Snake Recover: ১৩ ফুটের অজগরকে হিঁচড়ে নিয়ে গেল গ্রামবাসীরা, বেঁধে রাখা হল গাছে
West bengal: অভিযোগ, খবর দেওয়ার পরেও দীর্ঘক্ষণ বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে না আসায় পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয়। গ্রামবাসীদের একাংশ অজগরটিকে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলেন। এরপর সাপটিকে দড়ি দিয়ে টানাহিঁচড়া করা হয় বলেও অভিযোগ। পরে বাঁশবাগানে নিয়ে গিয়ে একটি বাঁশগাছের সঙ্গে দড়ি দিয়ে অজগরটিকে বেঁধে রাখা হয়। সেই ছবি সামনে আসতেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

জলপাইগুড়ি: গ্রামে ঢুকে পড়েছিল প্রায় ১৩ ফুট লম্বা বিশাল আকৃতির অজগর।বেরুবাক নদী সংলগ্ন এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে সাপটিকে দেখতে পান গ্রামবাসীরা। এরপর বনদফতরকে খবর দেওয়া হলেও অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণ পরেও ঘটনাস্থলে পৌঁছননি বনকর্মীরা। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে গ্রামবাসীরাই অজগরটিকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখেন বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, দড়ি দিয়ে সাপটিকে টানাহিঁচড়া করা এবং পরে বাঁশবাগানে বাঁশগাছের সঙ্গে বেঁধে রাখার ছবি প্রকাশ্যে আসতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ও বিতর্ক ছড়িয়েছে বানারহাট ব্লকের দুরামাড়ি এলাকার ছানাটিপা গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেরুবাক নদী সংলগ্ন এলাকায় মাছ ধরার সময় একটি বিশাল আকৃতির অজগর দেখতে পান কয়েকজন গ্রামবাসী। প্রায় ১৩ ফুট লম্বা সাপটিকে দেখে মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ভিড় জমে যায় ঘটনাস্থলে। এরপরই সাপটি উদ্ধারের জন্য বনদফতরের কর্মীদের খবর দেওয়া হয় বলে দাবি গ্রামবাসীদের।
অভিযোগ, খবর দেওয়ার পরেও দীর্ঘক্ষণ বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে না আসায় পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয়। গ্রামবাসীদের একাংশ অজগরটিকে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলেন। এরপর সাপটিকে দড়ি দিয়ে টানাহিঁচড়া করা হয় বলেও অভিযোগ। পরে বাঁশবাগানে নিয়ে গিয়ে একটি বাঁশগাছের সঙ্গে দড়ি দিয়ে অজগরটিকে বেঁধে রাখা হয়। সেই ছবি সামনে আসতেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
স্থানীয়দের দাবি, বনদফতর থেকে ছানাটিপা গ্রাম কার্যত ঢিল ছোড়া দূরত্বে। পাশেই রয়েছে খট্টিমারি জঙ্গল। সেই জঙ্গল থেকেই অজগরটি কোনওভাবে নদী সংলগ্ন এলাকায় চলে এসে থাকতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা। ফলে বনদফতরকে খবর দেওয়ার পরেও কেন দ্রুত কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছলেন না, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
উদ্ধার হওয়া অজগরটি ইন্ডিয়ান রক পাইথন প্রজাতির বলে জানা গিয়েছে। প্রায় ১৩ ফুট লম্বা এই অজগর বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের অধীনে গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষাপ্রাপ্ত বন্যপ্রাণী। ফলে তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা, টানাটানি করা কিংবা ছবি তোলার জন্য এভাবে আটকে রাখার ঘটনায় বন্যপ্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার অভিযোগ উঠেছে।
তবে এই ঘটনার জন্য শুধুমাত্র গ্রামবাসীদের দায়ী করা যায় কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কারণ গ্রামবাসীদের দাবি, তাঁরা সময়মতো বনদফতরকে খবর দিয়েছিলেন। কিন্তু বনকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছলে অজগরটিকে এভাবে নির্যাতন করা যেত না।
