TMC: ৬ জনকে বহিষ্কার করে ফাঁপরে তৃণমূলের ব্লক সভাপতি, শোকজ করল দল
TMC block president: গত ৩ অক্টোবর সাংবাদিক বৈঠক করে বর্ধমান ২ ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি পরমেশ্বর কোনার বৈকুণ্ঠপুর ১ নম্বর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান জয়দেব বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের পাঁচ প্রথমসারির কর্মীকে ৩ বছরের জন্য বহিষ্কার করেন। তিনি জানিয়েছিলেন, জয়দেব বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ছয়জন দলের শৃঙ্খলা ভেঙেছেন। দলের কাজ করছেন না।

বর্ধমান: ২ দিন আগে দলের এক নেতা ও পাঁচ কর্মীকে তিনি বহিষ্কার করেছিলেন। বলেছিলেন, দলের জেলা সভাপতির সঙ্গে কথা বলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তৃণমূলের সেই ব্লক সভাপতিই এবার ফাঁপরে পড়লেন। দলীয় নিয়ম না মেনে এক তৃণমূল নেতা ও পাঁচ কর্মীকে বহিষ্কার করায় এবার শোকজের মুখে পড়তে হল খোদ ব্লক সভাপতিকেই।
গত ৩ অক্টোবর সাংবাদিক বৈঠক করে বর্ধমান ২ ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি পরমেশ্বর কোনার বৈকুণ্ঠপুর ১ নম্বর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান জয়দেব বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের পাঁচ প্রথমসারির কর্মীকে ৩ বছরের জন্য বহিষ্কার করেন। তিনি জানিয়েছিলেন, জয়দেব বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ছয়জন দলের শৃঙ্খলা ভেঙেছেন। দলের কাজ করছেন না। উপরন্তু দল এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে লাগাতার সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে চলেছেন। তাই ব্লক কমিটির সিদ্ধান্তে তাঁদের তিন বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
জয়দেব বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও তৃণমূল কর্মী লবকুমার দাস, সব্যসাচী চৌধুরী, তুষার সামন্ত, অম্বিকা দাস ও জরু আলমকে বহিষ্কার করা হয়। এই ৬ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও তোলেন ব্লক সভাপতি। সেইসময় জয়দেব বলেছিলেন, তিনি জেলা কমিটির সদস্য। এক ব্লক সভাপতি তাঁকে কী করে বহিষ্কার করেন, তা নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন।
আর ২ দিন পর ব্লক সভাপতিকেই শোকজ করল তৃণমূল। রবিবার পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বর্ধমানের সংস্কৃতি লোকমঞ্চে বিজয়া সম্মিলনীর আয়োজন করা হয়। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “অনেক সময় কাজ করতে গিয়ে নিজেদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। কোথাও কোথাও কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়। বহিষ্কারও করতে হয়, সাসপেন্ড করতে হয়। কিন্তু সেটা করতে গেলে ব্লক জেলাকে জানাবে। জেলা রাজ্য কমিটিকে জানাবে। রাজ্য কমিটি অনুমতি দিলে সেটা কার্যকরী করা যায়। তাও জেলা কমিটি কার্যকর করে। কোনও একজন ব্লক সভাপতি নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ছয়জনকে বহিষ্কার করেছেন। আমরা দুঃখিত, রাজ্য কমিটি সেই ব্লক সভাপতিকে শোকজ করতে বলেছে। আমরা শোকজ করেছি। তাঁর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেটা তাঁর উত্তরের পর সিদ্ধান্ত হবে। আমরা বহিষ্কার করি রাজ্য নেতৃত্বের সিদ্ধান্তর পর। এই কাজগুলো আমাদের বুঝেশুনে করতে হবে।”
যদিও তাঁকে শোকজ নিয়ে বেশি কিছু বলতে নারাজ বর্ধমান ২ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি পরমেশ্বর কোনার। তিনি বলেন, “আমি শোকজের জবাব দলকে দিয়েছি। দল যা সিদ্ধান্ত নেবে, আমি মেনে নেব।”
