AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Burdwan: উচ্চতা আড়াই ফুট, শরীরের নিম্নাংশ অক্ষম, বিরল অস্ত্রোপচারে কোলে এল ফুটফুটে কন্যাসন্তান

Burdwan: জটিল পরিস্থিতির কথা বুঝতে পেরেই চিকিৎসক কে পি দাস তাঁদের বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দেন। এরপর থেকে বেশ কয়েক মাস ধরে একপ্রকার কোলে নিয়েই স্ত্রী শিখাকে চিকিৎসা করাতে নিয়ে যেতে শক্তি মাজি।

Burdwan: উচ্চতা আড়াই ফুট, শরীরের নিম্নাংশ অক্ষম, বিরল অস্ত্রোপচারে কোলে এল ফুটফুটে কন্যাসন্তান
সুস্থ সন্তানের দন্ম দিলেন শিখা মাজিImage Credit: TV9 Bangla
| Edited By: | Updated on: Aug 14, 2024 | 9:53 PM
Share

বর্ধমান: উচ্চতা আড়াই ফুট। শরীরের নীচের অংশটা কাজ করে না জন্ম থেকেই। প্রতিদিনের কাজের জন্য নির্ভর করতে হয় অন্যের ওপর। বিয়ে হবে, সেটাই ভাবতে পারেননি কখনও। আর আজ মা হলেন তিনি। একাধিক শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার মহিলা। সে সব কাটিয়ে সুস্থ শিশুকন্যার জন্ম দিলেন শিখা মাজি। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এমন ঘটনা এই প্রথম বলে জানান চিকিৎসকরা।

মায়ের উচ্চতা আড়াই ফুট। তাঁকে কোলে নিয়েই হাসপাতালে যান স্বামী। বর্ধমান হাসপাতালের অসাধ্য সাধন। জানা যায়, ‘ডোয়ার ফ্রিজম হুইলচেয়ার সিনড্রোমে’ আক্রান্ত প্রসূতি।

এই প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও পরিবারের বাধাকে আমল না দিয়ে বছর তিনেক আগে শিখা মাজিকে বিয়ে করেন বর্ধমানের পূর্বস্থলীরই বাসিন্দা শক্তি মাজি। শিখা সন্তান সম্ভবা জানতে পেরে তাঁর স্বামী যোগাযোগ করেন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের প্রসূতি বিভাগের চিকিৎসক কে পি দাসের সঙ্গে।

জটিল পরিস্থিতির কথা বুঝতে পেরেই চিকিৎসক কে পি দাস তাঁদের বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দেন। এরপর থেকে বেশ কয়েক মাস ধরে একপ্রকার কোলে নিয়েই স্ত্রী শিখাকে চিকিৎসা করাতে নিয়ে যেতে শক্তি মাজি।

গত মঙ্গলবার প্রসব যন্ত্রণা শুরু হতেই শিখাকে বর্ধমান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৬ সদস্যের চিকিৎসকের টিম গঠন করে সিজার করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। শিখা মাজির উচ্চতা মাত্র আড়াই ফুট এবং তাঁর শরীরের নিম্নাংশ অক্ষম। তাই তাঁর সন্তান প্রসব করা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কার্ডিয়াক পালমোনারি অ্যারেস্ট হওয়ার ঝুঁকি ছিল। যাতে মা ও সন্তান উভয়েরই জীবন সঙ্কট হতে পারত।

এখানেই অসাধ্য সাধন করে ফেললেন বর্ধমান মেডিক্যালের চিকিৎসক মলয় সরকার, ড. কে পি দাস, ড. এস পি দাস, ড. সুমন্ত ঘোষ মৌলিক। বিকল্প অ্যানাস্থেসিয়া পদ্ধতি ব্যবহার করে সিজার করার সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকেরা। সাধারণত সিজারের ক্ষেত্রে যা সময় লাগে, সেই সময়ের মধ্যেই অস্ত্রোপচার হয়। জন্ম নেয় সুস্থ কন্যাসন্তান।

শক্তি মাজি জানিয়েছেন, শিখাকে বিয়ে করাটাই তাঁর কাছে একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে কোনওদিনই স্ত্রী’কে বোঝা বলে মনে করেননি। স্ত্রী’কে কোলে দিনের পর দিন হাসপাতালে ছুটেছেন। আজ তাঁরা দু’জনই খুব খুশি।

চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এই ধরনের রোগীর ক্ষেত্রে হার্ট, ফুসফুসে সমস্যা হতে পারে। ওষুধ প্রয়োগের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে প্রবল। তাই হাসপাতালের চিকিৎসকরা বিকল্প পদ্ধতি অবলম্বন করে অস্ত্রোপচার করেন। অস্ত্রোপচারের পর মা ও সদ্যোজাত শিশুকন্যা এখন দু’জনেই সুস্থ আছে বলে জানান চিকিৎসকরা।

আরও খবর পড়তে ডাউনলোড করুন Tv9 বাংলা অ্যাপ (Android/ iOs)

Follow Us