Purba Bardhaman: রাস্তার ধার থেকে ‘উধাও’ হয়ে যাচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকার গাছ? কোথায় যাচ্ছে?
Trees cut down: তৃণমূল পরিচালিত জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি। পাশাপাশি বন দফতরকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হবে।” এদিকে বিনা টেন্ডারে গাছ কাটার মতো গুরুতর অভিযোগে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

বর্ধমান: রাস্তার দু’ধারে ছিল গাছের সারি। কিন্তু, সেই গাছগুলিই হঠাৎ ‘উধাও’ হয়ে যেতে লাগল। লক্ষ লক্ষ টাকা মূল্যের গাছ কেটে পাচারের অভিযোগ উঠল। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে পূর্ব বর্ধমানের গলসি ১ নম্বর ব্লকের শিড়রাই গ্রাম পঞ্চায়েতে। আচমকা একাধিক পূর্ণবয়স্ক গাছ উধাও হয়ে যাওয়ায় রহস্য দানা বেঁধেছে এলাকায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পোতনা থেকে শিড়রাই গ্রামে ঢোকার মুখে রাস্তার ধারে থাকা বড় বড় গাছ গত কয়েকদিন ধরে রহস্যজনকভাবে কেটে পাচার করা হচ্ছে। অথচ এই গাছ কাটার ক্ষেত্রে কোনও রকম টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ। বিষয়টি সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তরজা।
কংগ্রেস নেতা শেখ নবিরুল অভিযোগ করে বলেন, “টেন্ডার ছাড়াই রাজনৈতিক দলের মদতে এইভাবে লক্ষ লক্ষ টাকার গাছ কেটে পাচার করা হচ্ছে। আমরা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি। অবিলম্বে গাছ কাটা বন্ধ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানাচ্ছি।”
অন্যদিকে বিজেপি নেতা রাজু পাত্র সরাসরি আঙুল তুলেছেন শিড়রাই তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি আশিস রায়ের বিরুদ্ধে। তাঁর দাবি, “এই গাছ কাটার টাকা শাসকদলের নিচ থেকে উপর পর্যন্ত সবাই ভাগ পাবে। সেই কারণেই প্রশাসন উদাসীন।” স্থানীয় বাসিন্দা কার্তিক বাগের অভিযোগ আরও গুরুতর। তিনি বলেন, “এই ঘটনায় গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান থেকে শুরু করে প্রশাসনের কমবেশি সবাই জড়িত।”
এ বিষয়ে তৃণমূল পরিচালিত জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি। পাশাপাশি বন দফতরকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হবে।” এদিকে বিনা টেন্ডারে গাছ কাটার মতো গুরুতর অভিযোগে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তদন্তে আদৌ সত্য সামনে আসে কি না, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে এলাকায়।
