Haldia: যুদ্ধের জেরে বন্ধ হরমুজ প্রণালী, উদ্বেগ বাড়ছে হলদিয়ায়
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য শিল্পমহলে কিছুটা হলেও উদ্বেগ বেড়েছে। চিন্তা বাড়ছে স্টেক হোল্ডারদের। পুরো বিষয়ের উপর নজর বন্দর কর্তৃপক্ষ। যদিও এই নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে নারাজ কর্তারা। ইরান সহ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ঘটনায় শিল্প সংস্থাগুলির কাঁচামাল আমদানি কীভাবে করবে তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে ইতিমধ্যে।

হলদিয়া: ইরানের সঙ্গে ইজরায়েলের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানের তরফে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে হরমুজ প্রণালী। আর তার জেরেই বিপাকে পড়েছে ভারত সহ একাধিক দেশ। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজের মাধ্যমে পেট্রোপণ্য যায় হলদিয়া বন্দরে। একাধিক জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে আটকে রয়েছে। যদিও তার প্রভাব এখনও পড়েনি হলদিয়া বন্দরে।
হলদিয়া বন্দরের তরফে দাবি করা হচ্ছে যে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার জন্য বন্দরের পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে কোনও প্রভাব পড়েনি। এই বন্দর সরাসরি কোনও পেট্রোপণ্য আমদানি করে না। যে সমস্ত সংস্থা পেট্রোপণ্য আমদানি করে, সেই সব সংস্থার সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ রেখে চলেছে। সমগ্র পরিস্থিতির ওপর নজর রেখেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। জাহাজ মন্ত্রককে এই বিষয়ে রিপোর্টও পাঠানো হচ্ছে।
পাশাপাশি হলদিয়া পরিশোধনাগার সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত এই যুদ্ধের ফলে তাদের উপর কোনও প্রভাব পড়েনি। কিন্তু যুদ্ধ যদি দীর্ঘমেয়াদী যদি হয়, সে ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ করা হবে, তা এখনই ঠিক করা হয়নি।
জানা গিয়েছে, হলদিয়ার আইওসি রিফাইনারি, হলদিয়া পেট্রকেম, ভারত পেট্রলিয়ামের মতো বড়ো শিল্পসংস্থাগুলি হলদিয়া বন্দরের মাধ্যমে ইরান সহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি থেকে ক্রুড অয়েল, এলপিজি, ন্যাপথার মতো পেট্রোরাসায়নিক আমদানি করে।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে বন্দরের মাধ্যমে বছরে প্রায় ৯ মিলিয়ন মেট্রিক টন বা ৯০ লক্ষ টন লিকুইড কার্গো আমদানি করে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ও বেসরকারি শিল্প সংস্থা। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, উত্তর-পূর্ব ভারতের পেট্রোরাসায়নিক শিল্প সংস্থার পণ্য হলদিয়া বন্দরের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। হলদিয়া বন্দরের মাধ্যমে প্রায় পাঁচ মিলিয়ন মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি করে ভারত পেট্রলিয়াম।
পেট্রোকেমের মূল কাঁচামাল ন্যাপথা মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। আইওসি রিফাইনারির ক্রুড অয়েল মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রথমে আসে পারাদ্বীপ বন্দরে। সেখান থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে হলদিয়ায় আসে। এই অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য শিল্পমহলে কিছুটা হলেও উদ্বেগ বেড়েছে। চিন্তা বাড়ছে স্টেক হোল্ডারদের। পুরো বিষয়ের উপর নজর বন্দর কর্তৃপক্ষ। যদিও এই নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে নারাজ কর্তারা। ইরান সহ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ঘটনায় শিল্প সংস্থাগুলির কাঁচামাল আমদানি কীভাবে করবে তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে ইতিমধ্যে।
