Machh Chor Song Shaukat Molla: ‘সত্যি কথা তো হিট হবেই’, কেন ‘মাছ চোর’ শওকত? এই গানের নেপথ্যে লুকিয়ে কোন ‘সত্যি’? গানের ইতিহাস বলে দিলেন কাইজার
Shaukat Molla Controversy: ভাঙড়ের তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লাকে বিঁধে আইএসএফের এই গান এখন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের গণ্ডি পেরিয়ে আম বাঙালির রান্নাঘরে, চায়ের ঠেকেও পৌঁছে গিয়েছে। একেবারে অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মুখে মুখেও ঘুরে ফিরছে সেই গান! ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যেই এই গান নিয়ে নওশাদ সিদ্দিকিকে বিঁধেছেন শওকত।

কলকাতা: মাছ-চোর… শওকত তো মাছ চোর এখন সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল। ভাঙড়ের তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লাকে বিঁধে আইএসএফের এই গান এখন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের গণ্ডি পেরিয়ে আম বাঙালির রান্নাঘরে, চায়ের ঠেকেও পৌঁছে গিয়েছে। একেবারে অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মুখে মুখেও ঘুরে ফিরছে সেই গান! ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যেই এই গান নিয়ে নওশাদ সিদ্দিকিকে বিঁধেছেন শওকত। পাল্টা তাঁকে আরও দুটো শব্দবন্ধ ব্যবহার করে তোপও দেগেছেন। কিন্তু এই গানের উৎস কোথায়, বুৎপত্তিগত অর্থই বা কী!
আসলে এই ‘মাছ চোর’ শব্দবন্ধের উৎপত্তির নেপথ্যে কোথাওই আইএসএফ ছিল না। বলা ভালো সে সময়ে আইএসএফের জন্মই হয়নি। তাহলে? আসলে শওকতকে ‘মাছ চোর’ বলে তোপ দেগেছিলেন তাঁরই দলের সহযোদ্ধা কাইজার আহমেদ। TV9 বাংলাকে এক্সক্লুসিভলি জানালেন কাইজার আহমেদ।
তাঁর কথায়, “মাছ চুরি করতো, তাই মাছ চোর বলেছি।” তিনি জানান, শওকত যখন সংসার জীবনে পা দিয়েছিলেন, তখন ভীষণ আর্থিক সমস্যা ছিল। মাতলা নদীর চরে একবারই বছরে চাষ হত তাঁদের জমিতে, তারপর মাতলা নদীর নোনা জল ঢুকে ধান জমি নষ্ট করে দিত। ফের আবার পরের বছর ঋণ নিয়ে চাষ করতেন। কাইজার বলেন, “পর পর দুতিন বছরে যখন নদীর জল ঢুকে জমি নষ্ট করে দেয়, তখন ও খুব আর্থিক ভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। সংসার চালানোর জন্য বাধ্য হয়ে অন্যের ভেড়িতে মাছ চুরি করত, ক্যানিং বাজারে বিক্রি করত। সংসার চালাতো। ও একটা সময়ে ব্যক্তিগত অনেক কথা বলেছে আমায়, আমি জানি। কিন্তু বিষয়টা হচ্ছে আমি কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করার একেবারেই পক্ষে নই। এই রুচি আমার নেই।”
এই কথা বলতে গিয়েই কাইজার জানান, কীভাবে শওকতের তৃণমূলে প্রবেশ! কাইজার বলেন, “শওকত মোল্লা ২০১১ সালের নভেম্বরে যখন তৃণমূলে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করে, ওই সময়ে জীবনহানির আশঙ্কা করছিল। কারণ বাম আমলে ও প্রচুর মানুষের ক্ষতি করে রেখেছিল। সে সময়ে ক্যানিং, ভাঙড় ওই সমস্ত জায়গায় একটা রেভলিউশন তৈরি হচ্ছে। তখন তৃণমূলের বহু নেতার হাতেপায়ে ধরে। আমার কাছে আসে। আমি সে সময়ে শোভনদা, মুকুলদাকে বুঝিয়ে দলে ঢোকার রাস্তা তৈরি করে দিই।”
কিন্তু কীভাবে দলের মধ্যেই বদলাতে শুরু করে শওকতের অবস্থান, সেটাও তুলে ধরেন কাইজার। তিনি বলেন, “সেই শওকত মোল্লা যখন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে চলে যান, তখন ২০১৮ সাল থেকে আমাদের ওপর অত্যাচার শুরু করে। ও আবার পুরনো স্টাইলে ফিরে যায়, পুরনো তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের ওপর অত্যাচার শুরু করে। ২০২০ সালে আমাকে ভাঙড়ে মিথ্যা কেসে ফাঁসিয়ে ৯ মাস বাড়িছাড়া করে রাখে।” কাইজারের কথায়, ঠিক সে সময়েই আইএসএফের উত্থান।
ভাঙড়ে কাইজার বনাম শওকত মোল্লার একটা তত্ত্ব বরাবরই সক্রিয়। একটা সময়ে ভাঙড়ের মাটিতে কান পাতলে তা শোনা যেত ভীষণভাবে। সংবাদমাধ্যমের খবরেও দুপক্ষের অনুগামীদের মধ্যে দ্বন্দ্বের খবর সামনে এসেছে একাধিকবার। কাইজার বলেন, “২০২১ সালের পর থেকে আমাকে কোণঠাসা করতে থাকে। ২০২৩ সালে ভাঙড়ের পর্যবেক্ষক হিসাবে আসে, তখন আমাকে প্রথমেই সাইডলাইন করে। টিকিট দিয়ে উইড্রো করায়, আমি দু’বছর নিষ্ক্রিয় হয়ে যাই।”
কাইজারের অভিযোগ, ২০২৫ সালের পর থেকে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়, যখন তাঁর ওপর প্রাণহানিরও চেষ্টা চলে। আর সেক্ষেত্রে শওকত মোল্লার বিরুদ্ধেই তাঁর অভিযোগ। কিন্তু এসবের সঙ্গে গানের যোগ কোথায়?
কাইজার বলেন, “আমি একটা সময়ে শপথ করে নিই, ওকে রাজনৈতিকভাবে শেষ করব। না পর্যন্ত ঘুমাবো না। ওর পার্সোনাল কথা আমি একদিন এক প্রেসকে বলি। নির্বাচনের দিন ঘোষণার বেশ কিছু আগে।” ব্যস থেকেই শওকতের সহযোদ্ধার বলা এই শব্দ-বন্ধ নিয়ে গালের কলি তৈরি আইএসএফের।
আজকের দিনে দাঁড়িয়েও কাইজার বললেন, “ওর তো পরাজয় নিশ্চিত। ভাঙড়ে ওই পর্যদস্তু হবে।” কাইজার সাফ জানালেন, “সত্যি কথা তো হিট করবেই। মাছ চোরকে মাছ চোর বলেছি, সেটা লুকানোর কী আছি! আইএসএফ অনুমতি নেয়নি। ভীষণ ভালো লেগেছে গানটা।”
