AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

EXPLAINED: পুরুলিয়ায় বরফ পড়ল কীভাবে? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

মূলত ১ ডিগ্রি থেকে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে তাপমাত্রা থাকলে এই ফ্রস্ট দেখা দিতে পারে। তার থেকে নীচে তাপমাত্রা নামলে সত্যিই বরফের আস্তরণ তৈরি হয়, তখন তাকে আর গ্রাউন্ড ফ্রস্ট বলা যায় না। পুরুলিয়ার পাথরের ধরনের জন্য ওই জেলায় এই সম্ভাবনা বেশি থাকে বলে জানিয়েছেন পরিবেশবিদ। 

EXPLAINED: পুরুলিয়ায় বরফ পড়ল কীভাবে? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা
| Updated on: Jan 13, 2026 | 1:26 AM
Share

পুরুলিয়া: পুরুলিয়ায় তুষারপাত! এই শিরোনাম ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল আলোচনা, ভিডিয়ো ভাইরাল। দার্জিলিং বা সিকিমে গেলে বরফ দেখা কপাল জোটে ঠিকই, তাই বলে পশ্চিমের জেলা পুরুলিয়ায়! কয়েকদিন আগে কোল্ড ডে বা শীতল দিনের অ্যালার্ট জারি করা হয়েছিল এই জেলায়। তবে এত ঠান্ডা যে বরফ পড়বে! এটা বোধহয় আশা করেননি স্থানীয় বাসিন্দারা। সাত সকালে উঠে খড়ের গাদার দিকে তাকিয়ে চমকে যান এলাকাবাসী। প্রশ্ন হল, এগুলো আসলে কী? সত্যিই বরফ না অন্য কিছু?

খড়ের উপর সাদা আস্তরণ

গত বেশ কয়েকদিন ধরেই জাঁকিয়ে শীত পড়েছে পশ্চিমের জেলা পুরুলিয়ায়। সঙ্গে চলছে শৈত্য প্রবাহ। তাপমাত্রা ঘোরাফেরা করছিল ৫-৬ ডিগ্রিতে। আগুন জ্বালিয়ে হাত-পা গরম করতে হয়েছে মানুষজনকে। এরই মধ্যে চোখে পড়েছে ভূমি তুষার।

শনিবার বান্দোয়ানের পাহাড়-জঙ্গলঘেরা ডাঙ্গা এলাকায় দেখা যায় ভূমি তুষার। রবিবারও দেখা গেল একই ছবি। ঝালদা থেকে খামার যাওয়ার রাস্তার ধারের খড়ের গাদার উপরে জমে রয়েছে সাদা আস্তরণ। যা দেখে রীতিমত চমকে যাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ভোরে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে এই দৃশ্য নজরে আসে বলে জানান এলাকার বাসিন্দা বিমল কুইরি, ঠাকুরদাস মাহাত, সত্যনারায়ণ স্বর্ণকারেরা।

তাঁরা কাছে গিয়ে দেখেন, খড়ের উপর সাদা আস্তরণ আসলে ভূমি তুষার। অস্বাভাবিক এই দৃশ্য উপভোগ করতে ভিড় জমাতে দেখা যায় এলাকাবাসীকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, চলতি মরশুমে শীতের তীব্রতা রেকর্ড ছুঁয়েছে। তাঁদের কথায়, “কাশ্মীর বা দার্জিলিং নয়, ঝালদাতেই যেন বরফ উপভোগ করছি।” অন্যদিকে, প্রবল ঠান্ডায় দুর্ভোগে পড়ছেন বয়স্ক ও শিশুরা। সকালে বাড়ি থেকে বেরনো কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানান বাসিন্দারা।

পুরুলিয়ার যা তাপমাত্রা তাতে সাধারণত বরফ পড়ে না। এর আগে ২০১৯ সালেও একবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল বরফের আস্তরণের ছবি। সেবার বেগুনকোদরে বরফের ছবি দেখা গিয়েছিল। তবে বিশেষজ্ঞরা এই বরফকে বলে থাকেন ‘ফ্রস্ট’। সাধারণত তাপমাত্রা হঠাৎ নেমে গেলে এভাবে জলীয় বাষ্প সূক্ষ বরফের কণা হিসেবে জমে যায়।

কেন এমন বরফ পড়ল? কী বলছেন বিশেষজ্ঞ?

পরিবেশবিদ সুজিত কর ব্যাখ্যা করেছেন যে, ভূমির কাছে থাকা জিনিসের তাপমাত্রার বিকিরণের হার অনেক বেশি। ফলে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা যদি নেমে হিমাঙ্কের কাছাকাছি চলে যায়, তাহলে ভূমির সংস্পর্শে থাকা ওই সব জিনিসের তাপ বিকিরণের হার অনেকটাই বেড়ে যায়। খড়, ডালপালা বা পাতায় যখন কুয়াশা বা শিশির পড়ে, তখন তা তুহিনের মতো পদার্থ তৈরি করে, যাকে বলা হয় দ্রাউন্ড ফ্রস্চটয

গ্রামাঞ্চলে, বিশেষত পুরুলিয়ার মতো পাহাড়ি অঞ্চলে, পাথুরে মাটিতে এই ধরনের ভূমি তুষার দেখা যায়, সূর্যের আলো দেখা দিলে আবার সেটা গলে যায়। তবে শহুরে অঞ্চলে সেটা হয় না। শহরাঞ্চলে শহুরে তাপীয় দ্বীপ থাকে, তার জন্য এই রকম ফ্রস্ট কখনই দেখা যায় না।

মূলত ১ ডিগ্রি থেকে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে তাপমাত্রা থাকলে এই ফ্রস্ট দেখা দিতে পারে। তার থেকে নীচে তাপমাত্রা নামলে সত্যিই বরফের আস্তরণ তৈরি হয়, তখন তাকে আর গ্রাউন্ড ফ্রস্ট বলা যায় না। পুরুলিয়ার পাথরের ধরনের জন্য ওই জেলায় এই সম্ভাবনা বেশি থাকে বলে জানিয়েছেন পরিবেশবিদ। তবে পুরুলিয়া, বাঁকুড়ায় দেখা গেলেও কলকাতায় কখনই এটা দেখা যাবে না। কারণ শহুরে তাপীয় দ্বীপ থাকায় সেটা সম্ভব নয়।