Rathin Ghosh: ‘আমি মমতার সঙ্গেই রয়েছি, ঋত-তৃণমূল বলে কিছু নেই’, কী বললেন রথীন?
Madhyamgram MLA Rathin Ghosh: তিনি বলেন, "কে বলেছে আমরা মমতার সঙ্গে নেই? আমরা মমতার সঙ্গেই আছি।" কিন্তু তাহলে কেন তাঁকে মমতার সঙ্গে দেখা যাচ্ছে না? সে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, "নতুন কোনও কর্মসূচি না থাকলে তা কীভাবে প্রমাণ করব! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবিষ্যতে কোনও আন্দোলন করলে আমি সেখানে তৃণমূলের কর্মী হিসেবেই হাজির থাকব।"

উত্তর ২৪ পরগনা: দলের বিদ্রোহী সাংসদ ও বিধায়কদের মূল স্রোতে ফেরার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই নিজের অবস্থান নিয়ে মন্তব্য করলেন মধ্যমগ্রামের বিধায়ক রথীন ঘোষ। সাফ জানালেন, তিনি তৃণমূলেই আছেন এবং তিনি নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই রয়েছেন। আর তাতেই তৈরি হয়েছে আরও একগুচ্ছ প্রশ্ন। তাহলে কি তিনি মমতার ডাকে সাড়া দিয়ে ফিরছেন? নাকি অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে জাহির করার চেষ্টা করছেন তিনি মমতার সঙ্গেই রয়েছেন। সে প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন খোদ কুণাল ঘোষ।
দলে থাকা ও মমতার প্রতি আস্থা
নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে রথীন ঘোষ জানান, স্থানীয় এলাকায় খোঁজ নিলেই সবাই জানতে পারবেন যে তিনি ব্যক্তিগতভাবে তৃণমূলেই আছেন এবং মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছেন। দলের প্রতি অনুগত থাকার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “কে বলেছে আমরা মমতার সঙ্গে নেই? আমরা মমতার সঙ্গেই আছি।” কিন্তু তাহলে কেন তাঁকে মমতার সঙ্গে দেখা যাচ্ছে না? সে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “নতুন কোনও কর্মসূচি না থাকলে তা কীভাবে প্রমাণ করব! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবিষ্যতে কোনও আন্দোলন করলে আমি সেখানে তৃণমূলের কর্মী হিসেবেই হাজির থাকব।”
এলওপি বিতর্ক ও ‘ঋতব্রত শিবির’ প্রসঙ্গ
‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল’ বা ‘ঋতব্রত শিবির’ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কিছুটা ভাষা ভাষা জবাব দেন বিধায়ক। তিনি দাবি করেন, “ঋতব্রত তৃণমূল বলে আলাদা কিছু নেই।” সমস্যাটি যে মূলত বিরোধী দলনেতা (LOP) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে, তা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “বিধায়করা ঋতব্রতকে এলওপি হিসেবে বেছে নিয়েছেন। পার্টি বড় নাকি বিধায়করা বড়, সেটা আমার জানা নেই। তবে স্পিকার মান্যতা না দিলে আমাদের কী-ই বা করার আছে!”
একদিকে যেমন তিনি নিজেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী বলে দাবি করেছেন, অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন ও পরিষদীয় ক্ষমতা নিয়ে অসন্তোষের ইঙ্গিতও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। রাজ্যে পালাবদলের পর ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কের নেতৃত্বে ৬৫ জন বিধায়ককে নিয়ে বিদ্রোহী শিবির তৈরি হয়েছে। এই বিধায়কদের সমর্থনেই বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত হন ঋতব্রত। এই বিধায়কের তালিকাতেই ছিলেন রথীন ঘোষও।
কিন্তু এখন তাহলে এমন কি কোনও তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত দিচ্ছেন রথীন? নাকি এটাও কোনও স্ট্র্যাটেজি? কারণ আসল তৃণমূল কে, সেটা কমিশনের বিচারাধীন। দলের প্রতীক ও তহবিল কাদের হবে, সেটাও বিচারাধীন।
বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “গোটা বিষয়টা এখন নির্বাচন কমিশনের বিবেচনাধীন। রথীন দা তো আমাকে কিছু বলেননি। আমি আগে দেখি, শুনি, তারপর বলব।”
তবে রথীনের এই বিবৃতি নিয়ে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “এটা হাঁসজারু বিবৃতি, হাঁসজারু অবস্থা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেই রয়েছে। মমতা যখন কোথাও ছুটে গিয়েছেন, তখন সঙ্গে যাননি কেন? তিনি যেখানে সই করেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসা করে সই করেছিলেন? অস্তিত্বের জন্য, এলাকার কর্মীদের মন ভোলাতে বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই রয়েছেন। আসলে বিশ্বাসঘাতক শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। রথীনদা সিনিয়র লোক, মুখে যেটা বলছেন, কাজেই সেটা প্রমাণ করবেন, তিনি মমতাদির সঙ্গেই রয়েছেন।”
