
ময়না: কয়েকদিন আগেই পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নার বিজেপি এক নেতাকে দলে টেনে চমক দিয়েছিল তৃণমূল। এবার পাল্টা চাল বিজেপির। ময়নার প্রাক্তন বিধায়ক সংগ্রাম দলুই যোগ দিলেন পদ্ম শিবিরে। একুশের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীর হাতে গেরুয়া পতাকা তুলে দিলেন ময়নার বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দা। আর এই যোগদান অনুষ্ঠান থেকে তৃণমূলকে হুঁশিয়ারি দিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বলে দিলেন, তাঁর কাছে লম্বা তালিকা রয়েছে। ছাব্বিশের নির্বাচনে পূর্ব মেদিনীপুরের ১৬টি আসনেই বিজেপি জিতবে বলে ফের দাবি করেন তিনি।
কয়েকদিন আগে ময়নার দাপুটে বিজেপি নেতা চন্দন মণ্ডল তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ ছিল মূলত বিধায়ক অশোক দিন্দার বিরুদ্ধে। আর সেই ময়নার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সংগ্রাম এবার ফুল বদল করলেন। ২০১৬ সালে ময়না থেকে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। তবে একুশের নির্বাচনে দিন্দার কাছে হেরে যান। একুশের নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর রাজনীতি থেকে কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিলেন সংগ্রাম। এদিন বিজেপিতে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, “বিগত দু’বছরের রাজনৈতিক অবসরেও ময়নার মানুষের সঙ্গে আমার আত্মিক সম্পর্ক অটুট ছিল। মোদীজির আদর্শে ও আহ্বানেই সাড়া দিয়ে ‘নতুন বাংলা’ গড়ার আন্দোলনে শামিল হলাম।”
তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ককে দলে টেনে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এই যোগদান শুধু শুরু। আগামিদিনে আরও চমক থাকবে। পঞ্চায়েত সমিতি যে কোনও সময় চাইলেই পরিবর্তন করতে পারি। লাইনে অনেকে আছে। পুলিশের ঝামেলার জন্যই আটকে আছেন। ভোট ঘোষণা হলেই তার পর দেখবেন।” একুশের বিধানসভা নির্বাচনে পূর্ব মেদিনীপুরের ১৬টি আসনের মধ্যে ৯টি পেয়েছিল তৃণমূল। সাতটি পায় বিজেপি। এবারে ফল নিয়ে শুভেন্দু বলেন, “পূর্ব মেদিনীপুরে কোনও আসন পাবে না তৃণমূল। ১৬টি আসনই আমাদের হবে।”
সংগ্রাম দলুইয়ের বিজেপিতে যোগদান নিয়ে তৃণমূলের তমলুক সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুজিত রায় বলেন, “সংগ্রামবাবুর বাবা ২০১১ সালে ময়নার বিধায়ক হন। আর সংগ্রামবাবু ২০১৬ সালে জেতেন। একুশের নির্বাচনে বিজেপির অশোক দিন্দার কাছে ১২০০ ভোটে হারেন তিনি। খুব দুঃখের কথা, সেই অশোক দিন্দার হাত ধরে তাঁকে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যেতে হল। তাঁর কারণ, তাঁকে NIA-র কাছ থেকে বাঁচতে হবে। বাকচার ঘটনায় শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বিরুদ্ধে এনআইএ মামলা করে রেখেছেন। বিজেপি ও শুভেন্দুর সঙ্গে অনেকদিন ধরেই তিনি যোগাযোগ রেখেছিলেন। তাঁর যোগদানে তৃণমূলের কোনও ক্ষতি হবে না।”