AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Sisir Adhikari: ভূমি আন্দোলনে ২ বাম নেতাকে এগিয়ে রাখলেন শিশির, বলে দিলেন শুভেন্দুর স্থানও

Sisir Adhikari on Land Movement: নন্দীগ্রামে কী ফল হতে পারে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে প্রাক্তন সাংসদ শিশির অধিকারী বলেন, "ফুটবল প্রতীক দিয়েছেন। কিন্তু, প্রথমেই ফাউল করেছেন। অলরেডি লাল কার্ডের কাছে পৌঁছে গিয়েছে। লাল কার্ড দেখে বাইরে চলে যেতে হবে।" বিজেপি প্রার্থীর বিশাল জয় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। রাজনীতির ময়দানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে শিশিরবাবু বলেন, "না, না। এসব ধারণা অবাস্তব, কল্পনাতীত।"

Sisir Adhikari: ভূমি আন্দোলনে ২ বাম নেতাকে এগিয়ে রাখলেন শিশির, বলে দিলেন শুভেন্দুর স্থানও
কী বললেন শিশির অধিকারী?Image Credit: TV9 Bangla
| Edited By: | Updated on: Sep 19, 2026 | 4:31 PM
Share

কাঁথি: নন্দীগ্রাম ও সিঙ্গুরে জমি আন্দোলন বাংলার রাজনীতিতে তৃণমূলের ভিত শক্ত করেছিল। এই জমি আন্দোলনকে হাতিয়ার করে ৩৪ বছরের বাম শাসককে মসনদচ্যুত করেছিল তৃণমূল। আর সেই জমি আন্দোলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী ও শিশির অধিকারী। নন্দীগ্রামে জমি আন্দোলনের প্রায় ২ দশক পর ভূমি আন্দোলনে দেশের ৩ নেতার নাম উল্লেখ করলেন কাঁথির প্রাক্তন সাংসদ শিশির অধিকারী। সেখানে ২ বাম নেতার নাম নিলেন। পুত্র শুভেন্দুর কথাও উল্লেখ করলেন শিশিরবাবু। কিন্তু, ভূমি আন্দোলনে মমতার নাম নিলেন না।

কী বললেন শিশির অধিকারী?

টিভি৯ বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শিশিরবাবু বলেন, “ভারতবর্ষের ভূমি আন্দোলনে প্রথম ব্যক্তি হলেন নাম্বুদিরিপাদ (সিপিএম নেতা ইএমএস নাম্বুদিরিপাদ)। আমি সবমসয় বলি। দ্বিতীয় ব্যক্তি হলেন হরেকৃষ্ণ কোঙার (সিপিএম নেতা)। আর জমি আন্দোলনে তৃতীয় ব্যক্তি শুভেন্দু অধিকারী। ইতিহাসে পরপর লেখা থাকবে এক, দুই, তিন করে। সেখানে অন্য কোনও চতুর্থ নামের প্রশ্ন নেই।”

জমি আন্দোলন ছাড়াও একাধিক প্রশ্নের উত্তর দিলেন শিশির অধিকারী। নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনে কংগ্রেসকে সমর্থন করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই নিয়ে কাঁথির প্রাক্তন সাংসদ বলেন, “ওটাকে (কংগ্রেস) সমর্থন করে কোনও লাভ নেই। ওটা তো অনেক আগে শেষ হয়ে গিয়েছে। যেটুকু রয়েছে, সেটুকু ধূলিকণাও শেষ হবে এখানে।” নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীর গ্রেফতারির সমালোচনা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন রাহুল গান্ধী। কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে শিশিরবাবু বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের শেষ দৃশ্যের শেষ অভিনয় চলছে। সেই শেষ অভিনয়কে খানিকটা হাত-টাত বাড়িয়ে খড়কুটোর মতো ধরা যায়, সেই চেষ্টা করছেন। কিন্তু, এটা অসম্ভব।”

নন্দীগ্রামে কী ফল হতে পারে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে প্রাক্তন সাংসদ বলেন, “ফুটবল প্রতীক দিয়েছেন। কিন্তু, প্রথমেই ফাউল করেছেন। অলরেডি লাল কার্ডের কাছে পৌঁছে গিয়েছে। লাল কার্ড দেখে বাইরে চলে যেতে হবে।” বিজেপি প্রার্থীর বিশাল জয় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। রাজনীতির ময়দানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে শিশিরবাবু বলেন, “না, না। এসব ধারণা অবাস্তব, কল্পনাতীত।”

শিশিরবাবুর মন্তব্য নিয়ে কী বলছে বিরোধীরা?

শিশিরবাবুর জমি আন্দোলনে মমতার নাম না নেওয়া নিয়ে দমদমের সাংসদ সৌগত রায় বলেন, “শিশিরবাবুর বয়স হয়েছে। বয়স হওয়ায় স্মৃতিও কাজ করছে না। এবং উনি পুত্র স্নেহে অন্ধ। নন্দীগ্রামে আন্দোলনটা যে উচ্চতায় উঠেছিল, তা পুরোপুরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য। নিশ্চয়ই শিশিরবাবুও ছিলেন। শুভেন্দু ছিলেন। কিন্তু, যেদিন নন্দীগ্রামে গুলি খেলেন ১৪ জন, পরের দিন সকালে মমতাই সিপিএমের বাধা অতিক্রম করে নন্দীগ্রাম পৌঁছেছিলেন। মমতা গিয়েছিলেন বলেই আন্দোলনটা এই উচ্চতায় ছিল। প্রথমদিন কিন্তু শিশিরবাবু, শুভেন্দু কেউ ওখানে ছিলেন না। তাঁরা পরে নিশ্চয়ই একটা ভূমিকা পালন করেছেন। নাম্বুদিরিপাদকে নিয়ে এলেন কেন? নাম্বুদিরিপাদ তো পশ্চিমবঙ্গে কোনও আন্দোলন করেননি।”

শিশিরবাবুর মন্তব্য নিয়ে সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ বলেন, “এগুলোকে বলে সন্তানস্নেহ। এগুলোর মধ্যে তো কোনও লজিক থাকে না। আবেগ থাকে। শিশিরবাবুর সেই আবেগকে আমরা সম্মান করি। তিনি তাঁর সন্তানকে নিয়ে বলতেই পারেন। এটা কোনও মুখ্যমন্ত্রী কিংবা রাজনৈতিক নেতাকে নিয়ে অন্য কোনও রাজনৈতিক নেতার মন্তব্য নয়। এটা সন্তান সম্পর্কে বাবার বক্তব্য। এখান পর্যন্ত ঠিকই আছে। মুশকিল হচ্ছে, হরেকৃষ্ণ কোঙার যে জমি আন্দোলন করেছিলেন, সেই জমি আন্দোলনের ফলে মানুষের জীবনে পরিবর্তন এসেছিল। যিনি কোনওদিন স্কুলের মুখ দেখেননি, তাঁর সন্তান স্কুলে গিয়েছিল। সেই জমি আন্দোলন মানুষের জীবনের মানের উন্নয়ন ঘটিয়েছিল। আর, শিশির অধিকারী, শুভেন্দু অধিকারী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়দের হাতে যে তথাকথিত জমি আন্দোলন হয়েছে, তাতে গোটা বাংলা শ্মশানে পরিণত হয়েছে।”

Follow Us