Bardhaman BMW Gift: একবেলা ভাত জুটত, আজ তিনি বিদেশে রফতানি করেন চাল, ছেলেকে BMW কিনে দেওয়া সামসুদ্দিন কে জানেন?
Purba Bardhaman: এখন সামসুদ্দিন চালের ব্যবসা করেন। তাঁর চাল যায় বিদেশে। তিনটে চাল কলের মালিক তিনি। বলেন, "ধান ব্যবসা থেকে আমার কেরিয়ার শুরু। আল্লাহের আর্শীবাদে ভালই যাচ্ছে। আমার ৯০ শতাংশ চাল বিভিন্ন দেশে যায়।" নিজের পুরনো জীবনের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, "একটা সময় এমন দিন গিয়েছে বম্বেতে খেতে পাইনি। অক্লান্ত পরিশ্রম করে আজ এই জায়গায়। আমি চাই আমায় দেখে তরুণ প্রজন্ম যেন আরও উজ্জীবিত হয়। তারাও জীবনে উন্নতি করতে পারে।"

বর্ধমান: কচি কলাপাতা রঙের গাড়ি। শুধু কী গাড়ি! বলা ভাল অনেকের স্বপ্নের গাড়ি, BMW। আর সেই স্বপ্নের গাড়ি ছেলেকে কিনে দিয়ে এখন খবরে পূর্ব বর্ধমানের গলসির বাসিন্দা সামসুদ্দিন। নিজে পড়াশোনা করতে পারিনি অর্থের অভাবে। কিন্তু ছেলে পড়ছে। শুধু পড়ছে বলা ভুল, পড়াশোনায়ও নাকি খুব মেধাবী সে। নবম শ্রেণির পরীক্ষায় খুব ভালো রেজাল্ট। সেই খুশিতেই ছেলের BMW কিনে দিয়ে ছেলের স্বপ্নপূরণ করলেন বাবা। এখন অনেকেই ঠাট্টা করে বলছেন, হাফ-ইয়ারলিতেই এই তাহলে ফাইনাল পরীক্ষায় কী কিনে দেবেন তিনি?
সামসুদ্দিন কী করেন?
জানা গিয়েছে, বিলাসবহুল গাড়ির প্রতি সামসুদ্দিনের বরাবরই বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে। তাঁর গাড়ির সংগ্রহে রয়েছে রেঞ্জ রোভার, ভলভো, মাহিন্দ্রা থার ও হুণ্ডাই আলকাজারের মতো একাধিক নামী সংস্থার গাড়ি। কিন্তু সামসুদ্দিন জানাচ্ছেন তাঁর উত্থান এত সোজা ছিল না। অনেক কষ্টে তাঁকে রোজগার করতে হয়েছে। টিভি ৯ বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, “আমার জন্ম এখানেই। তারপর আমি বম্বেতে শ্যুটিংয়ে লাইট ম্যানের কাজ করতাম। কিছু মাস পর আমার বিয়ে হয়। তারপর এখানে চলে আসি, তখন ভাবি নিজের রাজ্যে থেকেই কিছু করব।”
এখন সামসুদ্দিন চালের ব্যবসা করেন। তাঁর চাল যায় বিদেশে। তিনটে চাল কলের মালিক তিনি। বলেন, “ধান ব্যবসা থেকে আমার কেরিয়ার শুরু। আল্লাহের আর্শীবাদে ভালই যাচ্ছে। আমার ৯০ শতাংশ চাল বিভিন্ন দেশে যায়।” নিজের পুরনো জীবনের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “একটা সময় এমন দিন গিয়েছে বম্বেতে খেতে পাইনি। অক্লান্ত পরিশ্রম করে আজ এই জায়গায়। আমি চাই আমায় দেখে তরুণ প্রজন্ম যেন আরও উজ্জীবিত হয়। তারাও জীবনে উন্নতি করতে পারে।”
এরপর ছেলেকে কী দেবেন তিনি? এই প্রশ্নের উত্তরে সামসুদ্দিন হেসে বলেছেন, “এরপর দেখছি। তবে ব্যবসা ভাল গেলে সমাজ সেবার কাজ করার ইচ্ছা আছে।” সামসুদ্দিন জানান, গাড়িটি কিনতে প্রায় ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। এই প্রসঙ্গে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাঁর বক্তব্য, তিনিই কিনিয়েছেন, তাই কিনতে পেরেছেন।
