CID: অশোকনগরের কাপড়ের ব্যবসায়ী পূজা আসলে পুরনো খিলাড়ি! ৩ বছর ধরে কেন মাথাব্যথার কারণ CID-র?
Ashoknagar Arms Smuggling: তদন্তে জানা গিয়েছে, অস্ত্র বিহার থেকে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসতেন। উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন প্রান্তে তিনি সেই অস্ত্র পৌঁছে দিতেন। এর আগেও ২০২৩ সালে পূজা বিশ্বাস দত্তপুকুর থানার বাসের মধ্যে থেকে ধরা পড়েন। সে সময়েও তাঁর কাছ থেকে অস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার হয়েছিল। গ্রেফতারির পর জেলও খাটেন। তারপর জেল থেকে বেরিয়ে তিনি সেই একই কাজে যুক্ত হয়ে পড়েন।

সুজয় পাল: সাধারণ সুতির সালোয়ার পোশাক। হাতে একটা চটের ব্যাগ। কাঁধে আরেকটা ব্যাগ। দৈহিক বাচনে কোথাও কোনও অসঙ্গতি ছিল না। তাঁরই পিছু পিছু নিচ্ছিলেন কয়েকজন। এই মহিলার কাছ থেকেই উদ্ধার হল অস্ত্র ভান্ডার। জানা গেল, এই মহিলা অস্ত্র ব্যবসায় পুরনো খিলাড়ি। উদ্ধার ২০০ রাউন্ড কার্তুজ। ৬টি স্টার লোগোর সেভেন এমএম পিস্তল ও নগদ টাকাও উদ্ধার হয়েছে। নৈহাটি রোড ধরে পিছু নিয়ে অশোকনগরের ৮ নম্বর এলাকায় এসে মহিলাকে পাকড়াও করে সিআইডি। জানা যাচ্ছে, ওই মহিলার নাম পূজা বিশ্বাস। তদন্তে জানা গিয়েছে, অস্ত্র বিহার থেকে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসতেন। উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন প্রান্তে তিনি সেই অস্ত্র পৌঁছে দিতেন। এর আগেও ২০২৩ সালে পূজা বিশ্বাস দত্তপুকুর থানার বাসের মধ্যে থেকে ধরা পড়েন। সে সময়েও তাঁর কাছ থেকে অস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার হয়েছিল। গ্রেফতারির পর জেলও খাটেন। তারপর জেল থেকে বেরিয়ে তিনি সেই একই কাজে যুক্ত হয়ে পড়েন।
তদন্তে এও পুলিশ জানতে পেরেছে, পূজা তাঁর বর্তমান স্বামী নীলরতনের নির্দেশে অস্ত্র নিয়ে আসতেন। তিনি গোপালনগর থানার কোনও এক চত্বরে থাকেন। তিনি কাপড়ের ব্যবসা চালান। অভিযোগ, কাপড়ের ব্যবসার আড়ালেই তিনি অস্ত্র কারবারের সঙ্গে যুক্ত। তাঁরও খোঁজ চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। কারণ তাঁর কাছ থেকেই জানা যাবে, এই অস্ত্র কোথায় পাচার করা হচ্ছিল?
জানা যাচ্ছে, আগেরপক্ষের স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পরই মেয়ের বিয়ে দেন। আর তারপর গত চার পাঁচ বছর ধরে এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন তিনি। বর্তমান স্বামী অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বলে তদন্তকারীরা আপাতত জানতে পেরেছেন। পূজা ‘ক্যারিয়ার’ হিসাবে কাজ করতেন।
তদন্তকারীরা জানতে পারছেন, মূলত বাংলাদেশে অস্ত্র পাচার করেন পূজা। এর আগে গ্রেফতারির পর পূজার থেকে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, বনগাঁ একেবারে সীমান্ত লাগোয়া এলাকার এক অস্ত্র ব্যবসায়ীর ক্যারিয়ার হয়েই কাজ করেন পূজা ও তাঁর স্বামী। জানা যাচ্ছে, বিহারের মুঙ্গের থেকে অস্ত্র নিয়ে আসে, তারপর সড়কপথেই তা বাংলাদেশে পাচার করা হত। এর সঙ্গে একটা বড় আন্তঃরাজ্য পাচারচক্র জড়িত বলে জানা যাচ্ছে।
