Abhishek in Medinipur: মেদিনীপুরে গিয়ে বাম-বিজেপিকে একযোগে আক্রমণ অভিষেকের

Abhishek Banerjee: থে কারা রাজনীতি করে হাত তোলো। বাঁকুড়ায় ফর্ম ৭ ভর্তি গাড়ি আটকেছি আমরা। কলকাতায় করতে এসেছিল আমরা রুখেছি। ১০টার বেশি বৈধভাবে ফর্ম জমা দেওয়া যায় না। ফর্ম জমা দেওয়ার তারিখ ছিল কাল। যেহেতু বিজেপি পারেনি, তাই তারিখ বাড়িয়েছে। বুথে রাজনীতি করো মন দিয়ে আমার কথা শোনো, ১৬-১৭-১৮-১৯ তারিখ ইআরও অফিসে ফর্ম জমা দিতে আছে দশটার বেশি, তাহলে রবীন্দ্র সংগীতের সাথে ডিজে বাজিয়ে ডিজেও শোনাবে। ভদ্রভাবে। ভাবছে শেষ মুহূর্তে মানুষের নাম বাদ দেব?

Abhishek in Medinipur: মেদিনীপুরে গিয়ে বাম-বিজেপিকে একযোগে আক্রমণ অভিষেকের
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়Image Credit source: Facebook

Jan 16, 2026 | 5:02 PM

পূর্ব মেদিনীপুরে সভা করছেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। গতকাল অর্থাৎ বুধবার নন্দীগ্রামে সেবাশ্রয় প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন তিনি। এবার পশ্চিম  মেদিনীপুরেই সভা অভিষেকের। তিনি এ দিন, বিজেপির পাশাপাশি সিপিএম-কেও একযোগে আক্রমণ করেছেন।

আজ মেদিনীপুরের সভা থেকে কী কী বললেন অভিষেক? (একনজরে সবটা)

