
কলকাতা: দিল্লি, মুম্বইয়ের পর মুখ্যমন্ত্রীর ইচ্ছেয় পর্যটন দফতর তৈরি করেছে গেটওয়ে অফ কলকাতা। কলকাতার প্রবেশপথে আধ্যাত্মিকতা এবং আধুনিক স্থাপত্যের এক অভূতপূর্ব মেলবন্ধন ঘটিয়ে তৈরি হয়েছে ‘যুগপুরুষ ওঙ্কারনাথ তোরণ’। ৩ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৭২ ফুটের দুটি বিশাল স্থাপত্য। মধ্যে আগত দর্শনার্থীদের স্বাগত জানিয়ে গরুড় স্তম্ভ রাখা হয়েছে।
আলোয় ভরে উঠেছে পুরো এলাকা। সেজে উঠেছে ওঙ্কারনাথ ধাম। গেটওয়ে অফ কলকাতা, ৬০০ ফুটের কলকাতা ওয়াক, বাংলার হাট। বুধবার তোরণ শীর্ষে স্থাপিত হল ধ্বজা।
রাজস্থানের বংশীবট পাহাড় থেকে আনা গোলাপি বেলেপাথরে (Pink Stone) খোদাই করা এই তোরণটি গত ৫ বছরের নিরলস পরিশ্রমের ফসল। রাজস্থানি কারিগররা তৈরি করেছেন এটি। আমেরিকার ‘বিশ্ব বঙ্গ সম্মেলন’-এও এই আন্তর্জাতিক তোরণটিকে থিম হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে জুলাই মাসে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় আগে পরিদর্শন করেছেন।
অখিল ভারত জয়গুরু সম্প্রদায়ের প্রেসিডেন্ট মহারাজ কিং কর বিঠঠল রামানুজ মহারাজ জানান, “হিমালয় থেকে কন্যাকুমারী শ্রী শ্রী ওঙ্কারনাথ দেব প্রতিষ্ঠা করেন শতাধিক আশ্রম। বাংলাতেই আছে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ৫২ টি আশ্রম। কোটি কোটি মানুষ আশ্রয় পেয়েছেন। বাংলার মূল প্রবেশ দ্বারে মর্ত্যের বৈকুণ্ঠ মহামিলন মঠ। বৈকুণ্ঠের অঙ্গন এই চিন্তার ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই তোরণের করিডোর জুড়ে ফুটে উঠেছে শ্রী শ্রী ওঙ্কারনাথ দেবের আধ্যাত্মিক বাণী ও কলির পাবন মন্ত্র।”
তোরণের একপ্রান্তে কৃষ্ণ এবং অন্যপ্রান্তে ওঙ্কারনাথ বিগ্রহ থাকছে। মধ্যভাগে অবস্থিত গরুড় মূর্তি। এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হচ্ছে ‘বাংলার হাট’।
ওঙ্কারনাথ মিশনের সভাপতি, কিংকর প্রিয়নাথ চট্টোপাধ্যায় জানান, “এখানে বাংলার মৃৎশিল্প, পোড়ামাটির কাজ, ঐতিহ্যবাহী রেশম ও বিখ্যাত লোকজ ‘মুখোশ’ শিল্পের প্রদর্শনী ও বিপণন কেন্দ্র থাকবে, যা বাংলার হস্তশিল্পীদের জন্য নতুন অর্থনৈতিক দিশা দেখাবে। বিশ্ব বাংলা, খাদি, বাংলার রেশম শিল্প, তন্তুজ, বঙ্গশ্রী প্রমুখ বাংলার মুখ, বাংলার ঐতিহ্যকে তুলে ধরবেন আগত পর্যটকদের।”