Nandigram: নন্দীগ্রামে কি কিং মেকার ISF? অঙ্ক কষছেন সবাই

West Bengal assembly election 2026: নন্দীগ্রাম বিধানসভায় দুটি ব্লক। নন্দীগ্রাম ১ ও নন্দীগ্রাম ২। নন্দীগ্রাম ১ ব্লক সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা। আর নন্দীগ্রাম দুই ব্লক হিন্দু প্রভাবিত এলাকা। রয়েছে ১৭টি গ্রাম পঞ্চায়েত। দুটি পঞ্চায়েত সমিতি ও পাঁচটি জেলা পরিষদ আসন।

Nandigram: নন্দীগ্রামে কি কিং মেকার ISF? অঙ্ক কষছেন সবাই
নন্দীগ্রামে পাল্লা ভারী কার?Image Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: সঞ্জয় পাইকার

Mar 29, 2026 | 6:36 PM

নন্দীগ্রাম: ৫ বছর আগে বিধানসভা নির্বাচনে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল নন্দীগ্রাম। এবারও পূর্ব মেদিনীপুরের এই আসন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী কি তাঁর গড় ধরে রাখতে পারবেন? নাকি বিজেপি থেকে তৃণমূলে ফেরা পবিত্র কর কামাল দেখাবেন? নন্দীগ্রামে কি কিং মেকার হয়ে উঠতে পারে আইএসএফ? এই সব প্রশ্ন নিয়েই চলছে কাটাছেঁড়া।

২০২১ সালে নন্দীগ্রামে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৯৫৬ ভোটে হারিয়েছিলেন শুভেন্দু। এবার তাঁর বিরোধী প্রার্থীদের বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ। আবার তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র কর হিসেব দিয়ে বোঝালেন, শুভেন্দুকে ৩০ হাজার ভোটে হারাবেন। দুই শিবিরের প্রতিনিয়ত রাজনৈতিক দল বদলের খেলা অব্যাহত। এর মাঝে আইএসএফ প্রার্থী মহম্মদ সবেমিরাজ আলি খান দুই দলকেই নিশানা করছেন। তৃণমূল-বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছেন।

এই তরজার মধ্যে নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক চিত্রটা একবার খতিয়ে দেখা যাক। নন্দীগ্রাম বিধানসভায় দুটি ব্লক। নন্দীগ্রাম ১ ও নন্দীগ্রাম ২। নন্দীগ্রাম ১ ব্লক সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা। আর নন্দীগ্রাম দুই ব্লক হিন্দু প্রভাবিত এলাকা। রয়েছে ১৭টি গ্রাম পঞ্চায়েত। দুটি পঞ্চায়েত সমিতি ও পাঁচটি জেলা পরিষদ আসন।

একুশের নির্বাচনের পর শুভেন্দু বলেছিলেন, হিন্দুরা তাঁকে জিতিয়েছেন। এবার রাষ্ট্রবাদী মুসলিমদের কাছেও তাঁকে ভোট দেওয়ার আবেদন জানাচ্ছেন। নিজের জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। নন্দীগ্রামের ফল নিয়ে শুভেন্দু বলছেন, এই আসনে তৃণমূল দ্বিতীয় কিংবা তৃণমূল হওয়ার জন্য লড়ছে। আইএসএফ একাধিক বুথে তৃণমূলের থেকে বেশি ভোট পাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র কর কিছুদিন আগেও বিজেপিতে ছিলেন। তৃণমূল প্রার্থী হয়েই অঙ্ক কষে তাঁর দাবি, এবার তৃণমূল নন্দীগ্রামে ৩০ হাজার ভোটে জিতবে। তৃণমূলের জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ শেখ সামসুল ইসলাম বলেন, “কিছুদিন আগেও তো তৃণমূল প্রার্থীকে গুরুত্ব দিচ্ছিলেন না বিজেপি প্রার্থী। এখন ভয় পেয়েছেন। তাই রাষ্ট্রবাদী মুসলিম বলছেন। ভোট চাইছেন। তবে এবার মানুষের মনে তৃণমূল রয়েছে।”

যুযুধান এই দুই রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি এখানে প্রার্থী দিয়েছে বাম ও আইএসএফ। সিপিআইয়ের টিকিটে লড়ছেন শান্তিরঞ্জন গিরি। আর আইএসএফের প্রার্থী মহম্মদ সবেমিরাজ আলি খান। বাম ও আইএসএফ আসন সমঝোতার কথা বললেও এই কেন্দ্রে দুই পক্ষই প্রার্থী দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ভোটে না জিতলেও আইএসএফ কিং মেকার হয়ে উঠতে পারে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। তবে আইএসএফ প্রার্থী নিজের জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। মহম্মদ সবেমিরাজ আলি খান বলেন, “বিজেপি ও তৃণমূলের দ্বিমুখী লড়াই দেখানো হচ্ছে। কিন্তু, সন্ত্রাস, অনুন্নয়নের বিরুদ্ধে মানুষ ভোট দেবে। তৃণমূল ও বিজেপিকে হঠাব।” 

Follow Us