Nadia father saves daughter: ‘কীসের ভয়?’, মাতৃহীন ঘুমন্ত মেয়ের পাশে বিষধর সাপ দেখেই যা করলেন বাবা…
Nadia father saves daughter from venomous snake: দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পর ঘুমিয়ে পড়েছিল সঞ্জীবের মেয়ে। কিছুক্ষণ পর ঘরে ঢুকে সঞ্জীব দেখেন, খাটের উপরে মেয়ের একেবারে গা ঘেঁষে রয়েছে একটি বিষধর সাপ। মেয়েকে বাঁচাতে মুহূর্তের মধ্যে তিনি হাতে প্লাস্টিক পেঁচিয়ে সাপটিকে চেপে ধরেন। সেই সময় সাপটি তাঁর হাতে ছোবল মারে।

নদিয়া: স্ত্রী মারা গিয়েছে। মাতৃহীন মেয়ের দেখভাল একাই করেন তিনি। সেই মেয়ের পাশে বিষধর সাপ দেখে শিউরে উঠেছিলেন। কিন্তু, তৎক্ষণাৎ সিদ্ধান্ত নেন। মেয়ের জীবন বাঁচাতে নিজের জীবন বাজি রাখেন। হাতে প্লাস্টিকের ব্যাগ পরে খপ করে ধরে ফেলেন বিষধর সাপ। সেইসময় ছোবলও খেতে হয় তাঁকে। তবে ভয় পাননি। ছোবল খেয়ে সাপ নিয়ে পৌঁছে যান হাসপাতালে। নিজে সাপের ছোবল খেলেও মেয়ের প্রাণ বাঁচিয়ে বাবার মুখে গর্বের হাসি। ঘটনাটি নদিয়ার হরিণঘাটা পৌরসভার।
হরিণঘাটা পৌরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোহনপুর ONGC সংলগ্ন এলাকায় বাড়ি বছর আটচল্লিশের সঞ্জীব ওরাংয়ের। বাড়িতে তিনি ও তাঁর ১৪ বছরের মেয়ে থাকে। সঞ্জীবের স্ত্রী মারা গিয়েছেন। রাজমিস্ত্রির জোগাড়ের কাজ করেন সঞ্জীব।
শুক্রবার দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পর ঘুমিয়ে পড়েছিল সঞ্জীবের মেয়ে। কিছুক্ষণ পর ঘরে ঢুকে সঞ্জীব দেখেন, খাটের উপরে মেয়ের একেবারে গা ঘেঁষে রয়েছে একটি বিষধর সাপ। মেয়েকে বাঁচাতে মুহূর্তের মধ্যে তিনি হাতে প্লাস্টিক পেঁচিয়ে সাপটিকে চেপে ধরেন। সেই সময় সাপটি তাঁর হাতে ছোবল মারে। সাপের ছোবল খাওয়ার পরও ভয় না পেয়ে প্লাস্টিকে সাপটিকে ভরে পায়ে হেঁটে হরিণঘাটা গ্রামীণ হাসপাতালে পৌঁছান সঞ্জীব।
বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন সঞ্জীব। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, সাপ দেখে ভয় পাননি? তৎক্ষণাৎ জবাব, “কীসের ভয়?” জানিয়ে দিলেন, ঘুমন্ত মেয়ের পাশে বিষধর সাপ দেখেই সিদ্ধান্ত নেন, সাপকে ধরতেই হবে। সাপের ছোবল খেয়েও ঘাবড়াননি তিনি। বললেন, “এমন করে ধরেছি, তারপর কামড়া যত খুশি।” মুখে তখন প্রশান্তির হাসি। মেয়ের কিছু হতে দেননি তিনি। এর থেকে আর বড় কী। তাই, সাপের ছোবল খেয়েও নির্বিকার। প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরা সাপ তুলে ধরে বললেন, “চন্দ্রবোড়া সাপ।” আরও কোনও বিষাক্ত সাপ হলেও তিনি যে এতটুকু ভয় পেতেন না, বুঝিয়ে দিলেন সঞ্জীব। বাড়ি ফিরে মাতৃহারা মেয়ের সঙ্গে মন খুলে এখন গল্প করতে চান।
