
আসানসোল: তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন,১৬-১৭-১৮ ও ১৯ তারিখে বিজেপি কর্মীদের রবীন্দ্র সংগীতের পাশাপাশি ডিজে শোনানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন। আজ সেই ১৯ তারিখ। এবার জেলায়-জেলায় সেই ছবিই কি প্রকাশ্যে এল? SIR-এর হেয়ারিং কেন্দ্র উত্তেজনা। বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে ব্যাপক বচসা ও হাতাহাতি। বিজেপির গাড়িতে থাকা ফর্ম সেভেনের ফাইল ছিনতাই করে জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “SIR যাতে না হয় পশ্চিমবঙ্গে না হয় কী করছে। কমিশনকে পদক্ষেপ করতে হবে। মৃত-অনুপ্রবেশকারী দিয়ে উনি বছরের পর বছর জিতবেন এটা হতে পারে না।”
অভিষেক বলেছিলেন, “বুথে রাজনীতি করো মন দিয়ে আমার কথা শোনো… যদি দেখো বিজেপির কর্মকর্তা চলতি মাসের ১৬-১৭-১৮-১৯ তারিখ ইআরও অফিসে ফর্ম জমা দিতে আসে দশটার বেশি, তাহলে রবীন্দ্র সংগীতের সঙ্গে ডিজে বাজিয়ে ডিজেও শোনাবে ভদ্রভাবে। ভাবছে শেষ মুহূর্তে মানুষের নাম বাদ দেব?”
এরপর দেখা যাচ্ছে, আসানসোল দক্ষিণ থানার মহকুমাশাসক অফিসে হেয়ারিং কেন্দ্রে তুমুল উত্তেজনা। তৃণমূলের অভিযোগ, একটি কালো গাড়ি করে প্রচুর পরিমাণে ফর্ম সেভেন বিজেপি নেতৃত্বরা নিয়ে আসে।বিষয়টি জানানোর পর তৃণমূলের নেতৃত্বরা গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখায়। এমনকী, গাড়ির সামনের কাচও ভাঙচুর করা হয়। এরপর তৃণমূলের নেতৃত্বের সঙ্গে বিজেপির নেতৃত্বের বচসা ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে। এই ঘটনায় এক বিজেপি নেতৃত্বকে আটক করেছে পুলিশ।
তৃণমূলের অভিযোগ একাধিক ফর্ম সেভেন এনে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করছে বিজেপি।যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজেপি নেতৃত্বের। তৃণমূল নেতা বলেন, “অসুবিধা থাকলে বিএলও-ইআরওকে বলুক। কিন্তু, পরিবারকেও আনেনি। এরা হাজার-হাজার ফাইল নিয়ে এসেছে। ওরা মোটেই ভাল কাজ করছে না। কয়েক হাজার ফাইল আছে। আমরা আটকাতেই পালিয়ে গেছে।” অপরদিকে বিজেপির ব্লকের নেতা বলেন, “আমি তো কমিশনের নিয়ম মেনে কাজ করছি। কিন্তু ওরা সেটা করতে দেবে না। সব ছিনিয়ে নিচ্ছে।”
তবে শুধু আসানসোল নয়, বিধায়কের হাত থেকে ফর্ম ছিনিয়ে ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ। ঘটনাকে ঘিরে উত্তপ্ত বনগাঁ উত্তর SDO অফিসের সামনে। অভিযোগ, বনগাঁ উত্তরের বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়ার হাত থেকে ফর্ম সেভেন ছিনিয়ে নেন তৃণমূলের কর্মীদের অভিযোগ।
আবার চুঁচুড়া সদর মহকুমা শাসক দফতরে শুনানি কেন্দ্রে গিয়ে দাদাগিরি বিধায়ক অসীত মজুমদারের।ফর্ম সেভেন ছিঁড়ে ফেলা হল। একজন ফর্ম জমা দিতে এলে তাঁকে মারধর-ঠেলাঠেলির অভিযোগ।