  1. অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়: সব পাপের হিসাব হবে। তালিকা নিয়ে এক এক করে নাম পড়েছি। ভেবেছে বিজেপির দাদারা বাঁচাবে।
  2. অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়: বিজেপির এখানে কটা বিধায়ক রয়েছে? দুটো। দুজনই তৃণমূলে আসতে চেয়েছেন। আপনাদের দাবিকে মান্যতা দিয়ে দরজা বন্ধ করে রেখেছি। শীতল কপাট সন্ত্রাস করেছে। তৃণমূলের সম্পদ হবে না। এই অজিত মাইতির সঙ্গে হিরণ এসেছিল। নিইনি। খড়গপুর তৃণমূলকে জেতাতে হবে। এর দায়দায়িত্ব আমার। বিজেপিকে সুযোগ তো দিলেন। কিছু তো পাননি। উল্টে আমাদের অধিকার বন্ধ করে রেখেছে।
  3. অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়: যাঁরা বুথে লড়াই করেন, মানুষকে বোঝানোর দায়িত্ব তৃণমূলের কর্মীদের। মমতা থাকতে এনআরসি করতে পেরেছেন? পারেননি। একটা লোকের নাম বাদ যাবে না।
  4. অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়: আজও জেনেছি কাঁথি ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার পরিবারকে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। ৭০ ৮০ বছর পর বাঙালিকে লাইনে দাঁড়িয়ে ভারতীয় প্রমাণ দিতে হবে? লর্ড কার্জন লেজ তুলে পালিয়েছিল অমিত শাহ কোন ছাড়।
  5. অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়: বিজেপির কার্যকর্তাদের শুনিয়ে দেবেন। একটু রবীন্দ্রসংগীত চালাবেন। যদি দেখেন কেউ আইন বহির্ভূত কাজ করছেন, ছোট-বড় বিজেপি নেতার বাড়ি ঘেরাও করবেন। আমায় ডাকবেন আমি যাব। আমি আসব আপনার পাশে দাঁড়াব
  6. অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়: এই মেদিনীপুরের ১ নম্বর ওয়ার্ডে ২০০ পরিবার রয়েছে। ওপাড় বাংলা থেকে এসেছে। এসআইআর-এর সময় বিজেপির কতজন এসেছেন?  তিনজনেক মঞ্চে আনলেন। বিজয় মালী, মঙ্গলী মান্ডি এদের জ্ঞানেশ কুমার দেখতে পায়নি। জ্ঞানেশ কুমার ভ্যানিস করে দিয়েছে। ওর জন্য প্রকল্প আনতে হবে ছানি অপারেশন ছানিশ্রী। বিজেপি নেতাদের ছানি কাটানোর জন্য।
  7. অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়: ঘাটাল-খড়গপুরের জন্য কটা টাকা দিয়েছে? দেব ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের জন্য সংসদে বহুবার বলেছে। শেষে আমরাই টাকা দিচ্ছি এই প্রকল্পের জন্য। এই নিয়ে বিজেপি নেতা ভুল বোঝাচ্ছে। চাষের জমি ন্ষ্ট হয়ে যাবে।
  8. অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়: বুথে কারা রাজনীতি করে হাত তোলো। বাঁকুড়ায় ফর্ম ৭ ভর্তি গাড়ি আটকেছি আমরা। কলকাতায় করতে এসেছিল আমরা রুখেছি। ১০টার বেশি বৈধভাবে ফর্ম জমা দেওয়া যায় না। ফর্ম জমা দেওয়ার তারিখ ছিল কাল। যেহেতু বিজেপি পারেনি, তাই তারিখ বাড়িয়েছে। বুথে রাজনীতি করো মন দিয়ে আমার কথা শোনো, ১৬-১৭-১৮-১৯ তারিখ ইআরও অফিসে ফর্ম জমা দিতে আছে দশটার বেশি, তাহলে রবীন্দ্র সংগীতের সাথে ডিজে বাজিয়ে ডিজেও শোনাবে। ভদ্রভাবে। ভাবছে শেষ মুহূর্তে মানুষের নাম বাদ দেব?
  9. অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়: এই মেদিনীপুরে জন্ম ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তাঁর মূর্তি ভেঙেছে অমিত শাহের বাহিনী। ঈশ্বরচন্দ্র না থাকলে মোদী-শাহ নিজের নাম লিখতে পারতেন না।
  10. অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়: তৃণমূলের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার আটকাতে চেয়েছে। বিজেপি বলছে খাঁচায় বন্দি করে রাখবে। মায়েরা শপথ নিন আগের দিন ভোটে যেন প্রতিপন্ন হয়। মোদীবাবুর দলকে আগামী দিন আপনারাই খাঁচাই বন্দি করবেন।
  11. অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়: সংবাদ মাধ্যমে বিজেপির কোনও নেতার ক্ষমতা থাকলে তথ্য পরিসংখ্যানকে সামনে রেখে লড়াই হবে। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদীর সরকার থাকবে। ভোকাট্টা করে মানুষকে মাঠের বাইরে বের করব নয়ত মুখ দেখাব না। এত বড় কথা বললাম।
  12. অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়: যাঁরা পরিবর্তন চাই বলে আমাদের সরকারকে ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপ করেছে। ৩৪ বছর সিপিএম-এর হয়ে মানুষকে বোম-বন্দুক-নলের নিচে বাঁচতে বাধ্য করেছে আজ তাঁরা পরিবর্তন আনবে? বোতল নতুন, মদ পুরনো। জার্সি বদলেছে। আগে সিপিএম-এর হার্মাদ ছিল এখন বিজেপির জল্লাদ হয়েছে।
  13. অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়: বিজেপির মডেল পশ্চিম মেদিনীপুরে কী? নিচে সিপিএম-এর হার্মাদ আর উপরে বিজেপির গদ্দার। যাঁরা একসময় সিপিএম করে মানুষকে ভীত সন্ত্রস্ত করত। এখানে তৃণমূব কর্মীদের উপর হার্মাদরা অত্যাচার করেছে। পুকুরে বিষ, ঘরে আগুন লাগিয়ে দিত। আমরা দেখেছি। শালবিতে দেবাশীস রায়। সুশান্ত ঘোষের অফিস দেখাশোনা করত। সে এখন শঙ্করকাটা, বিজেপি বুথের সভাপতি। কেশপুরে তন্ময় ঘোষ প্রাক্তন সিপিএম ব্লক সভাপতি বর্তমান বিজেপির জেলা কমিটির মেম্বার। তড়িৎ খাটুয়া কলাগ্রাম জিপিতে বেনাতচাপড়া হত্যাকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত তিনি বিজেপির নেতা। মহাদেব প্রমাণিক, সিপিএম-এর প্রাক্তন যুব নেতা। বেনাচাপড়া খুনের অন্য়তম অভিযুক্ত। এখন বিজেপির কার্যকর্তা। চন্দ্রকোনায়তে সুকান্ত দলুই। ঘাটালের এমএলএ নিজেই শীতল কপাট। তাঁর বিরুদ্ধে ঘাটাল-দাসপুরে সন্ত্রাস এফআইআর হয়েছে। মেদিনীপুর শহরে শুকুর আলীর ছেলে হাসরফ আলী বিজেপির নেতা। এই হল বিজেপির আসল চেহারা। মেদিনীপুরে যদি বিজেপির কোনও নেতা লিড পায় তাহলে সিপিএম-এর হার্মাদের অক্সিজেন দেওয়া হবে। এটা সবাইকে মাথায় রাখতে হবে।
  14. অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়: এই মেদিনীপুরের মাটি বিপ্লবীদের মাটি। এর অবদান স্বাধীনতা আন্দোলনে রয়েছে। এই মাটিতে ২০২০ সালে একই মাঠে একজন গদ্দার অমিত শাহের পদলেহন করে সিবিআইআর জেলযাত্রা থেকে বাঁচতে বিজেপিতে গিয়েছিল।
  15. অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়: এগারো সালের আগে এই মেদিনীপুরে সিপিএম-এর হার্মাদরা অত্যাচার চালিয়েছে। গড়বেতা, কেশপুর, চন্দ্রকোনা, দাসপুরে সুশান্ত ঘোষেদের হার্মাদ বাহিনীদের বিরুদ্ধে প্রথম মেদিনীপুরের মানুষ রুখে দাঁড়িয়েছে। গত বিধানসভায় পনেরোর মধ্যে তেরোটায় জিতিয়েছিলেন। খড়গপুর সদর আর ঘাটালে অল্প ব্যবধানে তৃণমূল পরাজিত হয়। এবার ১৫ শূন্য করতে হবে। যে কটা হার্মাদ বেঁচে আছে, তাঁদের ঝেটিয়ে বিদায় দিতে হবে।