Purba Medinipur: ‘গালে চুমু খেতে শুরু করে’, তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দলীয় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান

Allegation against TMC leader: সেই অডিয়োতে মহিলাকে বলতে শোনা যায়, পঞ্চায়েত সমিতির অফিসে একটি রুমে তাঁকে ডাকেন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা। ভাইরাল অডিয়োতে মহিলাকে বলতে শোনা যায়, "উনি গাল ধরে বলেন, তুমি সব পারবে। এই বলে গালে চুমু খেতে শুরু করে। আমি বলি, বিকাশদা রুমে এসে এটা কী হচ্ছে? বলার পর কিছু বলেনি। বলেন, তুমি যাও। আমি তোমাকে ফোন করব।

Purba Medinipur: গালে চুমু খেতে শুরু করে, তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দলীয় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান
ভাইরাল অডিয়ো ঘিরে সরব বিজেপিImage Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: সঞ্জয় পাইকার

Feb 14, 2026 | 3:51 PM

কাঁথি: নারী সুরক্ষা ও ‘অপরাজিতা বিল’ নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতি সরগরম, ঠিক তখনই বিড়ম্বনার মুখে শাসকদল তৃণমূল। পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথিতে দলীয় মহিলা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানকে শারীরিকভাবে হেনস্থার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে। মহিলা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের ভাইরাল অডিয়ো ঘিরে জোর বিতর্ক কাঁথিতে। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে পোস্ট করে সরব হয়েছেন। রাজনৈতিক চাপানউতোর বাড়ার পরই পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন অভিযুক্ত নেতা। 

পঞ্চায়েত সমিতির অফিসে ওই মহিলা গ্রাম প্রধানকে শারীরিকভাবে হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে কাঁথি ৩ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিকাশচন্দ্র বেজের বিরুদ্ধে। শনিবার সকালে এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন শুভেন্দু। সেখানে তিনি লেখেন, “তৃণমূল নেতাদের হাতে দলের মহিলা নেত্রীরাই সুরক্ষিত নন।” তিনি অবিলম্বে পুলিশের নিরপেক্ষ তদন্ত ও কড়া আইনি পদক্ষেপের দাবি জানান। সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই মহিলা গ্রাম প্রধানের ভাইরাল অডিয়োও দেন।

সেই অডিয়োতে মহিলাকে বলতে শোনা যায়, পঞ্চায়েত সমিতির অফিসে একটি রুমে তাঁকে ডাকেন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা। ভাইরাল অডিয়োতে মহিলাকে বলতে শোনা যায়, “উনি গাল ধরে বলেন, তুমি সব পারবে। এই বলে গালে চুমু খেতে শুরু করে। আমি বলি, বিকাশদা রুমে এসে এটা কী হচ্ছে? বলার পর কিছু বলেনি। বলেন, তুমি যাও। আমি তোমাকে ফোন করব। একজন প্রধানের সঙ্গে যদি উনি এমন ব্যবহার করেন, তাহলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কীরকম ব্যবহার করেন?” ভাইরাল অডিয়োতে মহিলাকে বলতে শোনা যায়, তিনি এর শেষ দেখে ছাড়বেন। প্রয়োজনে নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করবেন।

ভাইরাল অডিয়ো ঘিরে শোরগোল পড়তেই অভিযুক্ত নেতা বিকাশচন্দ্র বেজ তড়িঘড়ি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির পদ ও দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দেন। তবে এই ভাইরাল অডিয়োকে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, “আমি বিকাশচন্দ্র বেজ, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের একজন একনিষ্ঠ কর্মী। আমার বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র বা চক্রান্ত হয়েছে, তাতে নির্দোষ না প্রমাণিত হওয়া পর্যন্ত আমি আমার প্রশাসনিক পদ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি থেকে এবং আমাদের দলীয় পদ থেকে আমি ইস্তফা দিলাম।” অন্যদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিক জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ জমা পড়লে দল ও প্রশাসন নিজ নিজ স্তরে তদন্ত করবে।

অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা পদত্যাগ করলেও তোপ দাগতে ছাড়ছে না গেরুয়া শিবির। বিজেপির কাঁথি সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি অসীম মিশ্র বলেন, “এই না হলে তৃণমূলের নেতা। টাকা তুলবেন, পকেট ভরাবেন, নারীর সম্মান-সম্ভ্রম নষ্ট করবেন, মহিলাদের অসম্মান করবেন। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, তিনি প্রধানকে ডেকেছেন উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করতে। আর তাঁকে আলাদা কক্ষে ডেকে নিয়ে তাঁর সঙ্গে অসভ্য আচরণ করছেন। এই হচ্ছে তৃণমূলের নেতাদের আসল গুণ আর আসল চরিত্র। এই হচ্ছে তৃণমূল নেতাদের আসল প্রকাশ। এভাবেই বাংলাজুড়ে এরা মহিলাদের সম্ভ্রম মান-সম্মান নষ্ট করছে। দলের নেত্রীরা নিরাপদ নন। যেখানে মহিলারা আপনার কাছে নিরাপদ নন, সেখানে ওই পঞ্চায়েত সমিতিতে তো মহিলারা ঢুকতেই ভয় পাবেন।”

 

Follow Us