Health: মিলছে না জীবনদায়ী ওষুধও! হাসপাতালের সুপারের অফিসে দরবার ক্ষুব্ধ রোগী পরিবারের

medicine shortage: "আমাদের যদি বাইরে থেকে ওষুধ কেনার ক্ষমতা থাকত, তাহলে আমরা কেন সারাদিন ধরে হাসপাতালে পড়ে থাকব? সরকার বলছে, সমস্ত ওষুধ হাসপাতালে বিনামূল্যে পাওয়া যাবে। কিন্তু আমরা পাচ্ছি কই?''

Health: মিলছে না জীবনদায়ী ওষুধও! হাসপাতালের সুপারের অফিসে দরবার ক্ষুব্ধ রোগী পরিবারের
ওষুধ সঙ্কটে ক্ষোভ রোগী পরিবারের। প্রতীকী চিত্র।

পূর্ব বর্ধমান: বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগের ফার্মেসিতে ওষুধ সঙ্কট। ডাক্তারি প্রেসক্রিপশনে ওষুধ লেখা থাকলেও মিলছে না ওষুধ। ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের মত সাধারণ ওষুধের পাশাপাশি জীবনদায়ী ক্যানসারের ওষুধ অমিল। মিলছে না শিশুদের ওষুধও।
বর্ধমান হাসপাতালের বহির্বিভাগের নীচে ফার্মেসিতে প্রতিদিন ব্যাপক ভিড় হয়। বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসা করিয়ে এসে সাধারণ মানুষ ওষুধের জন্য ভিড় জমান। কিন্তু সেখানে দীর্ঘক্ষন লাইনে দাঁড়িয়ে মিলছে না ওষুধ। যা নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে রোগী ও পরিজনদের মধ্যে। ওষুধ না পেয়ে অনেকেই হাসপাতালের সুপারের অফিসে দরবার করছেন। কিন্তু, তাতেও কোন লাভ হচ্ছে না বলে অভিযোগ।

কেতুগ্রাম থেকে চিকিৎসার জন্য বর্ধমান মেডিকেেল কলেজ হাসপাতালে আসা নীলুফা ইয়াসমিন জানান, ডাক্তার ওষুধ লিখে দিচ্ছেন। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও বেশিরভাগ ওষুধ পাওয়া যায়নি। তাঁর আরও দাবি, প্রায় চার মাস ধরে এই ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। বলেন, “বাইরে থেকে বেশি দাম দিয়ে আমাদের ওষুধ কেনার ক্ষমতা নেই। খেটে খাওয়া পরিবারে এত দাম দিয়ে ওষুধ কেনা খুবই সমস্যার”।

অন্যান্য রোগী ও তাঁর পরিজনেরও দাবি, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিনের মত সাধারণ ওষুধও পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি প্রসূতি মায়েদের যে ওষুধ প্রয়োজন হয় তাও অমিল। কাউন্টার থেকে ‘সাপ্লাই নেই’ বলে রোগীদের ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। বেশ কয়েকমাস ধরেই এই সমস্যা চলছে বলে জানাচ্ছেন রোগী ও তাঁদের পরিবারের লোকজন। বর্ধমান হাসপাতালে পরিষেবা নিতে আসা নাজমল হোদা নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, “দীর্ঘ তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ডাক্তার দেখাই। ডাক্তারবাবু চারটি ওষুধ লিখলে একটা ওষুধ হাসপাতালে পাওয়া যায়। বাকি তিনটি ‘সাপ্লাই নেই’ বলে বাইরে থেকে কিনতে বলা হয়। আমাদের যদি বাইরে থেকে ওষুধ কেনার ক্ষমতা থাকত, তাহলে আমরা কেন সারাদিন ধরে হাসপাতালে পড়ে থাকব? সরকার বলছে, সমস্ত ওষুধ হাসপাতালে বিনামূল্যে পাওয়া যাবে। কিন্তু আমরা পাচ্ছি কই?”

এই নিয়ে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার তাপস ঘোষ বলেন, “বর্ধমান হাসপাতালে ওষুধের ঘাটতি কথাটি হলো অর্ধসত্য। কিছু ওষুধ পেতে সমস্যা হচ্ছে। তবে এক দুই দিনের মধ্যে সমস্যা মিটে যাবে।”  তিনি আরও জানান, ওষুধ আছে কিন্তু সাপ্লাই বর্তমানে একটু কম হওয়ায় কিছু ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। হাসপাতালের চাহিদা মত ভেন্ডাররা ওষুধের জোগান দিতে পারছেন না। তবে তাঁর দাবি খুব শীঘ্রই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন: Attempt to Suicide: মদ-কে অপমান! অভিমানে হাইটেনশন খুঁটিতে উঠে জীবন শেষ করে দিতে চাইলেন গোপাল

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla