BJP MLA: পরিচারিকা থেকে বিধায়ক! আউসগ্রামের কলিতা মাজির স্বপ্নপূরণ
Burdwan: সংসারের কাজ সামলে প্রতিদিন দলের কাজ করেছেন। মানুষের ভালোবাসা তাঁকে আপ্লুত করেছে। কলিতা বলেন, "যে বাড়িতে কাজ করি, তারা আমাকে মেয়ের মতোই দেখে। যে দল আমার মতো সাধারণ একজন মেয়েকে জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ দিয়েছে, তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।”

আউশগ্রাম: গৃহপরিচারিকা থেকে বিধায়ক! আউশগ্রামের কলিতা মাজির উত্থানের গল্প যেন ‘রূপকথা’। লোকের বাড়িতে কাজ করে মাসে সামান্য আয় করে সংসার চালাতেন। তারপর রাজনৈতিক লড়াইয়ের ময়দানে উঠে আসেন কলিতা। গল্পটা অনেকটাই সিনেমার চিত্রনাট্যের মতো।
গৃহপরিচারিকার কাজ সামলে রাজনীতি
পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন কলিতা মাজি। প্রচারের সময়েও আলোচনায় উঠে এসেছিলেন কলিতা। জয়ী হন তিনি। এলাকার মানুষ বলছেন, গৃহপরিচারিকার কাজ সামলে, সংসার চালিয়ে, প্রতিদিন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন কলিতা। এই সবকিছুর মধ্যেই তিনি গড়ে তুলেছেন নিজের রাজনৈতিক পরিচিতি।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তিনি লড়েছিলেন, কিন্তু পরাজিত হয়েছিলেন। তবে সেই হার তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। বরং আরও বেশি করে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন। মানুষের আস্থাও অর্জন করেন। আর ২০২৬-এর নির্বাচনে সেই আস্থারই প্রতিফলন দেখা গিয়েছে।
১ লক্ষের বেশি ভোট পেয়েছেন কলিতা
আউশগ্রাম কেন্দ্রে কলিতা মাজি পেয়েছেন ১ লক্ষ ৭ হাজার ৬৯২ ভোট। তৃণমূল প্রার্থী শ্যামাপ্রসন্ন লোহারকে ১২ হাজার ৫৩৫ ভোটে পরাজিত করেছেন তিনি। জয়ের পর কলিতা মাজি বলেন, “মানুষ যেভাবে আমাকে আশীর্বাদ করেছেন, তা সত্যিই অভাবনীয়। ২০১৪ সাল থেকে বুথকর্মী হিসেবে কাজ করেছি। মানুষের উপর যে অত্যাচার, নারী নির্যাতন এবং অসম্মান হয়েছে, তার অবসান ঘটাতে চাই। আমি কর্মী ও প্রশাসনের কাছে আবেদন করব, কোথাও যেন অশান্তি না হয় এবং অন্যায়ের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।”
তিনি জানান, সংসারের কাজ সামলে প্রতিদিন দলের কাজ করেছেন। মানুষের ভালোবাসা তাঁকে আপ্লুত করেছে। কলিতা বলেন, “যে বাড়িতে কাজ করি, তারা আমাকে মেয়ের মতোই দেখে। যে দল আমার মতো সাধারণ একজন মেয়েকে জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ দিয়েছে, তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।”
যাঁর বাড়িতে কলিতা কাজ করতেন, সেই গৃহকর্ত্রী কৃষ্ণা পাত্র বলেন, “কলি অত্যন্ত দায়িত্বশীল মেয়ে। আমাদের পরিবারের সদস্যের মতোই। সব কাজ নিজের হাতে করত। পরিবারের বিপদে-আপদে সবসময় পাশে থেকেছে। আমার স্বামীকেও নিজের বাবার মতোই দেখত। ওর এই জয় আমাদের কাছে অত্যন্ত আনন্দের।”
জানা গিয়েছে, কলিতার স্বামী একজন সাধারণ কল মিস্ত্রি। দুই সন্তানকে নিয়ে তাঁদের ছোট সংসার। সেই সংসার সামলে, সীমিত আয়ের মধ্যেও যে লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন কলিতা, তা আজ বহু মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা।
