর যখন ছেলেটির কাছে প্রায় পৌঁছে গেলাম, তখন দেখলাম বাচ্চাটি জলের নিচে তলিয়ে গেল। মাত্র দুই হাত দূরেই ছিল। কিন্তু বাঁচাতে পারলাম না। নৌকাতে লাইফ জ্যাকেটও ছিল। কিন্ত, একবারও তা নদীতে ফেলার ব্যবস্থা করা হয়নি। ঘাটের কর্তৃপক্ষের গাফিলতির জন্য একটা বাচ্চার প্রাণ চলে গেল।” প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, এই ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। ঘাট কর্তৃপক্ষের গাফিলতি নিয়ে বারবার অভিযোগ জানিয়েও কিছু হয়নি। ঘাট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন ক্ষুব্ধ জনতা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার পরই কাটোয়া-বল্লভপাড়া ফেরিঘাটে পৌঁছয় বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কর্মীরা। ছাত্রের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কাটোয়া থানার পুলিশ। কেন ছাত্রকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হল না, কী হয়েছিল, ঘাট কর্তৃপক্ষের আদৌ কোনও গাফিলতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
