
নদিয়া: অশান্ত বাংলাদেশ। হিন্দু-সহ সংখ্যালঘুদের উপর প্রতিনিয়ত হিংসার ঘটনা সামনে আসছে। একাধিক হিন্দু ব্যক্তিকে খুনের অভিযোগ উঠেছে। মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশের পরিস্থিতির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান অবস্থার তুলনা প্রায়ই করেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার নদিয়ার ধুবুলিয়ায় ফের এপার বাংলা ও ওপার বাংলার প্রশাসনকে একসঙ্গে নিশানা করলেন তিনি। আর তখনই বাংলাদেশে ধৃত সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের প্রসঙ্গ টেনে আনলেন। ইউনূস প্রশাসন চিন্ময়কৃষ্ণকে নিয়ে কী ‘ষড়যন্ত্র’ করছে, সভা থেকে তাও বলেন শুভেন্দু। কী বললেন তিনি?
বছরখানেকের বেশি বাংলাদেশের জেলে বন্দি সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাস। ২০২৪ সালের নভেম্বরে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করে বাংলাদেশ পুলিশ। এদিন ধুবুলিয়ায় জনসভায় চিন্ময়কৃষ্ণের গ্রেফতারির প্রসঙ্গ তোলেন শুভেন্দু। বলেন, “সাতচল্লিশ সালে যখন দেশ ভাগ হয়, তখন আজকের বাংলাদেশ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে হিন্দু ছিল ৩৩ শতাংশ। আজকে ৭ শতাংশ। আজকে একজন সন্ন্যাসী বৈষ্ণব চিন্ময়কৃষ্ণ প্রভুকে ফাঁসি দিতে যাচ্ছে এরা। ভাবতে পারছেন আপনি? কোন জায়গায় চলে যাচ্ছে বাংলাদেশ?”
রাজ্যের শাসকদলকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “এই সরকার এগারো সালে এসে যেমন টাটাকে তাড়িয়েছে। ষোলো সালে এসে যেমন চাকরি বিক্রি করেছে। ছাব্বিশে যদি এরা কোনওভাবে ক্ষমতায় আসতে পারে, তাহলে এরা এই রাজ্যে হিন্দু-শূন্য করার কাজ করবে। ওপারে ইউনূস যা যা করছেন, এপারে এই সরকার একই কাজ করছে।”
এসআইআর প্রক্রিয়ায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে মানুষের অসুবিধা হচ্ছে মেনে নিয়ে এদিন শুভেন্দু বলেন, “কিছু কিছু সাধারণ লোকজন, ভারতীয়দের অসুবিধা হচ্ছে। তাঁদের হিয়ারিংয়ের নোটিস পাঠানো হচ্ছে। এর জন্য দায়ী কে? আমি বলব, নির্বাচন কমিশন দায়ী নয়। দায়ী হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের প্রশাসন। বিহারে যখন এসআইআর হয়, সেখানকার সরকার সম্পূর্ণ সহযোগিতা করে। আজকে যখন জাতীয় নির্বাচন কমিশন ও সিইও একাধিকবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে চিঠি লিখে চারমাসের জন্য ১ হাজার ডেটা এন্ট্রি অপারেটর চেয়েছিল। এই সরকার এত দাম্ভিক, অনুপ্রবেশকারী, রোহিঙ্গা, মৃত ও ভুয়ো ভোটারদের বাঁচাতে ডেটা এন্ট্রি অপারেটর দেয়নি। আজকে ডেটা এন্ট্রি অপারেটর না দেওয়ায় সমস্যা তৈরি হয়েছে।”