North 24 Parganas: গোড়ালি ভেঙে ভর্তি হয়েছিলেন, অস্ত্রোপচারের পরই পরিবারের সঙ্গে ‘অদ্ভুত’ আচরণ নার্সিহোমের, তারপর…
Allegation against Nursing home: মৃতের এক পরিজন বলেন, "সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে গোড়ালিতে চোট পান। অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসক জানিয়েছিলেন, একদিন অবজার্ভেশনে রেখে তারপর ছেড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু, পরদিন হাসপাতালে এলে অদ্ভুত আচরণ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আমাদের রোগীর কী সমস্যা হয়েছে, কিছুই বলছিল না। শুধু বলছিল, পরে, পরে। চিকিৎসার গাফিলতিতেই আমাদের রোগীর মৃত্যু হয়েছে।"

বনগাঁ: গোড়ালি ভেঙেছিল। ভর্তি হয়েছিলেন নার্সিংহোমে। অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের ২ দিনের মধ্যে রোগিণীকে ছেড়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, আচমকা রোগিণীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। আইসিইউ-তে ভর্তি করেও শেষরক্ষা হল না। রোগিণীর মৃত্যুতে নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন মৃতের পরিজনরা। ঘটনাটি উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয়। মৃতার নাম সুচিত্রা বিশ্বাস(৬৬)। তাঁর পরিবার বনগাঁ থানায় ওই নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ দায়ের করেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বনগাঁ থানার পুলিশ।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি মাসের ১২ তারিখে বছর ছেষট্টির সুচিত্রা বিশ্বাসকে ওই নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। তিনি গোড়ালিতে চোট পেয়েছিলেন। গোড়ালি ভেঙে গিয়েছিল। ১৬ ফেব্রুয়ারি বৃদ্ধার পায়ের অস্ত্রোপচার হয়। ওই দিন পরিবারের সদস্যরা সুচিত্রার সঙ্গে দেখা করে বাড়ি যান। পরিবারের দাবি, ১৭ তারিখ সকাল ১০ টা নাগাদ ভিজিটিং সময়ে রোগিণীকে দেখতে নার্সিংহোমে গেলে কর্তৃপক্ষ তাদের দেখা করতে দিতে চায় না। তখন জোর করে সুচিত্রার মেয়ে নার্সিংহোমে ঢুকে দেখেন, তাঁর মা বেডে নেই।
তারপর নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ তাদের জানায়, সুচিত্রা দেবীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়া তাঁকে আইসিইউ-তে রাখা হয়েছে। তার কিছু সময় পর পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়, সুচিত্রা দেবীর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের আরও দাবি, সুচিত্রা দেবীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ তাদের কিছুই জানায়নি। মৃত্যুর খবর জানানোর পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের দেড় লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলা হয়। যাতে তাঁরা বিষয়টি নিয়ে কোথাও অভিযোগ না করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাময়িকভাবে নার্সিংহোমের সামনে উত্তেজনা ছড়ায়।
মঙ্গলবার রাতে সুচিত্রা দেবীর স্বামী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসক অম্লান দের নামে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে বনগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এবং ঘটনার তদন্ত করে সুচিত্রা দেবীর মৃত্যুর পিছনে যাঁরা দায়ী, তাঁদের আইনের আওতায় এনে যথোপযুক্ত শাস্তির দাবি তুলেছেন। মৃতের এক পরিজন বলেন, “সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে গোড়ালিতে চোট পান। অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসক জানিয়েছিলেন, একদিন অবজার্ভেশনে রেখে তারপর ছেড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু, পরদিন হাসপাতালে এলে অদ্ভুত আচরণ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আমাদের রোগীর কী সমস্যা হয়েছে, কিছুই বলছিল না। শুধু বলছিল, পরে, পরে। চিকিৎসার গাফিলতিতেই আমাদের রোগীর মৃত্যু হয়েছে।”
যদিও নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নার্সিংহোমের চিকিৎসক অভিষেক মল্লিক। তিনি জানিয়েছেন, “আন কন্ট্রোল ডায়াবেটিক পেশেন্ট ছিলেন সুচিত্রা বিশ্বাস। অপারেশনের পরে সব ঠিক ছিল। হঠাৎই এই ঘটনা ঘটেছে। আমরা চেষ্টা চালিয়েছিলাম। কিন্তু ফেরানো সম্ভব হয়নি।” গাফিলতির অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা বলেও দাবি করেন তিনি।
